শুক্রবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

মায়াবী শরৎ রাণী

পেঁজা পেঁজা মেঘ ছড়িয়ে আবেগ আবছায়া ফেলে চলে
ওড়ে বালিহাঁস সেঁজুতি আকাশ আনমনে একা জ্বলে
ঝিঁঝিঁ চনমন সুরে উন্মন উতলা আবির সাঁঝে
ফুটে হইচই শাপলার খই রুপোলি ঝিলের মাঝে।

জোনাকির ঝাঁক খায় ঘুরপাক আলগোছে ঝোপ-ঝাড়ে
আলো পিটপিট জ্বালে মিটমিট কবি কবি মন কাড়ে
নিহারের দুধ পদ্ম কুমুদ খায় চুপিসারে গিলে
শাদা ফকফক দল বেঁধে বক উড়ে যায় খাল বিলে।

জোছনার বান ডাকে অফুরান মোহন যামিনী শোনে
তারকা শোভন নীলিমার কোণ রাঙা রাঙা সুখ বোনে
শিশিরের ঢল জোড়ে কোলাহল আদুরে কদম ফেলে
সারা নিশি ভোর মমতা আদর রাখে দুবলোয় ঢেলে।

অবতল চাঁদ করে আহ্লাদ শাদা গালিচার ফাঁকে
হয়ে উতরোল শুধু খায় দোল অপলক চেয়ে থাকে
ঘাটের চাতাল ছন্দে মাতাল কল্লোলে মেলে ডানা
দু’কূলে নিবিড় ছায়া ঘেরা নীড় সবুজের সামিয়ানা।

নদীর দু’ধার আহা কী উদার আরামে ঘুমায় নুড়ি
এলো উৎসব পাতা পল্লব গালে মাখে চুমকুড়ি
বায়ু ঝিরঝির মিতালি তিতির নেচে যায় মনহরা
ফিকে ফিকে রোদ ছাড়ে কী সুবোধ কাঁচা কাঁচা মিঠে খরা।

আহা ঝিলমিল গগনের নীল শোভিত উঠোন হাসে
শেফালি সুবাস ঢালে রাশ রাশ সুরভী ব্যাকুল ভাসে
কামিনী টগর জানে যা রগড় গন্ধে মাতালো তারা
মাধবীর বুক ভারি উৎসুক পাগল করেছে কারা?

কত শত ফুল শিউলি জারুল বোগেনভেলিয়া বেলি
জুঁই কেয়া নিম ধুতরা ছাতিম জবা কয় এসো খেলি
রসিক ভোমর ঢালে সে গোমর দোলনচাঁপার ডালে
রাঙালো এ মন শ্বেত কাঞ্চন পাহাড়ের ঢালে ঢালে।

পাখি দলবল ওরা চঞ্চল খুনসুটি সারা বেলা
প্রজাপতি গায় দরবারে যায় খুঁজে ফেরে মধুমেলা
মৌমাছি সব করে কলরব ঝুমকো জবার বনে
ঝিঙে তোলে ভাঁজ অপরূপ সাজ নয়নতারার মনে।

অনুরঞ্জন দোলে কাশবন অনিমেষ মেলে আঁখি
নদী ঝরনার তানে বার বার অনারত মাখামাখি
অবারিত মাঠ খেয়া পারঘাট কী যে মায়াবিনী লাগে
বালু ঝরঝর জেগে ওঠে চর অনুপম অনুরাগে।

চারি পানে ঠিক নৈঃসর্গিক গোধুলি পুলকে মাখা
হাশেম খানের তুলির টানের আলপনা আঁকা আঁকা
জানে কে বা নাম কত শত গ্রাম ডাকে হাতছানি দিয়ে
শান্তি চরম লাগায় পরম হৃদয় খোঁয়াড়ে গিয়ে।

আউশের ক্ষেত দিলো সংকেত শোনালো খুশির বাণী
শারদীয় বেশে এলো এই দেশে মায়াবী শরৎ রাণী।
# # # # # # #
২১ জুলাই ২০১৪
দৈনিক মাথাভাঙ্গা অফিস
বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন