ধান্দা মিয়ার নান্দা পেট লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ধান্দা মিয়ার নান্দা পেট লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

আমার ছড়ায়



আমার ছড়ায় সর্ষে ক্ষেতের ভূত তাড়াবে
হাল জামানার অসংগতি খুত তাড়াবে
দাদন খেকো মহাজনের জুত তাড়াবে
অত্যাচারী শোষক রাজার দূত তাড়াবে।

আমার ছড়ায় আঁধার নিকষ রাত তাড়াবে
বর্গী দালাল গুপ্ত ঘাতক জাত তাড়াবে
হাজার রকম লুটিং পাটিং খাত তাড়াবে
- কপোট বেহায়া বজ্জাত তাড়াবে।

আমার ছড়ায় রক্ত চোষা জোঁক তাড়াবে
ফসল ক্ষেতের পতঙ্গ কীট পোক তাড়াবে
ছদ্মবেশী খুনি বেকুব লোক তাড়াবে
আমজনতার দুঃখ ব্যথা শোক তাড়াবে।
০৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৮
বনানীবাড়ি, কোর্টপাড়া, চুয়াডাঙ্গা।

কালো টাকা



আঙুল ফুলেই কলাগাছ তিনি
ব্যাংকে জমানো কালো টাকা,
বছরে বছরে বিলিয়ে ছিটিয়ে
করে নেন শাদা-ভালো টাকা।

মিয়া মিয়া কয়ে সকলে পাগল
দাদনে ছাড়েন মেলা টাকা,
সীমা রেখা নেই জমা-খরচের
পাচার করেন ফেলা টাকা।

কারসাজি আর দুর্নীতি করে
রাতারাতি খুবই হলো টাকা,
একটাকা কারো ধারদেনা দিলে
আদায় করেন ষোল টাকা।

তার কাছে সব নম নম ভাব
কতোজন নিতে আসে টাকা
মাতবর যতো পকেটে ওনার
বাড়ে তাই মাসে মাসে টাকা।
১৭ জুলাই ২০১৩
হাজিবাড়ি, মুক্তিপাড়া, চুয়াডাঙ্গা।

রবিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

বাঁধ

ফারাক্কা বাঁধ দিয়ে দেশের কী হয়েছে কমুনা
দু চোখ দিয়ে দেখতে হবে বীভৎসতার নমুনা
নদ নদীরা শুকিয়ে খাল
পরিস্থিতি বেসামাল
চরের বুকে কাঁদছে বসে পদ্মা মেঘনা যমুনা।

আবার শুরু ফন্দি ফিকির বাঁধলো টিপাই মুখ
আল্লাদে সব গদগদ আহারে সুখ সুখ
ভিজে বিড়াল চিনি চিনি
এদেশ নিয়ে ছিনিমিনি
খেলছে বসে মনমোহন ও মমতা উল্লুক।
২৫.০২.২০১২ বনানীবাড়ি, কোর্টপাড়া, চুয়াডাঙ্গা।

রবিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১১

থাকে যদি

সব্বারই সম্মান
নেই কারো কম মান
এই দেশে,
গুড ম্যান ফিটফাট
লম্পট চিটপাট
নেই দেশে?

থাকে যদি টান দাও
কেটে তার কান দাও
ছেড়ো না,
ঝেড়েঝুড়ে ছাফ করো
বুঝে শুনে মাফ করো
নেড়ো না।

ধরো তাকে শিগগির
জনগণ জিক্কির
তোলছে,
বেধে যাবে টক্কর
দস্যির চক্কর
বলছে।

শনিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১১

বলেন দৃঢ় চিত্তে

বলেন দৃঢ় চিত্তে-
আমরা দেশের সূর্য সেনা
পারবো সবাই জিততে।

জিততে পারেন তর্কতে-
লক্ষ লোকের হাততালি আর
খোদার দয়ার বরকতে।

স্বপ্নে দেখেন নিতান্ত-
যুদ্ধ এলে লোকটা নাকি
নিজেই লড়ে জিত আনতো।

শুনতে লাগে বিরক্ত-
মুখে যতোই ছুটাক বুলি
দেবে মোটেই কি রক্ত?

বয়েসটা তার বাড়ন্ত-
যাকে তাকে নির্বিচারে
মেরে করে হাড় অন্ত।

সব শুনলে; কিন্তু না-
এখন তাকে সবাই চেনে
আগে তেমন চিনতো না।

নাম হলো তার প্যাঁচাল;
পুরান কথা বলতে গেলেই
বাধায় খালি খ্যাঁচাল।

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুন, ২০১১

হিরেনাথ

নাম তার হিরে নাথ
সংক্ষেপে হিরে,
হেঁটে হেঁটে পথ চলে
চায় ফিরে ফিরে-
হামবড়া ফিটফাট
লোকে কয় চিটপাট
আড়চোখে তাকিয়ে সে
কথা কয় ধীরে;
হিরেনাথ হিরে

কর্তা

শহরেই কাজ তার

যায় কোট-টাই মেরে,

সাধারণ মানুষের

টাকাকড়ি খায় মেরে


বাম হাতে কম পেলে

টেকো মাথা চুলকায়,

টেনশনে মাঝে মাঝে

নস্যি ও গুল খায়


স্যার স্যার বলে লোকে

করে খালি আবদার,

কথা কয় কম কম

জমিদারি ভাব তার


কিন্তু সে কেউ নয়

অফিসেরই কর্তা,

সব কাজ করে দেবে

যদি হয় পড়তা

০৮.৭.১৯৯১ খ্রি.

মঙ্গলবার, ৩১ মে, ২০১১

ব্যবসার ধরন

টেনে ধরা যায় নাতো আর বাজারঘোড়ার লাগাম,
আসছে রোজা আরেক দফা বাজার বাড়ে আগাম
ব্যবসাদারের সুখের কপাল কষে কোমর বাঁধেন,
দোকানঘরে বসে বসে সরু গোঁফে তা দেন

মহাজনে সুযোগ বুঝে সুদে ছাড়েন দাদন,
গরিব লোকের বেহাল দশা দু’ চোখ জুড়ে কাঁদন
মুনাফাখোর মজুদদারের কপাল খোলে রোজায়,
মুচকি হাসেন গুদামঘরে খাদ্য রেখে বোঝাই

আড়তদারের পোয়াবারো ভুড়িতে হাত বোলান,
বাড়তি দামের বেচাকেনায় হাতের আঙুল ফোলান
এই হলো গে বাংলাদেশের সব ব্যবসার ধরন,
ওদের ফাঁদে পড়লে লোকের গলায় ওঠে মরণ
০৫.৯.০৮ খ্রি. বনানীবাড়ি, কোর্টপাড়া, চুয়াডাঙ্গা

মঙ্গলবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১১

রাজার ছড়া

আমরা রাজার দেশের মানুষ

রাজার দেশে বাস,

খুদকঁড়ো আর এটোকাঁটা

খাচ্ছি বারো মাস


মাছ মাংস ডিম জোটে না

বছরে একদিন,

দিনে দিনে যাচ্ছে বেড়ে

কর্জ দেনা ঋণ


রাজা সাহেব ঠাণ্ডা ঘরে

কোর্মা-পোলাও খায়,

ঠ্যাঙের ওপর ঠ্যাং দুলিয়ে

ভিনদেশি গান গায়


হতচ্ছাড়া রাজা মশাই

নিজে খেলেই খুশি,

আমরা কেবল খিদে পেলে

হাতের আঙুল চুষি

০৭ জুন ১৯৯৭ খ্রি.


বুদ্ধি

বুদ্ধিমানের বুদ্ধি দেখো

নাম হলো তার বুদ্ধ,

ঘরের ভেতর বসে বসে

করে লড়াই যুদ্ধ


পানি খেতে গেলাসটা খায়

পান খেতে খায় বাটা,

খিদেয় যখন পা চলে না

খায় টমেটোর খাটা


ডাকলে সে তার কানটা খায়

আরসিকোলা ফান্টা খায়

পরীক্ষাতে আণ্ডা খায়

রাস্তা-ঘাটে ডাণ্ডা খায়


কাজে কামে ঘোল খায়

কেদারায় দোল খায়

খায় ভাজা ভুড়ি,

পেট মোটা হয়ে গেলে

খায় হামাগুড়ি


নাম হলো তার বুদ্ধ

ডিম গেলে সবসুদ্ধ

আজব যত কাণ্ড করে

কাজ করে বেহুদ্দ

কবিরাজ

জেহালার হবিরাজ

নামকরা কবিরাজ

রোগী দেখে রোজ রাত

বারোটায়;

কেরামতি তার ওটাই


এলেই রোগী ছাদকা ধরেন

খাপছাড়া সব প্রশ্ন করেন

রোগী ভয়ে চেঁচায়,

জায়গাজমি বেচায়


ধমক দিয়ে অসুখ সারেন

মধ্যিমাঝে গুঁতো মারেন

লোকটা বেজায় চতুর;

তার পাল্লায় পড়লে এসে

সব রোগী হয় ফতুর

২৪ অক্টোবর ১৯৯০ খ্রি.

কৃষ্ণপুর, চুয়াডাঙ্গা।

মনিরাম ডাক্তার

মনিরাম ডাক্তার

দেন ক্যাপসুল,

খেলে মাথা ঠনঠন

কাজে হয় ভুল


 লিকলিকে বডি যার

দেন ভিটামিন,

বিছানায় পড়ে থাকে

রোগী সাত দিন।


লিখে দেন ট্যাবলেট

খাপছাড়া দাম,

খেয়ে রোগী নিমেষেই

ভোলে নিজ নাম।


ডাক্তার মনিরাম

নাম করা খুব,

জ্বর-জ্বালা হলে কন

ঘাটে দাও ডুব।


বাদামের তেল দিয়ে

এক বাটি নুন,

খেতে কন ডাক্তার

যার বাঁশে ঘুণ।


আজগুবি ডাক্তার

নাম মনিরাম,

তার কাছে ট্যাবলেট

করে ডান বাম!

সোমবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১১

বিধিলাল গাঙ্গুলী


ভরা শীতে সেই দিন
বিধিলাল গাঙ্গুলী-
মাঝরাতে খালি গায়ে
উঠে খেলে ডাংগুলি

এরপরে আজগুবি
জুড়ে কয় চিৎকার-
ঘর ছেড়ে চলে এসো
গায়ে লাগে শীত কার?

তারপরে বিধিলাল
ডুব দেয় পুকুরে,
চোর ভেবে ঠেসে ধরে
একদল কুকুরে