বাপরে বাবা পণ্য বাজার তপ্ত আগুন তেতে
বেবাক মানুষ হিড়কে মরে হাট বাজারে যেতে
আলুর দেমাগ দেখে সবার চমকে ওঠে পিলে
সারা দেহেই মস্ত ব্যথা ইলিশ মাছের কিলে।
যায় পিছিয়ে খেয়ে সবাই শিম পটোলের ঘাই
কলা শাকের গজরানিতে বুকটা কেঁপে যায়
ক্রেতার মাথা ঘোরে খেয়ে লাউ বেগুনের চাটি
পুঁচকে মুলোর ধমক শুনে কেনাকাটাই মাটি।
ভীষণ রাগী বরবটিরা দেয় ফুটিয়ে হুঁল
কুমড়ো কাঁঠাল পেটায় বেদম ধরে মাথার চুল
তলা থেকে দাবড়ানি দেয় বদ-বেয়াড়া ওল
ক্রেতারা সব নাস্তানাবুদ যায় খেয়ে যায় ঘোল।
ভোড়ো কচুর মেজাজ গরম রাগে সে গড়গড়
উচ্ছে ব্যাটা গালের ওপর কষে বসায় চড়
সজনে শশা আর টমেটোর ভীষণ কড়া গুঁতো
বাঁধাকপি কিনতে গেলে ছেঁড়ে পায়ের সুতো।
ঢেঁড়শ-পেঁপের ঠেলা খেয়ে উল্টে মানুষ চিৎ
সয়াবিনের ঘুষিতে যায় হারিয়ে সম্বিত
রীতিমতো নাক পুড়ে যায় ছাট পেঁয়াজের ঝাঁজে
দাঁত খিচুনি শুটকি আদার কোয়ার ভাঁজে ভাঁজে।
বাজার জুড়ে ক্ষেপে আছে ঝাল রসুনের ধক
গাজর ক্ষীরা ঝিঙের ভাপে পোড়ে গালের ত্বক
ডিমের দাবড় খেয়ে মানুষ হুড়মুড়িয়ে পড়ে
খুঁতো চালের দাম শুনে আর জান থাকে না ধড়ে।
শাকপাতাড়ি গুড় চিনিতেই সাবাড় কামাই রুজি
মাংসে নিল ফতুর করে কেটে পকেট পুঁজি
পণ্যে দামের ঊর্ধ্বগতি উঠছে ফুলে ফুলে
লেজ গুটিয়ে ক্রেতারা তাই পালায় কাছা খুলে।
১০.৯.০৭ খ্রি. বনানীবাড়ি, চুয়াডাঙ্গা।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন