মেঘের খামে দিলাম চিঠি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মেঘের খামে দিলাম চিঠি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৪

দিগ্বিজয়ী



আমার একটা খোলা আকা চাই
মেঘ যেখানে বেড়ায় ছায়া ফেলে
ওইখানেতে মিললে তিলেক ঠাঁই
পাখির মতো ঘুরবো ডানা মেলে

নাম না জানা কত গ্রহের দেশে
বাঁধবো গিয়ে নতুন নতুন ঘর
ইচ্ছে হলে হাওয়ার ডিঙায় ভেসে
দেখবো ঘুরে বিশ্বচরাচর

দিগন্তকে বানিয়ে খেলার মাঠ
চলবে খেলা গোটা ভুবনজুড়ে
হাতের মুঠোয় থাকবে তারার হাট
উড়াল দেবো সপ্ত গগন ফুঁড়ে

তেপান্তরে ছুটবো একা একা
দিগ্বিজয়ীর নেইতো কোনো ভয়
বিশদ হবে এক পলকেই দেখা
করবো আমি সারা জগ জয়
১৩ জুলাই ২০১২
বনানীবাড়ি, চুয়াডাঙ্গা

মঙ্গলবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

আমার যদি




আমার যদি দুটি ডানা থাকতো পাখির মতো;
ভীষণ মজা হতো-
বনবনানী ঘুরে অনেক অনেক দূরে
উড়াল দিয়ে হারিয়ে যেতাম সুদূর অচিনপুরে
ধূসর খাঁ খাঁ গহীন গিরি বেবাক জানা হতো
আমার যদি দুটি ডানা থাকতো পাখির মতো।

পাখির মতো আমার যদি দুটি ডানা থাকতো;
আকাশ আমায় ডাকতো-
নিটোল চাঁদের মাঠে তারার হাটে হাটে
খুঁজতে যেতাম মুক্তা মানিক কল্পপুরীর ঘাটে
আমায় তখন ঘরের কোণে কে আর বেঁধে রাখতো;
পাখির মতো আমার যদি দুটি ডানা থাকতো।

থাকতো যদি পাখির মতো আমার দুটি ডানা;
কে শোনে কার মানা-
বাতাস ফুঁড়ে ফুঁড়ে ছন্দে যেতাম উড়ে
মুক্ত স্বাধীন বাঁধন হারা হতাম আকাশজুড়ে
দিতো আমায় হাতছানি রোজ গগন সামিয়ানা;
থাকতো যদি পাখির মতো আমার দুটি ডানা।

যদি আমার পাখির মতো থাকতো ডানা দুটি
খেতাম লুটোপুটি-
দুঃখ-জ্বালা ফেলে খুশির আবেশ ঢেলে
শুকসারিদের সঙ্গে যেতাম হাওয়ার পেখম মেলে
গোলক ধাঁধাঁর জীবন থেকে নিতাম বিদায় ছুটি
যদি আমার পাখির মতো থাকতো ডানা দুটি।

দুটি ডানা পাখির মতো থাকতো আমার যদি;
যেতাম নিরবধি-
অচেনাদের দেশে মেঘের মতো ভেসে
দুচোখ মেলে পাড়ি দিতাম মধুর মধুর হেসে
অরণ্য দ্বীপ মরুভূমি পাহাড়-সাগর নদী;
দুটি ডানা পাখির মতো থাকতো আমার যদি।

২৮.০২.২০১২ খ্রি. বনানীবাড়ি, কোর্টপাড়া, চুয়াডাঙ্গা।



রবিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

বাংলাদেশের পিঠা

বাংলাদেশের পিঠা পায়েশ নাম করা সব দেশে
বুঝবে মজা কী যে মধুর খাও যদি তা এসে
দেশি আটা তেল চিনি গুড় নেইকো এতে খাদ
মায়ের হাতে বানানো তাই মজার মজার স্বাদ।

হায়রে পিঠা পিঠার বাহার হরেক রকম নাম
কী রসনা কী আস্বাদন খাওয়ার পরেই দাম
ইচ্ছে মতোন খেতে পারো খুলছি পিঠার হাড়ি
শুকনো পিঠা ঝোলের পিঠা দেখো পিঠার কাড়ি।

খেলকি পিঠা খাস্তা পিঠা হাতের জাদু কুরমুড়ি
বীচি পিঠা, পাতাপিঠা, নকশিপিঠা গুড়মুড়ি
পলটা পিঠা শালুক পিঠা সবজিপুলি ভাপা পিঠা
মাংস পুলি চন্দ্রপুলি চাপা পিঠা খাপা পিঠা।

আকশি পিঠা দুবলো পিঠা ঝাল লালফুল কুরকুরি
চোরাবালি চিতুই পিঠা পাটিসাপটা ফুরফুরি
কাঁচা পিঠা চিপন পিঠা ফুল নারকেল কুলি
সরা পিঠা মুঠো পিঠা পাকান ভাপাপুলি।

সুন্দরী ছাঁচ কাজল লতা হৃদয় হরণ ঝাল পিঠা
পাপড় পিঠা কলজে পুলি সিনিজ গোলাপ তালপিঠা
সরু পিঠা রসুন পিঠা ডিমের পিঠা ফুল পিঠা
পাটি গোলাপ ফুলের রাণী তিল বরফই কুল পিঠা

কলাই ঢোকসা ফুল বিস্কুট কলার ছড়া ছিটে পিঠা
নকশি পিঠা শঙ্খ পিঠা রসের পিঠা মিঠে পিঠা
মুগের পুলি রাইচ পিঠা কেকপুডি বা ধুপি
অনেক পিঠার নাম গুণাগুণ শুনলে চুপিচুপি।

এবার বলো কোনটা থুয়ে কোনটা তুমি খাবে
সব পিঠারই স্বাদ নিয়ে যাও না খেলে পস্তাবে।
১৬.০২.২০১২, জীবননগর।

বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১১

মুন্নির কাছে চিঠি

মুন্নি প্রথম শুভেচ্ছা নিস নিঝুম রাতে লিখছি তোকে চিঠি
পুরোনো সেই দিনগুলোকে একটু মনে পড়ে কি লক্ষ্মীটি
আমের বনে আজও ডাকে মধুর সুরে ঘুঘু দোয়েল টিয়ে
রঙ ছড়ানো স্মৃতিরা সব আপন মনে গিয়েছে হারিয়ে।

পুলক মাখা নানা রঙের সেই মায়াবি দিনের কথা শোন
বুকের খামে আটকে রাখা স্মৃতির পাতা খুলেই দি এখন
বাঁশ বাগানের পুকুরপাড়ে ভর দুপুরে হতো চড়ুইভাতি
ধুলো-বালির রান্নাবাড়া কী হইচই লাগতো মাতামাতি।

আমরা দুজন রোজ বিকেলে তোদের বুড়ো তমাল গাছের নিচে
বসে দিতাম পুতুল বিয়ে নানান ছলে হবে কি সব মিছে?
যাগগে ওসব এবার বলি এখন আমার একলা কেমন লাগে
তোকে ছাড়া ভাল্লাগে না সেই মায়াময় স্মৃতির আবেশ জাগে।

জোছনা ধোয়া রাতে যখন আকাশখানা তারায় তারায় ভরে
স্মৃতিরা সব অধির হয়ে ভাবনা নামের সপ্ত ডিঙেয় চড়ে
থোকা থোকা জোনাক পোকা যখন ঝিঁঝির সুরেলা গান শোনে
উদাস বাউল ভাবনা এসে বসে আমার উতলা এই মনে।

সারা রাতের শিশির ঝরা দুর্বাদল ও বুনো সবুজ ঘাসে
কুসুম ভোরের কচি রোদে স্বপ্ন আমার মুখ লুকিয়ে হাসে
রঙিন রঙিন মধুর স্মৃতি কী আনমনে কোথায় এখন থাকে
নেই জানা তা কোন পাহাড়ে কোন অচেনা কোন অজানার বাঁকে।

কোমল কোমল পরশ মাখা ছেলেবেলার সেদিন আমার ছিল
কোন ফাঁকে কোন দানব এসে মাতম করে সব ছিনিয়ে নিলো
আশিস ঢালা কী মধুময় কী মনোরম কী আদরের দিন
হারিয়ে তাই করুণ ব্যথায় আজও আমার বুক করে চিনচিন!
১৯৯১ খ্রি. দর্শনা ডিএস মাদরাসা, চুয়াডাঙ্গা।

রবিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১১

হতাম যদি

হতাম যদি আকাশভরা
লক্ষ তারার মতো,
দিনের শেষে আমার মুখে
ফুটতো হাসি কত।

সকাল বেলা খেলতে যেতাম
আরব দেশের মাঠে,
রোজ দুপুরে ঘুমিয়ে নিতাম
নিটোল চাঁদের হাটে।

ব্যস্ত সবাই থাকতো তখন
নিজের নিজের কাজে,
আকাশ থেকে আমারতো কেউ
নাগাল পেতো না যে।

সন্ধ্যা হলেই দীপ জ্বালাতাম
সুদূর আকাশ থেকে,
খোকা-খুকু চুমু খেতো
আমায় ডেকে ডেকে।
২০.০২.১৯৯০ খ্রি.

শনিবার, ১৮ জুন, ২০১১

বৈশাখে

কালো মেঘের

দাপট দ্যাখো

বৈশাখে,

দিচ্ছে হাওয়া

গাছ-গাছালির

ওই শাখে।


রয় না ঘরে

খোকা-খুকুর

দলগুলো,

কুড়োতে যায়

আম-কাঁঠালের

ফলগুলো।


সবার মুখে

কালবোশেখির

গান শুনি,

পাখর গানে

হরেক রকম

তান শুনি।


মাঠে চাষীর

ধান রোপণের

ধুম পড়ে,

দখিন কোণের

মিষ্টি হাওয়ার

চুম পড়ে।

প্রথম প্রকাশ: 

সাপ্তাহিক শিরীণ

সবুজ পাতা

১৫ মে ১৯৮৯ খ্রি.

শুক্রবার, ১৭ জুন, ২০১১

বৃষ্টিতে বৃষ্টিতে

গরিব লোকের ঘর ভাঙছে
হাওর-নদীর চর ভাঙছে
জিনিসপাতির দাম বাড়ছে
টেনশেনে গার ঘাম বাড়ছে
বৃষ্টিতে

হাড়িতে চাল উঠছে না
কাজ-কাম তাও জুটছে না
দুখীর চুলো জ্বলছে না
দিনাতিপাত চলছে না
বৃষ্টিতে

কোলের শিশু নামছে না
পেটের খিদে থামছে না
দুঃখ-জ্বালা ঘুঁচছে না
চোখের পানি মুছছে না
বৃষ্টিতে

শরৎকালে

শরৎকালে আকাশ জুড়ে

পেজা মেঘের খেলা,

রাতের বেলায় জোনাকিরা

বসায় রঙিন মেলা


শরৎকালে সন্ধ্যে হলে

ঝিঁঝিঁ পোকা ডাকে,

ভয় পেয়ে তাই শিশুরা সব

জড়িয়ে ধরে মাকে


শরৎকালে বাগান মাতায়

শিউলী ফুলের গন্ধ,

হালকা হাওয়া প্রজাপতির

পাখায় তোলে ছন্দ

প্রথম প্রকাশ:

শিশু

অক্টোবর-নভেম্বর ১৯৮৯

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুন, ২০১১

হাওয়ায় হাওয়ায়

পূবাল হাওয়ার পিঠে চড়ে দখিন হাওয়া ভাসে
সুখের আবেশ নিয়ে তারা যায় ছুটে উল্লাসে
এলোমেলো দুষ্টু বাতাস দুষ্টুমিতে মাতে
হিমেল হাওয়া জান জুড়িয়ে যায় ফিরে জান্নাতে

হিম বাতাসের সাথে সাথে চৈতী হাওয়া চরে
আপন মনে উতল হয়ে যায় বায়ু বন্দরে
উদাস হাওয়ার সঙ্গে ছুটে বাউল বাতাস চলে
নাম না জানা অচিন কোনো সবুজ বনাঞ্চলে

উতাল হাওয়ার সাথে পাতায় ক্ষেপা পবন মিতে
মেঠো হাওয়া জমায় এসে মধুর কুটুম্বিতে
পাগলা হাওয়ার সাথে শীতল বাতাস থাকে মিলে
ঘুমায় তারা ক্ষেতখামারের আনকোরা মঞ্জিলে

বাউরি বাতাস ঠাণ্ডা গরম ঝড়ো হাওয়ার চলা
মিষ্টি চপল শুষ্ক ভেজা দমকা ও চঞ্চলা
রঙ বেরঙের হাওয়া ছোটে ছন্দে পাগল করা
হাওয়ায় হাওয়ায় সুখের হলো মধুর বসুন্ধরা
২৫.৪.২০১০ খ্রি. বনানীবাড়ি, কোর্টপাড়া, চুয়াডাঙ্গা।

শুক্রবার, ৩ জুন, ২০১১

ছোয়ার কাছে চিঠি


ভালোবাসা শুভেচ্ছা নিস সঙ্গে অনেক দোয়া
বাড়ির সবাই মিলেমিশে কেমন আছিস ছোঁয়া?
আমি খোদার ফজলে বেশ ভালোই আছি বোন,
জানি তোদের বাড়িতে নেই মোবা’ল টেলিফোন

লিখছি বসে এই চিঠি তাই মস্ত শহর থেকে
যেইখানে বোন দালান কোঠায় আকাশ গেছে ঢেকে
এই শহরে মানুষ ভরা আটকে আসে দম,
নেই খোলা মাঠ ক্ষেতের ফসল বাতাসও বয় কম

হয় না কোনো পুতুল খেলা নেই তো লাটাই ঘুড়ি,
নেই এখানে রঙ বেরঙের পাখির উড়োউড়ি
যায় না দেখা জোছনামাখা মিষ্টি মধুর চাঁদ,
তাই এখানে ভাঙে নারে চাঁদের হাসির বাঁধ

গল্পগুজব করার মতো নেই তো সময় কারো,
দিনে দিনে হচ্ছে সবার ব্যস্ত জীবন আরো
যানবাহনের বহরে রোজ আটকিয়ে যায় পথ,
একটুখানি বসার মতো নেই কারো ফুরসত

হাজার রকম বাতির ভিড়ে হয় না গোনা তারা,
এই শহরে হাইজাকারের খুব বেশি আশকারা
মানুষ হাঁটে পাল্লা দিয়ে পথ যেখানে যার,
ঘোমটা পরা নারী-বধূ খুঁজে পাওয়াই ভার

এই শহরে কেউ করে না সেলাই রঙিন কাঁথা,
কেউ কারো খোঁজ নেয় না ভুলেও অবস্থা খুব যা তা
নেই এখানে গাঁয়ের মতো খেলাধুলার ধুম,
খুন খারাবি গোলাগুলি মানুষও হয় গুম

ভালোবাসার নেইতো বালাই মানবতা কাঁদে,
ঠক ধোঁকাবাজ পালায়, পড়ে ভালো মানুষ ফাঁদে
এই শহরে এসেই উদার মন হয়েছে শেষ
ট্রাফিক জ্যামে বন্দিদশা ব্যস্ত পরবিশে

বিল-বাঁওড়ের কথা যখন আমার মনে ওঠে,
স্মৃতির জলে কতো যে ফুল শাপলা হয়ে ফোটে।
গরুর গাড়ি ঘোড়ার গাড়ি হয় না দেখা আর,
এই শহরে হাজার হাজার পাজেরো জিপ-কার

কানামাছি লুকোচুরি খেলার কতো স্মৃতি
গিলে খেয়ে শেষ করেছে আকাশ সংস্কৃতি
মোবা’ল টিভি টেলিফোনের চলছে সে এক কাল
ডিশ লাইনে ঢুকছে ঘরে ভিনদেশি জঞ্জাল

ইন্টারনেট ঘরে ঘরে দেখছি কী সব বসে,
ধ্বংস হলো ছেলে-মেয়ে বাপ মা আঙুল চোষে।
মনে প্রাণে চাই আমি খুব যাক হয়ে যাক শেষ-
মানবতা বিবর্জিত সকল পরবিশে

এইখানে আর ভাল্লাগে না রাখছি তোকে বলে,
সুযোগ পেলে ফসকে ঠিকই আসবো গ্রামে চলে।
এবার তবে চিঠি লেখার দিচ্ছি ইতি টান,
ভালো থাকিস সুখে থাকিস ওরে আমার জান