রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১১

০৯ সেপ্টেম্বর ২০১১

বাড়াদী গ্রামের ভারত সীমান্তবর্তী স্থানে আমিসহ আমার বন্ধুদের কয়েকজন
            সকাল থেকেই মেঘের আনাগোনা। শরতের আকাশে মেঘ অনেকটা আকস্মিক। সকালে কয়েক পশলা বৃষ্টি হয়েছে। ভাবছি দিনটা ভালো যাবে কি না। প্রত্যেক ঈদের পর আমরা বেশ কিছু বন্ধু এক জায়গায় মিলিত হই। যাকে বলে ঈদ পুনর্মিলনী। দিনভর চলে আড্ডা আর খাওয়া দাওয়া। আজ বন্ধু শমসের আলীর বাড়িতে আয়োজন। চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলাধীন পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের বাড়াদী গ্রামে শমসেরের বাড়ি। একেবারে ভারত সীমান্তবর্তী গ্রাম। বন্ধুর বাড়ির কাছেই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত। কাছ থেকেই চোখে পড়ে ভারতের কাঁটাতারের বেড়া।
            আশির দশকে দর্শনা ডিএস সিনিয়র আলিয়া মাদরাসার ছাত্র ছিলাম। সেখানে লেখাপড়া করতে গিয়ে অনেকেই আমরা ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠি। দামুড়হুদার বড় দুধপাতিলা গ্রামের সাজ্জাদ, বাড়াদী গ্রামের শমসের, দর্শনা পুরাতন বাজারের রাজা, ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের আলম, সদবরী গ্রামের আব্দুল আলিম, জীবননগরের রফিক, সেনেরহুদা গ্রামের মোশাররফ, একই গ্রামের তোতা, ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার কুসুমপুরের রফিক, আলমডাঙ্গার ভাংবাড়িয়া গ্রামের রুহুল আমিন, পারদুর্গাপুরের আসাদ ও কৃষ্ণপুরের আমিসহ বেশ কজন আমরা ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আসাদ ছাড়া সবাই আমরা পৌঁছুলাম শমসেরের বাড়ি। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গা থেকে রওনা দেয়ার সময় দামুড়হুদার কোষাঘাটা এলাকায় বৃষ্টি পড়া শুরু হলো। টুকটাক করে যখন দামুড়হুদা পৌঁছুলাম তখন শেয়ালভেজা অবস্থা। ওখানে খানিক দাঁড়াতেই আবহাওয়া ভালো হয়ে উঠলো।
            দুপুরে খাওয়া দাওয়ার আগে বন্ধুরা সবাই আড্ডা দিলাম মজা করে। ফটোসেশন চললো প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে। ছাত্র জীবনে হয়তো একই বিছানায় অনেক রাত কেটেছে আমাদের। এখন কর্মজীবনে সবাই আলাদা। একেকজন এক পেশায়। সব মিলিয়ে সবাই একটা ভালো অবস্থানে। অনেক দিন পর যখন আমরা এক জায়গায় মিলিত হই মনটা যেন পবিত্র হয়ে ওঠে। পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করে হাসিখুশি মেখে নিই সবাই। মধুর মধুর মিলনে জড়িয়ে পড়ি। ফিরে যাই পেছনে ফেলে আসা রঙিন দিনগুলোয়। ভালো লাগে। আবার যখন যে যার ঠিকানায় ফিরি, তখন বড্ড কষ্ট হয়। সেই কষ্টের মুখোমুখি হলাম বেলা সাড়ে ৩টার দিকে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন