ক্ষেতের মাঠে নদীর ঘাটে লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ক্ষেতের মাঠে নদীর ঘাটে লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৮

আজ ছুটেছি বাইরে


ঘরের কোণে একলা বসে থাকি
খাতার পাতায় হরেক ছবি আঁকি
এলোমেলো স্বপ্ন চোখে ভাসে
যায় ছড়িয়ে সবুজ শ্যামল ঘাসে
ভাল্লাগে না বন্দিদশা
কোথায় এখন যাই রে;
আজ ছুটেছি বাইরে আমি
আজ ছুটেছি বাইরে

প্রকৃতি খুব আমায় কাছে ডাকে
খুশি জাগায় মনের বাঁকে বাঁকে
বনবনানী হাতছানি দেয় খালি
সামনে ধরে লতা পাতার ডালি
ওদের জন্যে ঘরে তো আর
থাকার উপায় নাই রে;
আজ ছুটেছি বাইরে আমি
আজ ছুটেছি বাইরে

পাখপাখালি বাগান মাতায় গানে
ক্ষেতের ফসল দোলে হাওয়ার তানে
গঙ্গা ফড়িং হারায় যখন দিশে
বসে ঘুমায় আমন ধানের শীষে
নদ নদী খাল হাওড় বাঁওড়
ডাকে কাছে আয় রে;
আজ ছুটেছি বাইরে আমি
আজ ছুটেছি বাইরে

প্রজাপতির পাখায় রঙের কাড়ি
উড়ে উড়ে দেয় কত বন পাড়ি
দুবলো ঘাসের অন্তরে অন্তরে
চুপি চুপি একলা শিশির ঝরে
পরিপাটি দেশের মাটি
উতল করে তাই রে;
আজ ছুটেছি বাইরে আমি
আজ ছুটেছি বাইরে
০৬.০৭.২০১৪
মুক্তিপাড়া, চুয়াডাঙ্গা
 

রবিবার, ৬ নভেম্বর, ২০১৬

মাথাভাঙ্গা আমার অহঙ্কার

মাথভাঙ্গা নদীর পাড়ে আমার ছোট বাড়ি
সারা বেলা নৌকা ডিঙি এপার ওপার যায়
গাঁয়ের মানুষ কূলে কূলে ঘুনশি খাদুন পাতে
জাল ঠেলা জাল ফেলে জেলে কত না মাছ পায়।

হাত নাড়িয়ে পা নাড়িয়ে আমরা সাঁতার কাটি
মনের সুখে ডুব দিয়ে নিই মাঝ নদীতে থই
আম্মু রেগে চড় শাসিয়ে খালি আমায় ডাকে
জ্বর হবে তোর দুষ্টু ওরে উঠলি ডাঙায় কই।

মাছরাঙা বক পানকৌড়ি বসে নদীর ধারে
পাখনা মেলে রোদে শুকোয় ভেজা ডানার জল
পল্লী বধূ জলকে চলে কলসি কাঁখে নিয়ে
খেয়ার ঘাটে মাতোয়ারা পাটনি মাঝির দল।

রাখাল গরুর পাল এনে রোজ নামায় নদীর বুকে
এই মায়াময় দৃশ্যে বলো জুড়ায় না মন কার
মাথাভাঙ্গা তাই চিরকাল স্বপ্ন বোনায় মনে
এই নদীটা আমার খুশি আমার অহঙ্কার।
২৪ আগস্ট ২০১৪
হাজিবাড়ি, মুক্তিপাড়া, চুয়াডাঙ্গা।
# # # # # #

সোমবার, ৩১ অক্টোবর, ২০১৬

নবান্ন ফুল



সোনায় মোড়া কাঁচা রোদ
সরল সোজা কী নির্বোধ
প্রজাপতি পাখায় গতি
তোলে
ফুলরা আঁখি খোলে।

নীহার জমে মেঘের গাঁয়
সাঁঝ-নিশীথে ঝরে যায়
মাঠে মাঠে নদীর ঘাটে
চাষি
যায় বিলিয়ে হাসি।

শীতল শীতল কোমল দিন
কী মধুময় কী রঙিন
ধানের ক্ষেতে ফড়িং মেতে
ওঠে
নবান্ন ফুল ফোটে।
২৭ অক্টোবর ২০১৬ খ্রি.
কোর্টপাড়া, চুয়াডাঙ্গা।
# # # # # #

হেমন্তদিন



হিম কুয়াশার ঝাঁক ছুটে যায়
পাকা ধানের ক্ষেতে
যেতে যেতে যেতে
ছন্দে ওঠে মেতে
তারপরে সে আলগোছে এক গ্রামে
শিশির হয়ে নামে।

টুকরো সফেদ মেঘের ভেলা
সারাবেলা
করে লুকোচুরির খেলা
সবুজ পাড়া গাঁয়
আসে বুঝি হেমন্ত দিন তাই
মেঘ অবসর পায়।

কী পরিবেশ মায়াময়
কায়াময়
হায়াময়
কোমল শীতল ছায়াময়
বেশ;
হেমন্তদিন এলেই সাজে
নতুন রূপে দেশ।
২৭ অক্টোবর ২০১৬ খ্রি.
কোর্টপাড়া, চুয়াডাঙ্গা।
# # # # # #

রবিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৬

কৃষ্ণপুরের কবি




আমার গাঁয়ে বন বনানী ফলফলাদির গাছ
দিঘি পুকুর খালে জোলে হরেক রকম মাছ
নদীর বুকে নৌকা চলে তুলে রঙিন পাল
নায়ের মাঝি ধরে থাকে শক্ত হাতে হাল।

আপার পানি টইটম্বুর শাপলা ফোটে বিলে
মরা গাঙে জল আসে যেই পাড়ার ছেলেপিলে
এপার ওপার সাঁতার কাটে ভাসায় কলার ভেলা
সকাল-বিকেল চলে মজার নাও পারানির খেলা।

হালের বলদ দিয়ে কৃষক করে লাঙল চাষ
মোষের পিঠে চড়ে রাখাল খাওয়ায় আলের ঘাস
লাঠি খেলা জারি সারি মানিক পীরের গান
গেয়ে সবাই মাতোয়ারা যখন ওঠে ধান।

ভুট্টা ক্ষেতের কোলে কোলে পানের বরজ ওই
বাবলা বনে বুনো ঘুঘু ডাক পাড়ে পই পই
শিশু গাছের মগডালে সব হরিয়ালের বাসা
উলুর বনে ডিম পেড়েছে ভরত খাসা খাসা।

নাটাই ঝোপে গুড়ু ঘুমায় আরামে দিন কাটে
হাজার পাখির আনাগোনা ঢেলাগাড়ির মাঠে
কলসি ঘড়া কাঁখে ঘাটে যায় বধূ মা বোন
লেকের ধারে গাংশালিকে জমায় আলাপন।

সাঁঝের বেলা ঝিঁঝিঁ ডাকে, বাঁশ বাগানের তলে-
মেলা বসায় ঝিলমিলিয়ে জোনাক পোকা জ্বলে
যেইদিকে চাই নয়ন জুড়ায় কী অপরূপ ছবি
অল্পে কী আর আমি হলাম কৃষ্ণপুরের কবি।
১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৪ খ্রি.
হাজিবাড়ি, কোর্টপাড়া, চুয়াডাঙ্গা।