চেলাপেলা যবর ঠেলা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
চেলাপেলা যবর ঠেলা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৬

অমুকের কাকা সে

বাদশাহী ঢঙে চলে কী দারুণ চালু সে
অন্যের চোখে দেয় ধুলো কাদা বালু সে
রোজ রোজ সন্ধ্যায় আনমনে আবেশে
একদম একা বসে চুপচাপ ভাবে সে।

অন্যকে ফেলে দেয় বিপদে ফাঁদে সে
অকারণে কী করুণ নাঁকো সুরে কাঁদে সে
কৌশলে সোনা রূপা লুফে নেয় আপসে
ভয় ভীতি মারধর দিতে পারে চাপও সে।

এজমালি জমা জমি শুধু জাল করে সে
দুই হাতে ইনকাম মালপানি ধরে সে
চোখ বুজে ধ্যান করে মাথা গুজে বালিশে
ধান্দার পথ ঘাট বের করে খালি সে।

মানুষের লাখ লাখ টাকা কড়ি ধারে সে
চাইলেও মহা ফের চড় চাটি মারে সে
জমিদারি ভাব নিয়ে হাঁটেহোঁটে আয়েশে
ডানে রেখে সোজা পথ ঘুরে চলে বাঁয়ে সে।

মহাজনি ধান গম দাদনেও ছাড়ে সে
কিস্তির বোঝা তোলে গরিবের ঘাড়ে সে
লোন ছেড়ে সুদ তোলে মাস গোনে আঠাশে
স্বার্থটা ফুরুলেই হেসে দেয় টা টা সে।

টেন্ডারে কারচুপি ভোগিজোগি জানে সে
নিজপাতে ঝোল ঢেলে পর কাছে টানে সে
হামলা মারধর চলে তার আদেশে
কোত্থাও চলে নাকো চেলাপেলা বাদে সে।

ভয়ানক মানুষের উপমা ছবি সে
খালবিল লুটে খায় রাক্ষুসী লোভী সে
নিয়োগের বখরাতে বাড়ি তোলে আকাশে
চিনলে না বাপু তাকে অমুকের কাকা সে!
০৮ এপ্রিল ২০১৩
হাজিবাড়ি, মুক্তিপাড়া, চুয়াডাঙ্গা।

সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

ঢাকাইয়া



দামুড়হুদার আবুল থাকেন
ঘুমের ভেতর তাকাইয়া,
বিড়বিড়িয়ে কী যে বলেন
গোল্লা দুচোখ পাকাইয়া।

রোডের ওপর মস্ত বড়
হাতির ছবি আঁকাইয়া,
সাত সকালে অট্ট হাসেন
র‌্যাব-পুলিশের ঘা খাইয়া।

তার কাছে কুছ নেই পরোয়া
চলেন দুহাত ঝাঁকাইয়া,
ফাটাফাটি বক্তৃতা দেন
চিল্লিয়ে মুখ বাঁকাইয়া।

রোজ দুপুরে ভাতের সাথে
খান চানাচুর মাখাইয়া,
মামার বাড়ি পল্টনে তাই
বলেন আমি ঢাকাইয়া।
০১ জুলাই ২০১৩
হাজিবাড়ি, মুক্তিপাড়া, চুয়াডাঙ্গা।

রবিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১১

হরিদাস পাল

নাম হরিদাস পাল
নাক ছ্যাপ তার কুতকুতে চোখ
হাওদা বিরাট গাল।

শরীরে খুব বাত হয়েছে
ঘাড়খানা তার কাত হয়েছে
মরবে নাকি কাল।

এখন থাকেন টুঙ্গি
পরেন ছেঁড়া লুঙ্গি
থাকেন পড়ে গাড়ির আশায়
অট্টালিকা বাড়ির আশায়
দেখান দারুণ ভঙ্গি।

নেইতো নিজের বসতবাড়ি
নিয়ে থাকে অসৎ বাড়ি
সেই বাড়িতে এক নাগাড়ে
বসে কাটায় কাল
নাম হরিদাস পাল।

কারো উদ্দেশে

জান যাবে চলে তোর

মান যাবে যাবেরে,

সুরে গান ধরে ধরে

ঘুঁণে কুরে খাবেরে-

মিঠে মিঠে হাসিয়া

ঘোলা জলে ভাসিয়া

কুচভি না হোগা হোগা

এই যে অভাবেরে।


ঠাস করে হাঁড়ি ভেঙে

ফাঁস করে দেবেরে

মুখ যাবে হেসে তোর

সুখ তুলে নেবেরে

টাই গলে ঝুলিয়ে

মিছে লোক ভুলিয়ে

কুচভি না হোগা হোগা

মন দিয়ে ভেবোরে।

২০.১১.১৯৯৬ খ্রি.

বৃহস্পতিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১১

আমলার উপদেশ

মানুষ ডেকে দেয় উপদেশ
সরকারি এক আমলা,
প্রতিবাদের ভাষা শেখা
কঠিন রকম ঝামলা।

নিজের খেয়ে চুপটি করো
মরার আগেই জ্যান্ত মরো
মিছিল মিটিং কোরো নাকো
হতেও পারে হামলা।

মারুক ঘুষি চিমটি-চাটি
ভেঙে ফেলুক দাঁতের পাটি
ভুলেও যেন কোরো না তাও
পরের নামে মামলা।

যে যা করে জোরছে করুক
ঘাপলাবাজি, সুযোগ ধরুক
দুই চোখ-কান বুজে তুমি
খাটো পরের কামলা।

শনিবার, ১৮ জুন, ২০১১

ভিকে ঠেলা

পাকিস্তানের রসকদম খেলো কারা
শামস রাজাকার আলবদরের দোসর যারা
খেয়ে খেয়ে গেলো তারা মুটিয়ে_
বীর বাঙালি দিলো যখন ভিকে ঠেলা
ভেঙে গেলো পাকিস্তানের শক্ত পেলা
শেষে পালায় সব শালা লেজ গুটিয়ে।
১৫.১২.২০০৯ খ্রি. দৈনিক মাথাভাঙ্গা কার্যালয়, চুয়াডাঙ্গা।

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুন, ২০১১

পান্তাপাড়ার জামাই

পান্তাপাড়ার হক সাহেবের
আপন ছোট জামাই,
গার বলে রোজ নগদ নগদ
অনেক টাকা কামায়

রাস্তাঘাটের গাড়ি ঘোড়া
দুহাত তুলে থামায়,
রোজ সকালে আহার করে
থালা থুয়ে ধামায়

অন্য লোকের বিষয় নিয়ে
বড্ড মাথা ঘামায়,
সুযোগ বুঝে নিজের বোঝা
পরের ঘাড়ে নামায়
০৩.৬.২০১০ খ্রি. বনানীবাড়ি, কোর্টপাড়া, চুয়াডাঙ্গা।

মঙ্গলবার, ৩১ মে, ২০১১

বেকুব আলী

বেকুব আলীর গাছে কাঁঠাল
সদায় গোঁফে তেল দেন,
গাছের কাঁঠাল পুষ্ট হওয়ার
দু’ মাস আগেই সেল দেন

ওসির বাসায় গভীররাতে
গাছের পাকা বেল দেন,
পুরোনো সব জামাকাপড়
ভাঁগাড় পানে ফেল দেন

খুশির চোটে নাচেন, যখন
হাকিম কারো জেল দেন,
বেআক্কেলি বেকুব আলী
অন্যকে আক্কেল দেন
০৭.১০.০৮ খ্রি. বনানীবাড়ি, কোর্টপাড়া, চুয়াডাঙ্গা

সাহেবের ভুড়ি


গুদামের মাল পচে গলে পড়ে
সাহেবের ভুড়ি বেড়ে যায়,
ছাদে ছাদে তার ইমারত উঠে
আকাশের সীমা ছেড়ে যায়

গরিবের হক চুরি করে করে
তবিলের টাকা বেশি হয়,
দিনে দিনে আরো আদরে গদরে
গায় গতরের পেশি হয়

পুঁজিপতি হয় রাতারাতি বাবু
হাতের আঙুল ফুলে যায়,
উড়ে উড়ে আসে কালো টাকা সব
চোয়ালের গোশ ঝুলে যায়

খেয়ে খেয়ে খালি শেষ করে দেয়
আমাদের পাত ফাঁকা হয়,
মামা-খালু সব তার সাথে আছে
অপরাধ যত ঢাকা হয়
১৯.৭.০৮ খ্রি. বনানীবাড়ি, কোর্টপাড়া, চুয়াডাঙ্গা

তিনি

রাতে মুখোশ পরেন তিনি
দুনম্বরি করেন তিনি
নিজের তবিল ভরেন তিনি
সুযোগ বুঝে ধরেন তিনি

বেঠিক পথে চলেন তিনি
মিথ্যে কথা বলেন তিনি
পরের দু’ কান মলেন তিনি
পয়সা পেলেই গলেন তিনি

কুৎসা খালি রটান তিনি
সরল মানুষ পটান তিনি
খুনখারাবি ঘটান তিনি
শান্ত মানুষ চটান তিনি

গোল বাধিয়ে থামান তিনি
ওপর থেকে নামান তিনি
অসৎ টাকা কামান তিনি
আলমডাঙ্গার জামান তিনি
০৮.৭.০৮ খ্রি. বনানীবাড়ি, কোর্টপাড়া, চুয়াডাঙ্গা

সোমবার, ৩০ মে, ২০১১

লাল বাবু খান

আলমডাঙ্গার লাল বাবু খান
বাবু খানের ঠেলা আছে,
সবখানে তার শক্ত এবং
কায়দা রকম পেলা আছে

বাবু খানের ঝকঝকে টাক
চকচকে ও তেলা আছে,
বিদেশে তার বেহিসেবি
পয়সা কড়ি মেলা আছে

বাবু খানের তুঘলকি ভাব
হাতে জাদুর খেলা আছে,
খেলতামাশার জন্য নাকি
অসংখ্য তার চেলা আছে

ফুরফুরে মন সদায় হাসি
বুকে খুশির ভেলা আছে,
‘দুর্নীতি সব ছাড়ুন বাপু
এখনো বেশ বেলা আছে
২৩.১০.০৭ খ্রি. বনানীবাড়ি, কোর্টপাড়া, চুয়াডাঙ্গা