রবিবার, ৬ এপ্রিল, ২০১৪

মুজিবনগরে ৪ এপ্রিল ২০১৪


সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের সাথে বিশিষ্ট ছড়াকার আহাদ আলী মোল্লা


সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের সাথে কিছুক্ষণ

_আহাদ আলী মোল্লা

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান কবি সৈয়দ শামসুল হক চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে গেলেন মুজিবনগরে। গত বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টার দিকে জাপানি একটি টিমের সাথে মাইক্রোবাসযোগে সেখানে যান তিনি। চুয়াডাঙ্গা জেলা লেখক সংঘের সাধারণ সম্পাদক কবি ময়নুল হাসানের কাছে ফোন দিয়ে কবি জানিয়েছিলেন আমি একা নই, এ কারণে চুয়াডাঙ্গায় নামতে পারছি না তুমি বরং কাল শুক্রবার (৪ এপ্রিল ২০১৪) মুজিবনগরে এসো দেখা হলে ভালো লাগবে। শ্রদ্ধাভাজন ময়নুল হাসান আর আমি শুক্রবার সকাল ১০টায় মোটরসাইকেলযোগে রওনা দিলাম সেখানে। দামুড়হুদা-কার্পাসডাঙ্গা হয়ে মুজিবনগরে যখন পৌঁছুলাম ঘটির কাঁটায় বেলা সোয়া ১১টা। দেখা হলো দৈনিক মাথাভাঙ্গার মুজিবনগর প্রতিনিধি সফি উদ্দিনের সাথে। তিনি মুজিবনগরের বিশেষ বিশেষ কয়েকটি স্থাপনার সামনে দাঁড়িয়ে আমার আর ময়নুল হাসান ভাইয়ের ছবি তুলে দিলেন। কিছুক্ষণ পর স্মৃতি ফলক থেকে গেলাম বাংলাদেশের বিশাল মানচিত্র স্থাপনার কাছে। সেখানে চোখে পড়লো সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক জাপানি টিমের সাথে কাজ করছেন।

       জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর নির্মিতব্য একটি প্রামাণ্য চলচ্চিত্র চিত্রায়ণের জন্যই কবির আগমন মুজিবনগরে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তত্ত্বাবধানে এ প্রামাণ্যচিত্রের নির্দেশনায় রয়েছেন কবি। জাপানি কলাকুশলীরা দিনভর চিত্রায়ণের কাজ করছেন। বেলা সোয়া ১২টার দিকে কবির ডাক পড়লো জেলা পরিষদের ডাকবাংলো সূর্যোদয়ের নিকটবর্তী গণপূর্ত বিভাগের রেস্ট হাউসে। ওখানেই আছেন কবি। আমি আর ময়নুল হাসান ভাই সেখানে যেতেই আপ্যায়নের ব্যবস্থা করলেন তিনি। আপেল, আঙ্গুর, বিস্কুট আর মেহেরপুরের বিখ্যাত সাবিত্রী। সাথে চা। চললো ফটোসেশন। বিখ্যাত কবি সৈয়দ শামসুল হককে একান্তে পাওয়া খুব দুরূহ ব্যাপার। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে তিনি একান্তে হাস্যোজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত আলাপ করলেন আমাদের সাথে। খোঁজ নিলেন ময়নুল হাসানের লেখালেখি ও তার পরিবার সম্পর্কে। এ সময় ময়নুল হাসান তার সদ্য প্রকাশিত কাব্যগন্থ যদি ভালোবাসা দাও কবির হাতে তুলে দিলেন। কবি এ সময় দুপুরের খাবারের জন্য আমাদের আমন্ত্রণ জানালেন। কিন্তু পাশের গ্রামে আমাদের দাওয়াত থাকায় কবির সাথে খাওয়া হলো না।

       দেশবরেণ্য কবি সৈয়দ শামসুল হকের বয়স আশির কোঠায় গেলেও তিনি ভেঙে পড়েননি। এখনো কর্মচঞ্চল। প্যান্ট আর গেঞ্জি পরিহিত অবস্থায় তাকে দেখে বোঝাই যায় না তার বয়স হয়েছে। শুধু পোশাকেই তিনি তরুণ নন, মনের দিক দিয়েও তিনি চির সবুজ, কাজেও চঞ্চল। তাকে খুব কাছ থেকে দেখে অনুপ্রেরণা জাগে, যেমন আমার মধ্যেও জেগেছে। কবির সাথে প্রায় আধাঘণ্টা কাটানোর পর বিদায় নেয়ার সময় তিনি বারবার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছিলেন আমাদের হাতের দিকে। কয়েকবার হ্যান্ডশেক করলেন আমাদের সাথে। কবি ময়নুল হাসান আর আমার উদ্দেশে তিনি বললেন- কারো সহযোগিতা নয়, লিখে যাও, শুধু লিখে যাও। তোমার লেখাই একদিন তোমাকে জায়গা করে দেবে এ দেশের সব পাঠকের মনে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন