‘বাজারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। একের পর দ্রব্যমূল্য বেড়ে চেলেছে। যারা সরকারে থাকেন তাদেরতো বাজার করা লাগে না। এ কারণেই তারা বুঝতে পারেন না থলে ভরার কী জ্বালা। বাজার থেকে তরিতরকারি কিনে থলে ভরতে কত টাকা লাগে এ হিসেব তাদের কাছে থাকে যাদের বাড়িতে পুকুরের ইলিশ মাছ বলে কেউ বখশিস নিয়ে যায় না। যারাই সরকারে আসেন তারাই বলেন বিশ্ববাজারে জিনিসের মূল্য বৃদ্ধির ফলে এ দেশেও বাড়ছে। যদি তাই হয়ে থাকে বিরোধী দল কি বিশ্ব বাজারের খোঁজখবর রাখে না। নাকি বিরোধিতার খাতিরেই বলা? দেখেছি চার দলীয় জোট যখন ক্ষমতায় ছিল তখন বিরোধী দলীয় নেত্রী বলতেন দ্রব্যমূল্যে ঊর্ধ্বগতির কারণে দেশের মানুষের কাহিলদশা। সে সময়ের সরকার বলতো দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। তখন জ্বালানি তেলের দাম বাড়ালে বিরোধীদল নেতিবাচক মন্তব্য করতো সরকারের বিরুদ্ধে। সরকার বলতো আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়াও ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে। আজকের সরকার আর বিরোধীদল কিন্তু সেই পুরোনো কথাই বলছে। সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে। ঠিকই আছে। পয়সার এ পিঠ আর ও পিঠ।’ জনৈক প্রধান শিক্ষকের সাথে বাসের ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে কথা হচ্ছিল। তিনি আমার কথা শেষ হতে না হতেই বেশ ক্ষোভের সাথে সরকার আর বিরোধীদলের চরিত্র ব্যাখ্যা করলেন। আমিও মিলিয়ে দেখে চুপচাপ থাকলাম। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলেই ছিলাম। আকস্মিক পরিদর্শনে এলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার জিয়াউল হক। খুব ভালো মানুষ তিনি। সাথে ছিলেন সাংবাদি জামশেদুল হক মুনি। স্কুল বাদেও তাদের সাথে অন্য প্রসঙ্গে কথা হয়।
আগামী শুক্রবার অর্থাৎ ২৩ সেপ্টেম্বর আলমডাঙ্গার জেহালা ইউনিয়নের মুন্সিগঞ্জে অনুষ্ঠিত হবে চুয়াডাঙ্গা জেলা লেখক সম্মেলন ও সাহিত্যসভা। আমি আয়োজকদের মধ্যে একজন। কারণ আমি জেহালা ইউনিয়নের মানুষ। তাই ওখানে আমার কিছু দায়িত্ব আছে। আয়োজনের দিন অনুষ্ঠানটি কীভাবে সাজানো হবে সে ব্যাপারে মুন্সিগঞ্জে গিয়ে লেখক জামান লিঙ্কনের সাথে আলোচনা করি। আলোচনা হয় মঞ্জুরুল হক। মুন্সিগঞ্জ অনির্বাণ সাহিত্য সংসদ আয়োজিত অনুষ্ঠান সকাল ১০টার মধ্যেই যাতে শুরু হয় সে ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মুন্সিগঞ্জ থেকে ভাবলাম গ্রামে গিয়ে মা’র সাথে দেখা করবো। আকাশে প্রচণ্ড মেঘের কারণে সিদ্ধান্ত নিলাম আগামীকাল যাবো। চুয়াডাঙ্গায় ফিরে কবরীরোডে ঢুকেই বৃষ্টির কবলে পড়লাম। কোর্টপাড়ার বাসায় ঢোকার আগেই ভিজে একাকার। মোবাইলফোন দুটোও ভিজে যায়। আধাঘণ্টার মধ্যেই ঝলমলে রোদ ওঠে। বাসায় বিশ্রাম নিলাম। রাতে মোবাইলফোনে কথা হয় দর্শনার ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের মহিদুল ইসলাম ময়ে ভাইয়ের সাথে। তার সাথে আমার ছেলেবেলার অনেক স্মৃতি আছে। ওনাদের বাড়িতে আমি গৃহশিক্ষক হিসেবে অনেক বছর ছিলাম। ৮০ দশকের গোড়া থেকে একেবারে শেষ পর্যন্ত। আলাপের মধ্যেই অনেক স্মৃতি উঁকি দিয়ে যায়। পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করতে বেশ ভালো লাগে। ইচ্ছে করে সেই সোনালি দিনগুলোয় আবার ফিরে যাই। কিন্তু তা কি আর হয়?
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন