ভূতের বাড়ি পান্তাগাড়ি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ভূতের বাড়ি পান্তাগাড়ি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০১৩

এক ঘাটে খায় জল


গোয়ালবাড়ির কটা শেখের পালোয়ান এক ছেলে
হায়না শেয়াল খতম করে হাতের কাছে পেলে
সিংহ হাতি পালায় ভয়ে দেখলে ছেলের ঘুষি
ভাত রুটি নয় খায় সে কেবল ইসুবগুলের ভুসি।

গাছের বাকল লতা পাতা হজম করে গিলে
আজব ব্যাপার দেখলে তোমার চমকে যাবে পিলে
তাবত মানুষ আঁতকে ওঠে অজানা কোন ডরে
তাকে দেখে সবাই কাঁদে খিল লাগিয়ে ঘরে।

দাঁত কটমট বজ্র ফাটে তার কী ভীষণ রাগ
হঠাৎ সেদিন বন থেকে সে আনলো ধরে বাঘ
গোয়াল ঘরে বাঘটা বাঁধে সাথেই গরু মোষ
তিন পশুতে দোস্তি বেজায় করে না ফাঁস ফোঁস।

গরু মোষের সঙ্গে বাঘও চিবিয়ে খায় ঘাস
নেই গর্জন হুক্কা হালুম মধুর বসবাস
কী পালোয়ান কেমন গতর ভীষণ সাহস বল
তার ভয়ে বাঘ গরু ছাগল এক ঘাটে খায় জল!
১০ আগস্ট ২০১২ খ্রি.
বনানীবাড়ি, র্কোটপাড়া, চুয়াডাঙ্গা।

রবিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১১

হুতুম পেঁচা

হুতুমপেঁচা বউ সাজলো

দেখতে এলো সারসে,

তাইতো নাকি লজ্জা পেয়ে

ঘোমটা দিলো আরো সে।


হুতুম পেঁচার সঙ্গে হলো

সারস পাখির বিয়ে,

হায়রে মজার উলোট পালোট

মানবে সবাই কি এ?

১৩.৮.১৯৯০ খ্রি.


কান্তর ভাবনা

কান্ত হবে বীর পালোয়ান খেলবে খুষি বকসিন,
এখন থেকে তাই খাবে সে বেনজবিয়ল মকসিন
তাগড়া মোটা জোয়ান হতে অ্যারিসটোভিট এসিডিন
দিনার খেলে লম্বা হতে লাগবে না তার বেশি দিন।

বীর পালোয়ান গামা হতে ঘুষোঘুষি খায় না কে?
গায়ের ব্যথায় ভয় কি আছে সারিয়ে দেবে ডায়নাকে।
ম্যাট্রো আছে করবে নাকো পেটের জ্বালা পরোয়া সে
নাপা জেরিন প্যারাপাইরিল দেহে যদি জ্বরও আসে।

রেডিন আছে পেটের ব্যথা আলছার এবং গ্যাস্টিকে
বুঝবে কে তার ওষুধ খাওয়ার গোল জিলাপির প্যাচটিকে
সুযোগ পেলে খাবে নাকি ছিডাকসিন ও ল্যাকটামিল,
নেশার ঘোরে কিনবে তখন কেরুর মতো একটা মিল।

অর্থ কড়ি দেয় বাড়িয়ে গাওযাবান ও ডেকাসনে
তাই খেয়ে সে ভোট করবে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে
বীর পালোয়ান না হয়ে ছাই এমপি হবে দেশেতে
মঞ্চে উঠে ভাষণ দেবে নাম ছড়াবে বেশে এতে।

এসব নিয়ে ভেবে ভেবে দেখা গেল শেষে সে
রাগের কথাও মধ্যিমাঝে বলে বেজায় হেসে সে
মা-বাবারা তাকে নিয়ে পড়লো ভীষণ ভাবনায়
তাই সে এখন ভর্তি আছে পাগলা গারদ পাবনায়।
০৯.১১.১৯৯৬ খ্রি. কৃষ্ণপুর, চুয়াডাঙ্গা।


বৃহস্পতিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১১

বরুণের স্বপ্ন

বরুণ কুমার স্বপ্ন দেখে
বন বিড়ালের ধাক্কাতে,
চলে গেছে জার্মানিতে
রাম ছাগলের ধাক্কাতে।

রাম ছাগলের দাড়ি দেখে
উঁচু দালান বাড়ি দেখে
কাঁপে তার অন্তর,
ঠ্যাং কাঁপে আর মুখ নড়বড়
পড়তে থাকে মন্তর।

আরশোলা টিকটিকি দেখে
পালায় ছুটে বরুণ,
রাম ছাগলে বললো রেগে
আপনি ব্যাটা সরুন।

ভীষণ বেগে ছুটতে গিয়ে
পড়লো খাটের নিচে,
স্বপ্নে এসব দেখলো বরুণ
ভ্রমণ হলো মিছে।

বাবুরাম

নাক ছ্যাপা বাবুরাম

শক্তিতে কাবু রাম

ভুলে যায় নিজ নাম

মাথাভরা বালি,

চোখ তার ঘোলা ঘোলা

খায় ভোরে কাঁচা ছোলা

হাসে খালি খালি।


বাবুরাম রাক্ষস

লোকে বলে খাক্ষস

খায় পালি পালি,

লিকলিকে স্বাস্থ্যই

ডিম খায় আস্তই

সাড়ে দশ হালি।


নিজেকে সে নিজে দেয়

ওরে বাবা কী যে দেয়

আজবাজে গালি;

হাঁটে যেন তিন পায়ে

দেয় প্রতিদিন পায়ে

যে জুতোয় তালি।


বাবুরাম হাবা

দুজনার বাবা।

শুক্রবার, ১৭ জুন, ২০১১

আজব বাঘ

একটা আজব বাঘ
কী তার ভীষণ রাগ
বনের রাজা সিংহ দেখেও
করে সে ভাগ ভাগ

তার আছে দুই শিং
টাক ডিঙা ডিং ডিং-
রোজ সকালে ইংরাজি কয়
বাই গুড মর্নিং

বেকুব আলীর কাকা

বেকুব আলীর কাকা
কাজে দারুণ পাকা
ঘোরান তিনি রেল-মোটরের
জংধরা সব চাকা

বোঝেন সোজা-বাঁকা
কৌশলে নেন টাকা
কামাই করেন কায়দা করে
পকেট তবু খাঁ খাঁ

থাকেন তিনি ঢাকা
ভালোবাসেন ফাঁকা
লাগলে মশা কন নাতিকে
কয়েল গায়ে মাখা
০২.১০.১৯৯০ খ্রি.

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুন, ২০১১

লাল জাদুকর


লাল জাদুকর ঢাকায় এলো
দেখতে নাকি লাল,
যবর খবর শুনে শেষে
ছুটলো লোকের পাল-
কেউ ছুটে যায় কেউ বা পড়ে
কেউ বা বেসামাল

তালকানা সব মানুষ ছোটে
হারিয়ে ফেলে তাল,
জাদুর খেলা প্রদর্শনী
চলবে ঢাকায় কাল-
শুকনো ডাঙায় দেখাবে সে
তরঙ্গ উত্তাল

কিন্তু সে খুব তৃষ্ণা পেলো
কেউ দিলো না পানি,
সেই পানির জ্বালায়
জুড়লো কী হাঁপানি_
জল পিপাসায় অবশেষে
ঘটে প্রাণহানি।

শুক্রবার, ৩ জুন, ২০১১

দুলালের পুত

দেবুনাথ দুলালের পুত

যেন গেছো ভূত-

সারাদিন করে তার

মন খুতমুত


পারে দেবু হাসতে

কান্নায় ভাসতে-

ঠাণ্ডায় দিন-রাত

পারে খালি কাশতে


দেবু দ্যাখে ভাসমান-

গাঢ় নীল আসমান

আরো দ্যাখে সাগরের

জল বুদবুদ-

দুলালের পুত


কাজ করে সুক্ষ

মনে খুব দুঃখ-

ঠোঁট দুটো ঝুলমুলে

চুলগুলো রুক্ষ


পরে শাড়ি জামদানি

করে খালি আমদানি

সেই নাকি সম্রাট

নেতাদের দূত;

দুলালের পুত


দেখতে সে চ্যাংড়া

হাত দুটো ল্যাংড়া

চলাফেরা দেখে তার

হাসে কোলা ব্যাঙরা


দাঁত তার কালো কালো

নিজে কয় আছি ভালো

নাক তার থ্যাবড়ানো

চোখ কুঁতকুঁত;

দুলালের পুত

মঙ্গলবার, ৩১ মে, ২০১১

দাদুর টাক


দিব্যি কছম সত্যি কথা
মারছি নাতো ধাক;
আমার দাদুর মোটা মাথায়
সে কী বিশাল টাক-
টাকের ওপর ঘর বানিয়ে
বাস করে দুই কাক

দাদুর ফ্যাটা নাক,
নাকের ফুটো ঠিক যেন দুই
ব্যারেল সমান ফাঁক-
সেইখানে বাস করে দুটো
বুড়ো মদনটাক
              
দাদুর দুটো কান যেন ঠিক
আস্ত দুটো ঢাক;
কানের ফুটোয় ঢোকে বেরোয়
মৌমাছিদের ঝাঁক-
দিনে দিনে পড়লো ঝুলে
দুই কানে মৌচাক
২৯/৮/১০ খ্রি. মাথাভাঙ্গা অফিস

রসিক মশা

রসিক মশা কানের গোড়ায়
গান করে,
সারা বাড়ি ঘুরে ঘুরে
রান করে

আলমারি খাট সোফার তলায়
বাস করে,
পচা কাদায় বাচ্চা-ডিমের
চাষ করে

লোকের গায়ে উড়ে উড়ে
ঠুল মারে,
খিদের চোটে সুযোগ বুঝে
হুল মারে

খোকা-খুকুর নরম গালে
চুম মারে,
ভরা পেটে সারাটা দিন
ঘুম মারে
০৪.০২.০৮ খ্রি. বনানীবাড়ি, কোর্টপাড়া, চুয়াডাঙ্গা

সোমবার, ৩০ মে, ২০১১

মশক

দিনে দিনে শহর জুড়ে
যাচ্ছে বেড়ে মশক,
মিটিং সিটিং খরচাপাতি
দেখছি কয়েক দশক

যায় না মশক, নাস্তানাবুদ
সকল সিটি মেয়র,
নানান রহম দোষ অপরাধ
চাপায় ঘাড়ে এ ওর

এই সুযোগে হুলে মশক
ফায়দা করে হাসিল,
ঠাঁই করে নেয় অট্টালিকায়
টপকে বাধার পাঁচিল

বেকুব মশক জ্বালায় খালি
মানে না জাত-কুল,
তোমার ঘরে আমার ঘরে
মশার হুলস্থূল
২৫.০১.০৮ খ্রি. বনানীবাড়ি, কোর্টপাড়া, চুয়াডাঙ্গা

ছিঁচকাঁদুনে

ছিঁচকাঁদুনে দাদু মশাই
সদায় কাঁদেন নাকে,
কাঁদার চোটে ঘাম জমে যায়
তেলতেলে তার টাকে

কথায় কথায় কাঁদেন তিনি
কাঁদেন দু’ চোখ বুজে,
গুঁমরে কাঁদেন একা একা
হাঁটুয় মাথা গুঁজে

শুয়ে কাঁদেন বসে কাঁদেন
কাঁদেন ঘুমের ঘোরে,
রাতদুপুরে কেঁদে ওঠেন
বিকট রকম জোরে

কী কারণে কাঁদেন তিনি
কেউ বোঝে না তা,
অকারণে কেঁদে কেঁদে
মাথায় তোলেন গাঁ
২৩.১০.০৭ খ্রি. বনানীবাড়ি, কোর্টপাড়া, চুয়াডাঙ্গা

মঙ্গলবার, ২৪ মে, ২০১১

কবিরাজের পরামর্শ

মাঙনা দিলাম পানিপড়া

বুদ্ধি দিলাম ফাউ,

রাত বারোটায় উঠে খাবা

ঠাণ্ডা ভুরোর জাও


সোমবারে খাও আরসিকোলা

রামছাগলের গোশ,

কচুরপাতা ঘুটে খাবা

দিচ্ছিনে ভাই ফোঁস


রোজ শনিবার ভরদুপুরে

খাবা ব্যাঙের ঝোল,

সালাদ করে কাঁচা খাবা

বিলেতি দুই ওল


জোছনা রাতে মাখবা গায়ে

পোড়া কাঠের খার,

ভালো হবে নিউমোনিয়া

যক্ষ্মা ও ক্যানসার


কাঁচা ঝালের রসও খাবা

রোজ ভোরে তিন কাপ,

দু’ কান ধরে বিদায় নেবে

সব অসুখের বাপ

০২.১১.০৭ খ্রি. বনানীবাড়ি, চুয়াডাঙ্গা

গোল

গোল আলু সে দেখতেও বেশ

অনেক ট্যারা ব্যাঁকা,

গোলপাতা কি গোলগোল সব

যায় না এমন দ্যাখা


কোন পাগলের গোল পা আছে

পা দুটো নয় গোল,

কোথায় এমন শিখলো মানুষ

আজগুবি সব বোল


কোন্ ছাগলের গোল ছা আছে

লম্বা তা বেশ ঢের,

মিলিয়ে দ্যাখো আকাশ-পাতাল

বাস্তবে হেরফের


ফুটবলারে বল মেরে দেয়

ঢোক বারে ঢোক ঢোক,

মিথ্যে কেবল গোল গোল কয়

সব বোকা দর্শক


মাল সবই কি গোল গোল হয়

নাম কেন গোলমাল?

কাকে কী সব বলছি যেন

মাথা মগজ টাল!


গণ্ডগোলের গোল কী আছে

গোল খুঁজে কেউ পান?

ভুল কথা কেউ বললে এবার

দেবেন মলে কান

২৪.৮.১৯৯৫ খ্রি.

হরিপাল

নাম তার হরিপাল
বাড়ি নাকি চাটগায়,
দিনে দেয় পঞ্জাবি
রাতে ফুলশাট গায়

সে বিরাট ভঙ্গিতে
ডাঁট মেরে টঙ্গিতে
ভাব নিয়ে একা যায়,
পাচারের লোকজন
তার সাথে দেখা যায়

লোকটা কী তাজারে,
অতো মোটা মেলে নাতো
দশ-বারো হাজারে-
যেই ঘোলা জল খায়
পায়ে বেশি বল পায়
তারপরে ছুটে চলে
বড় মগবাজারে

সোমবার, ২৩ মে, ২০১১

পালোয়ান

ইয়া বড় গোঁফধারী কী বিরাট পালোয়ান,

রোজ ভোরে জেগে কয় শিগগিরিই আলো আন

তারপরে সারা দেহ দুই হাতে চুলকায়,

জল ঢেলে ঢকাঢক বিশ কেজি গুল খায়


নাস্তায় খেতে লাগে সাত মণ জলপায়

বিশ মণ ছোলা খেলে গায়ে বেশি বল পায়

ষাট হালি ডিম তার সকালের চালপানি

তারপরে আরো খায় ভরে দুই গাল পানি


এক গালে পানি ধরে মেপে মেপে নয় কেজি

দুই গাল খেলে তবে হয় বলো কয় কেজি?

দুপুরেতে খায় রোজ আলু চাল পাক করে,

দুই টন হবে নাকি লোকে কয় তাক করে


মাছ গোশ খেয়ে খেয়ে কী বিশাল পেট তার,

হাতি ঘোড়া খেয়ে নিতে হয় নাকো লেট তার

একদম মিছে নয় আলবতই সত্যি-

তাকে দেখে ভয় পায় দেও দানা দত্যি


এতো বড় পালোয়ান দেখে যদি বিল্লি

ভয় পেয়ে চলে যায় ভারতের দিল্লি