শুক্রবার, ৩ জুন, ২০১১

মাথাভাঙ্গার ঘাটে

নৌকা ডিঙে চলে না আর মাথাভাঙ্গার ঘাটে
ইচ্ছে হলেই মানুষেরা এপার ওপার হাঁটে
এ গাঁয় ও গাঁয় যায় না এখন নৌকারা পাল তুলে
ভেড়ে না আর মালবাহী নাও এসে নদীর কূলে

জারি সারি ভাটিয়ালি গানের সুরে সুরে
গুন টেনে কেউ নৌকা নিয়ে যায় না বহু দূরে
ডুব সাঁতারের খেলায় মেতে হয় না গোসল আর-
মাথাভাঙ্গায় বন্ধ মাঝির খেয়া পারাপার

ঘাটে ঘাটে ধরে না মাছ মৎস্যজীবী জেলে
পায় না কিছু সারা বেলা জাল ঠেলাজাল ফেলে
ছিপ ফেলে কেউ রয় না বসে মাছ ওঠে না বলে
গাঙের ধারে তাইতো দেখা যায় না খালুই-থলে

নেই টলমল পানির বাহার সোত চলে না ভেসে
ভিড় করে না জার্মনি আর শ্যাওলা পানা এসে
গরু বাছুর সাঁতার কেটে যায় না এখন আর-
হারিয়ে গেছে মাথাভাঙ্গার আগের অহঙ্কার

আসে না সেই পানির ধারা ঝরনা থেকে নেমে
আপন মনে কী কারণে কখন গেছে থেমে
পানকৌড়ি ডুব পাড়ে না অনেক সময় ধরে
গাঁ’র বধূরা নেয় না পানি কলসি ঘড়া ভরে

নদীতে নেই শামুক ঝিনুক পায় না কিছু হাঁসে
ময়লা পচা আবর্জনা নদীর জলে ভাসে
আগের দেখা নদীর সাথে মিল কিছু নেই আর-
করুণ করুণ পরিণতি আজ মাথাভাঙ্গার!
০৭.৬.২০১০ খ্রি. বনানীবাড়ি, কোর্টপাড়া, চুয়াডাঙ্গা


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন