শুক্রবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

২৫ জানুয়ারি ২০১২

সকাল ৮টার আগেভাগেই উঠতে হয় আমাকে। আলমডাঙ্গা উপজেলার সকল মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিদের নিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস একটি কর্মশালার আয়োজন করে। সকাল ৯টায় আয়োজিত এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে আলমডাঙ্গা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে। সেখানে যাওয়ার পথে আমার গ্রাম কৃষ্ণপুর। গ্রামে পৌঁছেই দেখলাম একটা বাড়ির পাশে বেশ মানুষের ভিড়। আমি যেন বোকা বনে গেলাম। কী হয়েছে বুঝতে আমার বেশ সময় লাগলো। কাউকে জিজ্ঞেস করতেও লজ্জা পাচ্ছিলাম। শেষমেশ মৃত্যুর সংবাদ পেলাম। আমারই ছেলেবেলার বন্ধু। প্রয়াত রহম আলী মণ্ডলের ছেলে ইনতাজ আলী। আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম। পেশায় ইনতাজ আলী কাঠমিস্ত্রি। ও আমার সহপাঠী ছিল। একই সাথে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়েছি। দারিদ্র্যের কারণে ও আর বেশিদূর পড়াশোনা করতে পারেনি। ওর লাশ দেখলাম। শুনলাম আকস্মিক স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে সে মারা গেছে। গতকাল সোমবার রাত ৮টার দিকে বুকে ব্যথা অনুভব করে। সাথে সাথে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে ইনতাজ মারা যায়। মনটা খারাপ হলো। মনে পড়লো পরপারের কথা। দুপুরে ওর দাফন হওয়ার কথা। কর্মশালায় যোগ দেয়ার তাগিদের কারণে দাফনকাজে শরিক হতে পারলাম না।
মুন্সিগঞ্জে গিয়ে দেখা হলো সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মকবুলার রহমান ও সাবেক জেহালা ইউপি চেয়ারম্যান আসিরুল ইসলাম সেলিমের সাথে। তাদের সাথে মতবিনিময় করে আলমডাঙ্গায় রওনা দিলাম। কর্মশালায় যোগদান করলাম। প্রধান শিক্ষক আর সভাপতিদের যেন এক মিলন মেলা। কর্মশালা শেষ হলো বেলা ২টায়। সেখান থেকে চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশে রওনা দিলাম আসমানখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাথে। বাসায় ফিরে দুপুরের খাবার খেতে বেজে যায় ৩টা। এরপর খানিক ঘুমিয়ে নিলাম। সন্ধ্যায় মাথাভাঙ্গা অফিসে যাওয়ার পর এক আত্মীয়কে দেখতে যাই মাস্টারপাড়ায়। পরে মাথাভাঙ্গা অফিসে কাজে যোগ দিই।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন