(২৮৬ আয়াত: ৪০ রুকু: মাদানি)
বিসমিল্লা হিররাহ মানির রহিম
১.
আলিফ লাম মিম।
২.
কোরআন শরিফ খোদার বাণী সন্দেহ নেই তাতে
আল্লা’ পাঠান, মুত্তাকিরা পায় হেদায়াত যাতে।
৩.
যারা গায়েব একিন করে নামাজ কায়েম করে
খোদার দেয়া রিজিক কিছু বিলায় পরের তরে।
৪.
কোরআনসহ আগের কিতাব এবং আখিরাতে-
যারা ঈমান আনে তারাই আছে খোদার সাথে
৫.
এ ধরনের মানুষগুলোই সঠিক দিশা পাবে
তারাই কেবল যোগ্য হবে সফলতা লাভে।
৬.
অস্বীকারই করে এসব মানতে নারাজ যারা
বোঝান-পড়ান যতই ঈমান আনবে নাকো তারা।
৭.
আল্লা’ তাদের মনে-কানে মোহর দিলেন সেঁটে
চোখের ওপর পর্দা পড়ে দৃষ্টি গেছে এটে।
মরার পরে রোজহাশরে বিচার দিনের শেষে,
কঠিন আজাব পাবে তারা সবাই যাবে ফেঁসে।
(১০.৭.০৯ খ্রি. বনানীবাড়ি, কোর্টপাড়া, চুয়াডাঙ্গা।)
রুকু-২
৮.
এমন অনেক মানুষ আছে কয় তারা বারবার,
আমরা খোদা-আখিরাতে পূর্ণ ঈমানদার
কিন্তু তারা মনে-প্রাণে মিথ্যা কথা কয়
যতই বলুক আদোতে যে তারা মুমিন নয়।
৯.
ঈমানদার ও খোদার সাথে করছে ধোঁকাবাজি
আল্লাহ বোঝেন ওদের যত মিথ্যা ও কারসাজি
তারাই তাদের ফেলছে ধোঁকায় হারিয়ে সব খেই
এ বিষয়ে তাদের কোনো হক চেতনা নেই।
১০.
তাদের মনের কষ্ট হয়ে আছে অনেক রোগ
আল্লাহ তা’লা তা বাড়িয়ে দেন মহা দুর্ভোগ।
তারাও জানে তারাও বোঝে মিথ্যা বলে যা যা
সেই কারণে আখিরাতে আছে কঠিন সাজা।
(১০.৭.০৯ খ্রি. বনানীবাড়ি, কোর্টপাড়া, চুয়াডাঙ্গা)
১১.
যেই না তাদের বলা হলো ফাসাদ থেকে সরো
এই দুনিয়ায় খোদার আদেশ যা যা পালন করো
তারা বলে ‘আমরা সবাই সঠিক পথেই আছি
ফাসাদ কি বা ঝঞ্ঝাটেরও যাইনে কাছাকাছি।’
১২.
ওদের কোনো চেতনা নেই, মিথ্যাবাদী ভারী
ওদের থেকে খুব সাবধান, ওরাই ফাসাদকারী।
১৩.
যখন তাদের বলা হলো ‘আরজনাদের মতো
খোদার প্রতি ঈমান আনো মাথা করো নত।’
বলল তারা ‘ঈমান আনা লোকরা খুবই বোকা
ঈমান এনে মিথ্যে কেন খেতে যাবো ধোকা।’
কিন্তু তারা বোকার বোকা মোটেও বোঝে না তা
এদিক ওদিক আবোল তাবোল বলে বেড়ায় যা তা।
১৪.
যখন তারা ঈমানদারের সঙ্গে মিশে থাকে
ঈমানদারের মতোই তখন আল্লা’ তা’লা ডাকে।
আবার যখন মিলিত হয় শয়তানদের সাথে
তখন তারা নানান রকম শয়তানিতে মাতে।
হো হো করে হেসে বলে হরেক রকম ঢঙ্গে
‘আমরা কেবল ঠাট্টা করি ঈমানদারের সঙ্গে।’
১৫.
আল্লা’ তা’লাও তাদের সাথে ঠাট্টা করে চলেন
‘তোমরা কত বাড়তে পারো দেখি’ খোদা বলেন
গণ্ডগোলের মধ্যে তারা আছে দিবস-যামী
অন্ধ লোকের মতো শুধু হচ্ছে বিপথগামী।
১৬.
হেদায়াতের পরিবর্তে কিনলো গোমরাহিকে
ফলে তারা বেঠিক পথে ঠকছে চতুর্দিকে।
১৭.
খোদার রাসুল চতুর্পানে জ্বালিয়ে দিলেন আলো
তবু তারা ইচ্ছে করেই দেখলো নাকো ভালো।
আল্লাহ তখন তাদের চোখের দৃষ্টি নিলেন কেড়ে
অন্ধকারে নিমজ্জিত পথে দিলেন ছেড়ে।
১৮.
এরা বধির অন্ধ মানুষ দেখতে-শুনতে পায় না
সঠিক পথে কোনোকালেও আবার ফিরে যায় না।
১৯.
কিংবা এরা এমন মানুষ ‘বৃষ্টি যখন নামে
কালো মেঘের সঙ্গে আলো হঠাত নেভে থামে
বজ্রপাতের ঘাঁই যখনই কড়াত কড়াত ডাকে
মরার ভয়ে হাতের আঙুল দুই কানেতে রাখে।
আল্লাহ এসব জালিম-কাফির আছেন ঘেরাও করে
চতুর্দিকে বন্দিদশা কোথায় যাবে সরে?
২০.
আকাশি বিদ্যুতে যখন জোরে চমক ছাড়ে
ভাবে তারা অন্ধদশা নামলো বুঝি ঘাড়ে
আবার যখন আলোর ঝিলিক অল্প কিছু পায়
স্বস্তি পেয়ে খুশি মনে সামনে খানিক যায়।
ফের যখনই অন্ধকারে আকাশ আসে ছেয়ে
থমকে দাঁড়ায় হঠাত এসে আতঙ্ক-ভয় পেয়ে।
আল্লাহ যদি ইচ্ছে করেন কাড়তে পারেন কথা
কাড়তে পারেন চিরতরে চোখের সজীবতা।
নিশ্চয়ই তা পারেন খোদা ক্ষমতাবান অতি
সকল কিছুর মালিক তিনি তিনিই অধিপতি।
রুকু-৩
২১.
তাবত মানুষ শুনে রাখো তার গোলামি করো
সব কিছুরই স্রষ্টা যিনি তার দেয়া পথ ধরো
তোমাদেরও সৃষ্টিকারী আগের মানুষ আরও
তার গোলামি করেই কেবল রক্ষা পেতে পারো।
২২.
তিনিই তো সেই সত্তা যিনি কাদামাটির জমিন
ঠিক বিছানা করে দিলেন বুঝবে যারা মোমিন
আকাশটাকে বানিয়ে দিলেন ঠিকা ছাদেরই মতো
সেখান থেকে আল্লাহ তা’লা বৃষ্টি ঝরান কত।
সেই বৃষ্টির পানি দিয়ে ভরে ফসল ফলে
খেয়ে বাঁচো খোদার দেয়া রিজিক আহার জলে।
খোদার দেয়া নিয়ামতে তুষ্ট হয়ে থাকো
তার সাথে আর কাউকে যেন শরিক কোরো নাকো।
২৩.
আমার নাজিল করা কিতাব ভাবো আমার কি না
মানুষ ডেকে জড়ো করো শুধু আমায় বিনা
আল কোরআনের সুরার মতো একটি সুরাই বানাও
সবাই মিলে পারো কি না চেষ্টা করে জানাও।
২৪.
শত হাজার চেষ্টা করেও পারবে না তা জানি
তবুও কি বুঝ আসে না এটা খোদার বাণী?
সময় আছে আগুন দেখে ডরাও তড়িঘড়ি
পাথর এবং মানুষ হবে সেই আগুনের খড়ি।
কাফির লোকের জন্য এসব তৈরি করা আছে
ভাবার কোনো সুযোগই নেই আর মরণের পাছে।
২৫.
আল্লাহ বলেন ‘রাসুল তুমি তাদের কাছে যাও
কিতাব একিন-আমল করে সুখের খবর দাও
তাদের জন্য বাগবাগিচা আছে সজীব হয়ে
নিচ দিয়ে যার ঝরনাধারা সদায় যাবে বয়ে।
ওই বাগানের ফলফুলুরি যখন দেবে মুখে
বুক জুড়িয়ে যাবে তখন আনন্দ-উৎসুকে।
এই দুনিয়ার ফলের মতোই খেতে হবে স্বাদ
হুর থাকবে, পূরণ হবে সব শখ ও আল্লাদ।
শেষ হবে না মাতামাতি আনন্দ উল্লাস
সেই জাগাতেই অনন্ত করতে হবে বাস।’
২৬-২৭.
আল্লাহ তা’লা সৃষ্টি করেন মাছি এবং মশা
তারও চেয়ে ক্ষুদ্র-ছোট আরো করুণ দশা
এসব কিছুর উদাহরণে পান না খোদা লাজ
মোমিন যারা এসব দেখে নেয় করে আন্দাজ
মশা-মাছি ক্ষুদ্র কণা আশেপাশের সব
ইচ্ছে করেই নিজের হাতে পাঠিয়েছেন রব।
যারা এসব নেয় না মেনে করে কেবল তর্ক-
এমন উদাহরণের সাথে খোদার কী সম্পর্ক?
এমন কথায় অনেকে হয় বিপথগামী গোমরাহ
সঠিক যারা হেদায়াতের পথ পেয়ে যাও তোমরা।
যারা খোদার ওয়াদাকে ধরেও দিল ছেড়ে
আস্ত রাখার কথা যেটা ফেলল সেটাও ফেড়ে
ফেতনা ফাসাদ করে যারা এই পৃথিবীর বুকে
আসলে ঠিক তারাই পরে পড়বে ক্ষতির মুখে।
২৮.
তোমরা কেন খোদার সাথে কুফরি কর এমন
একটু ভাবো এই জীবনের আগে ছিলে কেমন
তোমরা আগে অন্য রকম ছিলে যে নিষ্প্রাণ
আল্লাহ তা’লা ইচ্ছে করে জীবন করেন দান।
তিনিইতো জান কবজ করে আবার জীবন দেবেন
তারই কাছে তাবত মানুষ ফের ফিরিয়ে নেবেন।
২৯.
তিনিইতো সেই সত্তা যিনি সব তোমাদের জন্য
সৃষ্টি করেন, তাই দুনিয়া হয়ে গেল ধন্য।
মনোযোগী হয়ে খোদা আকাশ পানে চান
এক নিমিষে বানিয়ে নেন সাতখানা আসমান।
তিনিই হলেন পরিপূর্ণ সকল কিছুর জ্ঞানে
মোমিন যারা তারাই কেবল এসব কিছু মানে।
(১১.৭.০৯ খ্রি. বনানীবাড়ি, কোর্টপাড়া, চুয়াডাঙ্গা।)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন