রুকু-৪
৩০.
নবীকে কন আল্লাহ তা’লা ‘একটু স্মরণ করো
ফেরেশতাদের ডেকে যখন বলি এমনতরো
পৃথিবীতে করব আমি প্রতিনিধি পয়দা’
ফেরেশতারা করল আরজ ‘এতে কি আর ফয়দা-
তারা কেবল পৃথিবীতে করবে কসুর-ঘাট
ব্যবস্থাকে নষ্ট করে বাধাবে ঝঞ্ঝাট
আমরা তোমার তারিফ করি তসবি জপে যাই
তবে কেন পৃথিবীতে প্রতিনিধি চাই?’
আল্লাহ বলেন ফেরেশতারা ‘কী সব বলো যা তা
আমি যা সব জানি তোমরা কিছুই জানো না তা।’
৩১.
আল্লাহ তা’লা তার মহিমায় আদম করেন সৃষ্টি
আদম হলো বিশ্বসভার শ্রেষ্টতম কৃষ্টি
আদমকে এরপরে খোদা সব জিনিসের নাম
শিখিয়ে দিলেন, আদম তখন বুদ্ধিতে উদ্দাম
এরপরে সব জিনিস এনে করেন খোদা জড়ো
ফেরেশতাদের ডেকে বলেন নামগুলোকে পড়।
৩২.
ফেরেশতারা লজ্জা পেলো করলো মাথা নিচু
বললো ‘তুমিই মহান খোদা জানো সকল কিছু।
যতটুকু জ্ঞান দিয়েছো ততটুকুই জানি
আপনি সবাই জানেন বোঝেন হলফ করে মানি।’
(১২.৭.০৯ খ্রি. বনানীবাড়ি, কোর্টপাড়া, চুয়াডাঙ্গা।)
৩৩.
আল্লাহ বলেন ‘আদম তোমায় আদেশ দেয়া হলো
সব জিনিসের শেখানো নাম ফেরেশতাদের বলো।
সহজভাবে বললো আদম সকল কিছুর নাম
খোদা বলেন ‘আগেই আমি সব কিছু জানতাম।
জমিন ও আসমানের সকল আগা এবং মূল
গোপন করো প্রকাশ করো এড়ায় না এক চুল
সবই আমার জানা শোনা গোপন কিছুই নাই
প্রকাশ পাবে আমার কাছে আড়াল করো যা-ই।’
৩৪.
আল্লাহ বলেন ‘ফেরেশতাদের আদেশ দিলাম আমি
আদম হলো সৃষ্টিসেরা সবার চেয়ে দামি
আদম সেরা আদম সেরা সৃষ্টি আমার যতো
তাই আদমের পদতলে মাথা করো নত।’
খোদার কথায় একবারে সব করলো মাথা নিচ
অহঙ্কারী হলো কেবল ফেরেশতা ইবলিস।
তাই সে শামিল হয়ে গেল সব কাফিরের মাঝে
বিরোধিতা করলো শুরু আল্লাহ তা’লার কাজে।
৩৫.
আল্লাহ বলেন ‘আদম এবং তোমার বিবি হাওয়া
জান্নাতে যাও ইচ্ছে মতোন করো খাওয়া-দাওয়া
ভুলেও যেন যেয়ো নাকো ওই গাছটির পানে
চোলো ফিরো সকল সময় সাবধানে সাবধানে।
মনে রেখো ওই গাছটি আদম হাওয়ার যম
গন্ধম! গন্ধম!
৩৬.
শয়তান সে লাগলো এটে আদম-হাওয়ার পাছে
লোভ দেখালো মজার জিনিস রয়েছে ওই গাছে
অবশেষে আদম-হাওয়া খোদার কথা ভুলে
লোভে পড়ে সেই গাছটির খেয়েছে ফল তুলে।
আল্লাহ তা’লা নাখোশ হলেন ওই দুজনের ওপর
খুলে নিলেন জান্নাতি বেশ এবং মাথার টোপর।
দুইজনাকে সামনে নিয়ে জানিয়ে দিলেন সাফ
আমার আদেশ ভেঙে দুজন করলে বড়ই পাপ।
তাই এখানে আর যাবে না থাকা
আদেশ হুকুম পাকা।
স্বর্গ থেকে যাও বেরিয়ে হারালে এক ধন
তোমরা দুজন পরস্পরের খুব বড় দুশমন।
কী আর করা বলার পরেও ভুল করেছো যবে
দুইজনাকে একটা মেয়াদ শাস্তি পেতেই হবে।
শান্তি স্বরূপ পৃথিবীতে করো জীবনযাপন
সেখানে আর তোমরা ছাড়া কেউ হবে না আপন।
৩৭.
আদম তখন খোদার কাছে কিছু কথা পায়
সকল অপরাধের ক্ষমা তওবা করে চায়।
তওবা কবুল করেন খোদা ক্ষমা করেন দান
তিনি বড়ই ক্ষমাশীল ও বড়ই মেহেরবান।
৩৮.
খোদা বলেন ‘আদম-হাওয়া পৃথিবীতে যাও
আমার তরফ থেকে যে সব নেক হেদায়াত পাও
সেই মোতাবেক চলবে যারা, থাকবে নাকো ভয়
তাদের পাশে থাকবো আমি নিশ্চয় নিশ্চয়।
৩৯.
যারা এসব মানবে নাকো নেবে না তা কুড়িয়ে
খোদার আয়াত মিথ্যা বলে দেবে সদাই উড়িয়ে
তারা দোজখ পাবে
জাহান্নামে যাবে।
১৩.৭.০৯ খ্রি. বনানীবাড়ি, কোর্টপাড়া, চুয়াডাঙ্গা।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন