ভালোবাসা শুভেচ্ছা নিস সঙ্গে অনেক দোয়া
বাড়ির সবাই মিলেমিশে কেমন আছিস ছোঁয়া?
আমি খোদার ফজলে বেশ ভালোই আছি বোন,
জানি তোদের বাড়িতে নেই মোবা’ল টেলিফোন।
লিখছি বসে এই চিঠি তাই মস্ত শহর থেকে
যেইখানে বোন দালান কোঠায় আকাশ গেছে ঢেকে
এই শহরে মানুষ ভরা আটকে আসে দম,
নেই খোলা মাঠ ক্ষেতের ফসল বাতাসও বয় কম।
হয় না কোনো পুতুল খেলা নেই তো লাটাই ঘুড়ি,
নেই এখানে রঙ বেরঙের পাখির উড়োউড়ি
যায় না দেখা জোছনামাখা মিষ্টি মধুর চাঁদ,
তাই এখানে ভাঙে নারে চাঁদের হাসির বাঁধ।
গল্পগুজব করার মতো নেই তো সময় কারো,
দিনে দিনে হচ্ছে সবার ব্যস্ত জীবন আরো।
যানবাহনের বহরে রোজ আটকিয়ে যায় পথ,
একটুখানি বসার মতো নেই কারো ফুরসত।
হাজার রকম বাতির ভিড়ে হয় না গোনা তারা,
এই শহরে হাইজাকারের খুব বেশি আশকারা।
মানুষ হাঁটে পাল্লা দিয়ে পথ যেখানে যার,
ঘোমটা পরা নারী-বধূ খুঁজে পাওয়াই ভার।
এই শহরে কেউ করে না সেলাই রঙিন কাঁথা,
কেউ কারো খোঁজ নেয় না ভুলেও অবস্থা খুব যা তা।
নেই এখানে গাঁয়ের মতো খেলাধুলার ধুম,
খুন খারাবি গোলাগুলি মানুষও হয় গুম।
ভালোবাসার নেইতো বালাই মানবতা কাঁদে,
ঠক ধোঁকাবাজ পালায়, পড়ে ভালো মানুষ ফাঁদে
এই শহরে এসেই উদার মন হয়েছে শেষ
ট্রাফিক জ্যামে বন্দিদশা ব্যস্ত পরবিশে।
বিল-বাঁওড়ের কথা যখন আমার মনে ওঠে,
স্মৃতির জলে কতো যে ফুল শাপলা হয়ে ফোটে।
গরুর গাড়ি ঘোড়ার গাড়ি হয় না দেখা আর,
এই শহরে হাজার হাজার পাজেরো জিপ-কার।
কানামাছি লুকোচুরি খেলার কতো স্মৃতি
গিলে খেয়ে শেষ করেছে আকাশ সংস্কৃতি
মোবা’ল টিভি টেলিফোনের চলছে সে এক কাল
ডিশ লাইনে ঢুকছে ঘরে ভিনদেশি জঞ্জাল।
ইন্টারনেট ঘরে ঘরে দেখছি কী সব বসে,
ধ্বংস হলো ছেলে-মেয়ে বাপ মা আঙুল চোষে।
মনে প্রাণে চাই আমি খুব যাক হয়ে যাক শেষ-
মানবতা বিবর্জিত সকল পরবিশে।
এইখানে আর ভাল্লাগে না রাখছি তোকে বলে,
সুযোগ পেলে ফসকে ঠিকই আসবো গ্রামে চলে।
এবার তবে চিঠি লেখার দিচ্ছি ইতি টান,
ভালো থাকিস সুখে থাকিস ওরে আমার জান।