আমার ছেলেবেলা
ধান কেটেছি পাট কেটেছি কাউন ভুরো যব
মাঠে মাঠে খুব করেছি আনন্দ উৎসব
মাথাল মাথায় চরিয়েছি গরু-ভেড়ার পাল
হাল ধরেছি বাবার পিছে মই-লাঙলের হাল
বাঁকে করে নিয়ে গেছি পাটমুনিসের ভাত
হল্লা করে ঘুরে ফিরে মাঠ করেছি মাত
গাছের গোড়া কুপিয়েছি আর ভেঙেছি ঢেলা;
বারে বারে ডাক দিয়ে যায় আমার ছেলেবেলা।
পাকা ঝালের সবুজ ক্ষেতে নামতো টিয়ের ঝাঁক
দলে দলে ভুরোর মাঠে বেশ খেতো ঘুরপাক
টিন বাজিয়ে ভয় দেখাতাম পালিয়ে যেতো তারা
ফড়িং যেন না কেটে দেয় ঝাল-বেগুনের চারা
গরু বাছুর আর যেন না কোনো ক্ষেতে লাগে
তাইতো মাঠে পৌঁছে গেছি আমি সবার আগে
ভাদর মাসে ধান মলেছি হয়নি অবহেলা,
বারে বারে ডাক দিয়ে যায় আমার ছেলেবেলা।
গাঁয়ের মাঠে উড়িয়েছি মনের সুখে ঘুড়ি
পুবাল হাওয়ায় মাথা নেড়ে বেজায় উড়োউড়ি
গরুর রাখাল হল্লা করে সবাই মিলিজুলি
ঢেলাগাড়ির উঁচু মাঠে খেলেছি ডাংগুলি
গা ঘেমেছে পাল্লা দিয়ে খেলে কাঁচের গুটি
পোয়ালগাদায় লুকোচুরি, হেসেই কুটিকুটি
জোছনা রাতে পাড়ায় পাড়ায় চলতো গাদি খেলা,
বারে বারে ডাক দিয়ে যায় আমার ছেলেবেলা।
সাঁতার কেটে দিন গিয়েছে মাথাভাঙ্গার ঘাটে
আনন্দ খুব হতো যেদিন যেতাম কুঠিরহাটে
বাড়ির কাছের মরাগাঙে শাপলা ফুটে ফুটে
হাসতো যখন উড়ুউড়ু মনটা যেতো ছুটে
রোজ সকালে শাপলা তুলে পাড়ে দিতাম পালা
তা দিয়ে বেশ গাঁথা হতো বিনিসুতোর মালা
মাঝি হতাম বন্ধু ক’জন ভাসিয়ে কলার ভেলা,
বারে বারে ডাক দিয়ে যায় আমার ছেলেবেলা।
গর্ত ডোবা খালের পানি থালা দিয়ে ছেঁকে
অনেক রকম মাছ ধরেছি কাদা মেখে মেখে
ছিপ ফেলেছি ঘাটে ঘাটে মাছ ধরা কী নেশা
তাই সারাদিন কারোর সাথে হয়নি মেলামেশা
মরাগাঙে বর্শা ফেলে তুলতে গেছি ভোরে
বাড়ি যেতাম চ্যাং টাকি মাছ ঝুড়ি বোঝাই করে
মা ও দাদি সে মাছ পেয়ে খুশি হতেন মেলা,
বারে বারে ডাক দিয়ে যায় আমার ছেলেবেলা।
নানাবাড়ি যেতাম যখন জোছনাফোটা রাতে
পাটি পেড়ে বসে যেতাম উঠোন-আঙিনাতে
রূপকথা বা মজার মজার গল্প বলা হতো
সবার চেয়ে ছোট মামা ছিলেন মনের মতো
বেলেদাড়ির মাঠে গিয়ে খেতাম খেজুর পেড়ে
রাঙা আলু তুলে খেতাম জামায় ঝেড়ে ঝেড়ে
মামাতো ভাই-বোনের সাথে কাটিয়ে দিতাম বেলা,
বারে বারে ডাক দিয়ে যায় আমার ছেলেবেলা।
০৩/১২/০৯ খ্রি.
বনানীবাড়ি, কোর্টপাড়া, চুয়াডাঙ্গা।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন