রবিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১১

১৭ সেপ্টেম্বর ২০১১

            শ্বশুরালয়ে যাওয়ার কথা। শ্বশুরের শরীর খারাপ। তিনি অ্যাজমা রোগী। বৃষ্টিতে ভিজলে রোগ বেশি বাড়ে। সেদিন বৃষ্টিতে ভেজার কারণেই এমনটি হয়েছে বলে ফরিদা আমাকে জানালো। গতকালাই ওনাকে দেখতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় যাওয়া হয়নি। আজ সকাল থেকেই মেঘলা। মাঝে মাঝে রোদ। মাঝে মাঝে বৃষ্টি। এভাবেই বেলা সাড়ে ১১টা। ফরিদা আর আমি মোটরসাইকেলযোগে যখন দামুড়হুদার পোড়াপাড়ায় তখন বৃষ্টিতে বাধা পড়লাম। স্থানীয় যাত্রীছাউনির বদৌলতে রক্ষে হলো। চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের বাঘাডাঙ্গা গ্রামে শ্বশুরবাড়ি। ওখানে পৌঁছুনোর পরপরই জোহরের আজান হলো। শ্বশুর মুরব্বি মানুষ। জামাইয়ের জন্য তার আদরের কমতি নেই। উনি আমার জন্য নিজের হাতে বাজার করেছেন। শাশুড়িও রান্না করেছেন অনেক তরিতরকারি। জামাই বলে কথা। ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দের ১৩ ফেব্রুয়ারি আমার বিয়ে হয়েছিল। মজার ব্যাপার হলো বরযাত্রীসহ বিয়ে করতে গিয়েছিলাম নৌকাযোগে। এখন নৌকায় বিয়ের কথা শুনে অনেকেই বিস্মিত হয়।
            আকাশে মেঘের আনাগোনা বন্ধ হয়নি। মনে হচ্ছে আবারও বৃষ্টি নামবে। ফরিদাকে তাগিদ দিলাম। বেরুনোর জন্য। বেলা সাড়ে ৩টার মধ্যে আমরা রওনা দিলাম বাড়ির উদ্দেশে। কার্পাসডাঙ্গা বাজারে এসে স্নেহভাজন শরীফ সাথীর কাছে থামতে হলো। সে কবিতা লেখে। আমার বেশ ভক্ত। চা না খাইয়ে ছাড়লো না সে। এই সুযোগে কিছু সবজি বাজার করে নিলো ফরিদা। সাথে ছিল ওর ছোটভাই শাহাবুল। ও বেশ আন্তরিক। কোনো কিছুর দরকার হলে ওকে বললে যেভাবেই হোক তা জোগাড় করেই ছাড়ে। এ গুণ অস্বীকার করার জো নেই। মোটরসাইকেলের পেছনে কায়দা করে সে থলেটি শক্ত করে বেঁধে দিতেও ভুল করলো না। চুয়াডাঙ্গায় ফিরে একটু ঘুমিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু মেঘের গুম গুম ডাকে তা হলো না। মনে হচ্ছে অঝোরে বৃষ্টি নামবে। সন্ধ্যা ৭টার দিকেই মাথাভাঙ্গা অফিসে বেরিয়ে পড়লাম। অফিসে ঢুকতে না ঢুকতেই শুরু হয়ে গেল বৃষ্টি। বিশেষ কাজ থাকায় ছাতা মাথায় দিয়ে গেলাম নিউমার্কেটে। আগামীকাল ভোরে যশোর যাওয়ার কথা। শিক্ষাবোর্ডে কাজ। তাই রাত পৌনে ১২টার দিকে বাসার উদ্দেশে মাথাভাঙ্গা ত্যাগ করলাম।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন