রবিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১২

১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১২
০৪ ফাল্গুন ১৪১৮
২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩
রোজ : বৃহস্পতিবার।
পিঠা উৎসবে একটি পিঠার স্টলে সাংবাদিক কাজলের সাথি আমি আহাদ আলী মোল্লা
            বেলা ১২টার দিকে দৈনিক মাথাভাঙ্গার শ্রদ্ধেয় সম্পাদক সরদার আল আমিন ফোনে জানালেন জীবননগরে যেতে হবে। বিকেলে জীবননগর কাজী টাওয়ারে পিঠা উৎসবের উদ্বোধন। তিনি এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। সেইভাবে গুছিয়ে নিলাম। ভাবলাম পিঠা উৎসবে গেলে ভালোই লাগবে। বেলা আড়াইটার দিকে চুয়াডাঙ্গা থেকে প্রাইভেট নিয়ে রওনা দিলেন সম্পাদক। উনি নিজেই ড্রাইভিং করছিলেন। সাথে সম্পাদকপত্নী লুনা শারমিন শশী এবং তাদের দু সন্তান সংকেত ও শীর্ষ আছে। প্রাইভেটে ওঠার সময় দেখলাম স্নেহভাজন সাংবাদিক আনজাম খালেকও রয়েছে। কাজী টাওয়ারের কাছে পৌঁছেই জাকজমক আয়োজনের নমুনা চোখে পড়লো। খানিক ঘুরে ঘুরে দেখছিলাম পিঠা উৎসবের স্টলগুলো। আমার সঙ্গী হলেন সাংবাদিক সালাউদ্দীন কাজল ও এম আর বাবু।

            নানা রঙের পিঠার হরেক রকম নামবাহারি স্বাদের পিঠার পসরা নিয়ে জীবননগরে শুরু হচ্ছে তিন দিনের পিঠা উৎসবউদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক ভোলা নাথ দে বাঙালির রসনা বিলাসের বাহারি আয়োজনে মুগ্ধ হয়ে ছন্দে ছন্দে খনার বচন আওড়ে বলেন পিঠা খাই মিঠার লোভে, যদি পিঠা মিঠা হয়
এবারই জীবননগরে প্রথম বারেরমতো বেস্ট সয়াবিন শীতকালীন পিঠা উৎসবের আয়োজন করে জীবননগর উৎসব পরিষদকাজি টাউয়ারের দ্বিতীয়তলায় জীবননগর সাহিত্য পরিষদ, উৎসব পরিষদসহ ২০টি স্টল সাজানো হয়েছে স্টলের নাম চোখের বালি হরেক নামের পিঠাই শুধু নয়, হৃদয়হরণ পিঠাও শোভা পাচ্ছে পিঠা উৎসবে কত প্রকার পিঠা এ উৎসবে জড়ো হয়েছে সে প্রসঙ্গে একটু পরে আসছি।
শুরুতেই প্রধান ফটকের ফিতে কাটেন জেলা প্রশাসকপত্নী সবিতা দেউদ্বোধন ঘোষণা করেন দৈনিক মাথাভাঙ্গা সম্পাদক সরদার আল আমিন এরপরই শুরু হয় বক্তৃতার পালা। প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক ভোলা নাথ দে ইশারা করে আমাকে ডাকলেন। বললেন এখনই পিঠা নিয়ে একটা ছড়া বানিয়ে বলতে হবে। আমিতো বেকায়দায় পড়ে গেলাম। কী করা যায়! পিঠার নামধাম জড়ো করে পিঠার ছড়া লেখা শুরু করে দিলাম। ১৫ মিনিটের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে আমি একটি ছড়া লিখে অনুষ্ঠানে পাঠ করলাম। সবার জন্য সেই ছড়াটি এখানে দিয়ে দিলাম।

তাৎক্ষণিকভাবে পিঠার ছড়া লিখে অনুষ্ঠানে পাঠ করছি আমি আহাদ আলী মোল্লা
বাংলাদেশের পিঠা

বাংলাদেশের পিঠা পায়েশ নাম করা সব দেশে
বুঝবে মজা কী যে মধুর খাও যদি তা এসে
দেশি আটা তেল চিনি গুড় দুধ এতে নেই খাদ
মায়ের হাতে বানানো তাই মজার মজার স্বাদ।

হায়রে পিঠা পিঠার বাহার হরেক রকম নাম
কী গুণাগুণ কেমন মজা খাওয়ার পরেই দাম
ইচ্ছে মতোন খেতে পারো খুলছি পিঠার হাড়ি
শুকনো পিঠা ঝোলের পিঠা দেখো পিঠার কাড়ি।

খেলকি পিঠা খাস্তা পিঠা হাতের জাদু কুরমুড়ি
বীচি পিঠা, পাতাপিঠা, নকশিপিঠা গুড়মুড়ি
পলটা পিঠা শালুক পিঠা সবজিপুলি ভাপা পিঠা
মাংস পুলি চন্দ্র পুলি চাপা পিঠা খাপা পিঠা।

আকশি পিঠা দুবলো পিঠা ঝাল লালফুল কুরকুরি
চোরাবালি চিতুই পিঠা পাটিসাপটা ফুরফুরি
কাঁচা পিঠা চিপন পিঠা ফুল নারকেল কুলি
সরা পিঠা মুঠো পিঠা পাকান ভাপাপুলি।

সুন্দরী ছাঁচ কাজল লতা হৃদয় হরণ ঝাল পিঠা
পাপড় পিঠা কলজে পুলি সিনিজ গোলাপ তাল পিঠা
সরু পিঠা রসুন পিঠা ডিমের পিঠা ফুল পিঠা
পাটি গোলাপ ফুলের রানী তিল বরফই কুল পিঠা

কলাই ঢোকসা ফুল বিস্কুট কলার ছড়া ছিটে পিঠা
নকশি পিঠা শঙ্খ পিঠা রসের পিঠা মিঠে পিঠা
মুগের পুলি রাইচ পিঠা কেকপুডি বা ধুপি
অনেক পিঠার নাম এতক্ষণ শুনলে চুপিচুপি।

এবার বলো কোনটা থুয়ে কোনটা তুমি খাবে
সব পিঠারই স্বাদ নিয়ে যাও না হলে পস্তাবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন জীবননগর উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম মোর্তূজা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজেদুর রহমান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান হাফিজ, থানার অফিসার ইনচার্জ জি.জি বিশ্বাস, সাহিত্য পরিষদের সভাপতি অ্যাড. কাজী গোলাম মোস্তফা হায়দার, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মীর মাহতাব আলী ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আবু মো. আব্দুল লতিফ অমলশুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন উৎসব পরিষদের সদস্য সচিব মাজেদুর রহমান লিটনজীবননগর উৎসব পরিষদের আহ্বায়ক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা আক্তার রিনির সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক ভোলা নাথ দে বলেন, এ পিঠা উৎসবের আয়োজনের ফলে বাঙালির রসনা বিলাসে আজ একটি ক্ষেত্র তৈরি হয়েছেএ আয়োজনের মধ্যদিয়ে আমরা আমাদের হারানো ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে পারছিতিনি বলেন, পাশ্চাত্যের মানুষ খায় চকলেট, আর আমরা খাই মিষ্টিতিনি পিঠা নিয়ে প্রচলিত একটি খনার বচন উল্লেখ করে বলেন পিঠা খাই মিঠার লোভে, যদি পিঠা মিঠা হয়,তিনি বলেন, শীতে পিঠা খাওয়ার একটি উৎকৃষ্ট সময়জীবননগর বাংলার এ ঐতিহ্য ধারণে এগিয়ে আসছেচর্চা করছে সুকুমার প্রবৃত্তিরএ চর্চার ফলে আমাদের হারাতে বসা শীতের পিঠা আবার প্রাণ ফিরে পাবে, নুতন প্রজন্ম নিতে পারবে এর স্বাদতিনি বক্তব্য দিতে গিয়ে জীবননগর চ্যাংখালী স্থলবন্দর শিগগিরই উদ্বোধনের কথা উল্লেখ করে বলেন, মার্চেই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে
            প্রভাষক মুন্সি আবু সাঈফ মুকুর প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উৎসবের উদ্বোধক দৈনিক মাথাভাঙ্গা সম্পাদক ও প্রকাশক সরদার আল আমিন তার উদ্বোধনী বক্তৃতায় বলেন, চায়নিজ-ফাস্টফুড আর বিদেশি খাদ্যের আধিক্যের কারণে আজ আমাদের বাঙালির রান্নাঘর হতে চিরচেনা অনেক পিঠাপুলি হারাতে বসেছেতিনি বলেন, চায়নিজ-ফাস্ট ফুডের মতো আমরা যদি আমাদের পিঠাপুলি নিয়ে দোকান সাজাতে পারি, তাহলে এর ক্রেতা সৃষ্টি হবেদেখা যাবে একদিন আমাদের ঐতিহ্যের পিঠার আধিক্যে চায়নিজ-ফাস্টফুড তাদের স্থান ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেতিনি উৎসব পরিষদের এ ধরনের আয়োজনকে সাধুবাদ জানান
            বিশেষ অতিথি জীবননগর উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম মোর্তূজা বাঙালিয়ানার চিরচেনা গানের সুরে পিঠার গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য শুরু করেনতিনি ফাস্টফুডের কুফল সম্পর্কে সচেতনমূলক বক্তব্য রেখে প্রতিবছরে এ ধরনের পিঠা উৎসবের আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেনএছাড়াও অতিথি হিসেবে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক পত্নী সবিতা দে, দৈনিক মাথাভাঙ্গা সম্পাদক পত্নী শিক্ষিকা লুনা শারমিন শশী, উপজেলা চেয়ারম্যান পত্নী মোশফেকা মোর্তূজা, ইউএনও পত্নী শামসুন্নাহার, নারী নেত্রী রেনুকা আক্তার রিতা, নিলুফা ইয়াসমিন রানী, সাজেদা আক্তার প্রমুখএছাড়াও প্রেসক্লাব চুয়াডাঙ্গা সভাপতি অ্যাড. মানিক আকবর, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি চুয়াডাঙ্গার সভাপতি অ্যাড. এসএম শরিফ উদ্দিন হাসু, বিটিভি প্রতিনিধি রাজন রাশেদ, ইটিভি প্রতিনিধি এমএ মামুনসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত থেকে পিঠা উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলেন
            সন্ধ্যার আগেভাগেই আমরা জীবননগর থেকে চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশে রওনা দিলাম। একটু বিশ্রাম নিয়ে যোগ দিলাম দৈনিক মাথাভাঙ্গা সম্পাদনায়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন