বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১১

মুন্নির কাছে চিঠি

মুন্নি প্রথম শুভেচ্ছা নিস নিঝুম রাতে লিখছি তোকে চিঠি
পুরোনো সেই দিনগুলোকে একটু মনে পড়ে কি লক্ষ্মীটি
আমের বনে আজও ডাকে মধুর সুরে ঘুঘু দোয়েল টিয়ে
রঙ ছড়ানো স্মৃতিরা সব আপন মনে গিয়েছে হারিয়ে।

পুলক মাখা নানা রঙের সেই মায়াবি দিনের কথা শোন
বুকের খামে আটকে রাখা স্মৃতির পাতা খুলেই দি এখন
বাঁশ বাগানের পুকুরপাড়ে ভর দুপুরে হতো চড়ুইভাতি
ধুলো-বালির রান্নাবাড়া কী হইচই লাগতো মাতামাতি।

আমরা দুজন রোজ বিকেলে তোদের বুড়ো তমাল গাছের নিচে
বসে দিতাম পুতুল বিয়ে নানান ছলে হবে কি সব মিছে?
যাগগে ওসব এবার বলি এখন আমার একলা কেমন লাগে
তোকে ছাড়া ভাল্লাগে না সেই মায়াময় স্মৃতির আবেশ জাগে।

জোছনা ধোয়া রাতে যখন আকাশখানা তারায় তারায় ভরে
স্মৃতিরা সব অধির হয়ে ভাবনা নামের সপ্ত ডিঙেয় চড়ে
থোকা থোকা জোনাক পোকা যখন ঝিঁঝির সুরেলা গান শোনে
উদাস বাউল ভাবনা এসে বসে আমার উতলা এই মনে।

সারা রাতের শিশির ঝরা দুর্বাদল ও বুনো সবুজ ঘাসে
কুসুম ভোরের কচি রোদে স্বপ্ন আমার মুখ লুকিয়ে হাসে
রঙিন রঙিন মধুর স্মৃতি কী আনমনে কোথায় এখন থাকে
নেই জানা তা কোন পাহাড়ে কোন অচেনা কোন অজানার বাঁকে।

কোমল কোমল পরশ মাখা ছেলেবেলার সেদিন আমার ছিল
কোন ফাঁকে কোন দানব এসে মাতম করে সব ছিনিয়ে নিলো
আশিস ঢালা কী মধুময় কী মনোরম কী আদরের দিন
হারিয়ে তাই করুণ ব্যথায় আজও আমার বুক করে চিনচিন!
১৯৯১ খ্রি. দর্শনা ডিএস মাদরাসা, চুয়াডাঙ্গা।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন