গভীররাতে ডাহুক ডাকে ঘন বাঁশের ঝাড়ে,
হিঞ্চিডগা ঝিলের জলে নতুন কুশি ছাড়ে।
শাপলা কুমুদিনী ফোটে কমলা দিঘির জলে,
রোজ বিহানে যায় ভরে কূল বক-সারসের দলে।
দিঘির কালো সরোবরে কলমিলতা হাসে,
হাঁসরা পাখায় মুখ লুকিয়ে আপন মনে ভাসে।
আলতো কদম ফেলে নদী চলে নিরুদ্দেশে,
পানকৌটি-হাঁসপাখিরা সময় কাটায় ভেসে।
গাঁয়ের মাঠে পানের বরজ হিজল-তমাল বন,
বাউরি বাতাস তাদের সাথে জমায় আলাপন।
ছোলা ধনে মুগ মসুরি তিষি মটরশুঁটি-
মসনে কাউন ভুরো মাঠে হেসেই কুটিকুটি।
কমলা দিঘির কোলে কোলে বনধুঁদুলের ঝোঁপ
নিঝুম ঝোপের হাঁটুজলে বাস করে কচ্ছোপ।
প্রজাপতির মনের কথা মেঠো ফুলের কানে-
যায় কয়ে রোজ সংগোপনে কে সেই খবর জানে?
বুনো কোকিল সাথি হারায় বউটুবানির বনে,
বঁইচি ঝোঁপে ঘুমায় শুয়ে ধানশালিকের কনে।
কুসুমভোরে আবির রঙে সূর্য হেসে ওঠে,
চাঁদটা এসে রঙ মেখে দেয় কালো রাতের ঠোঁটে।
মনে সে কী পুলক জাগায় বুনো পাখির ঝাঁক,
মৌমাছিরা শিমুল ডালে নেয় বেঁধে মৌচাক।
সবুজ ঘাসের ফটিং শিশির হারায় পায়ে পায়ে
আমার সোনা মায়ের কোলে জন্মেছি যেই গাঁয়ে।
২৭.৮.১৯৯৫ খ্রি. কৃষ্ণপুর, চুয়াডাঙ্গা।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন