হাবুর দাদির বয়েস গেছে একশো কুড়ির বেশিতে
পাড়ার সবাই বলে নাকি বাঁচবে না আর এ শীতে
খকুর ভাষায় হাবুর দাদি এক্কেবারেই থুত্থুলে
রাত দুপুরে হাত তালি দেয় পল্লি গানের সুর তুলে।
আবোল তাবোল বকে শুধু ঠিক নেই তার মস্তকে
পায় যাকে কয় এই দাদু ভাই গল্প শোনাই বস তোকে
চোখের আলো অনেক আগেই গেছে ওনার নিভে যে
গাঁও গেরামের ডাক্তার কয় খাওয়াও তাকে ঘি ভেজে।
সেদিন হঠাত দুপুর বেলা উঠলো দাদি আঁতকিয়ে
কিচ্ছুতো আর যায় না বোঝা আহা গভীর রাত কী এ
না দাদি মা দুপুর এখন বললো হাবু আদরে
হাবুরা সব বসেছিলো বুড়ি দাদির গা ধরে।
রাতে দাদি চিল্লিয়ে কয় একটা বড় হাড়গিলে
এসে বোধ হয় খেয়ে গেলো আমার কাঁসার ভাঁড় গিলে
এমন কথায় নাতিরা সব কেঁদে ওঠে বিলকুলই
ব্যাপার কী রে হকচকিয়ে আমরা ঘরের খিল খুলি।
যারে তোরা দাদির কাছে হাসান সুমি সাথী যা লো
আব্বু বলে কী হলো কী তাড়াতাড়ি বাতি জ্বালো
রোল পড়ে যায় সারা পাড়ায় কী যেন কী ঘটিয়াছে
হঠাত শুনি তেল দে মাথায় ছিকেয় তেলের মটি আছে।
দাদু বলে কী হয়েছে কাউকে না হয় জিগারে
বউদি বলেন হাবুর দাদি বকছে মরণ বিগাড়ে।
০৪ অক্টোবর ১৯৯৩ খ্রি.
মহিলা কলেজপাড়া, চুয়াডাঙ্গা।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন