বৃহস্পতিবার, ১৬ জুন, ২০১১

কতো অজানারে জানাইলা তুমি

খাগড়াছড়ির আলুটিলা পাহাড়ের ওপর অন্যদের সাথে আমি আহাদ আলী মোল্লা ও কাজল মাহমুদ
১৬ ফেব্রুয়ারিসকাল সাড়ে ৭টাখিদেয় পেট চো চো করছেনা, আশপাশে কোনো হোটেল নেইচট্টগ্রামের বিএম ভাটিয়ারি শহীদ মিনার মোড়ে নেমেই সবাই ভাবছি কীভাবে খাগড়াছড়ি পৌঁছুনো যায়কাছেই ছিল একটি টেকারযাত্রী বহন করার যোগ্য মিনি ট্রাকের মতো বিশেষভাবে সাজানো এক ধরনের মিনিট্রাকতাতে উঠেই চলা শুরু হলো পাহাড়ি রাস্তাআঁকাবাঁকা আর উঁচুনিচু পাহাড়ি রাস্তা দেখে মুগ্ধ হলামপাহাড়ের সাজানো সাজানো সবুজ গাছগাছালি দেখে কে না বিস্মিত হয়যত দূর চোখ যায় পাহাড় আর পাহাড়মাত্র ২০ মিনিটের পথ পাড়ি দিয়ে চট্টগ্রামের হাটহাজারি উপজেলার বড়দিঘির পাড়ে পৌঁছুলামসেখানে একটি হোটেলে ঢুকে পেটে সবাই জামিন দিয়ে নিলামএখনো প্রায় ৫ ঘণ্টার পথ খাগড়াছড়িনা, বড়দিঘির পাড় থেকে খাগড়াছড়ির বাসে সিট মিললো নাঅগত্যা কয়েকজন রওনা দিলাম চট্টগ্রাম জালালাবাদের অক্সিজেন মোড়সেখান থেকে বেলা ১০টায় রওনা দিলাম খাগড়াছড়ির উদ্দেশে
চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের ভ্রমণপিয়াসী একদল সাহিত্যকর্মী উদ্যোগ নিলেন ভ্রমণে বের হবেনভ্রমণের স্থান খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান ও কক্সবাজারসপ্তাহখানেকের এ ট্যুরের সহযাত্রী হলাম আমরা ১৩ জন২০১১ খ্রিস্টাব্দের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টায় মাইক্রোবাসযোগে যাত্রা শুরু হলো চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের আঙিনা থেকেপরিষদের একনিষ্ঠ বন্ধু চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দারের সাথে বিদায়ী সাক্ষাৎ করা হলো তার পৌরসভায়তিনি হাসিমুখে অভিনন্দিত করলেনজানালেন কোনো প্রকার সমস্যা মনে করলে সাথে সাথে তাকে জানাতেসাহস বেড়ে গেল কয়েক গুণতার ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে মাইক্রোযোগে গেলাম কুষ্টিয়াসেখান থেকে হানিফ পরিবহনে চট্টগ্রামে রওনা দিলাম সন্ধ্যা ৭টায়সারারাত চললো হানিফ পরিবহন
আমাদের ১৩ জনের ভ্রমণকারী দলে ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ইকবাল আতাহার তাজ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, সহসভাপতি আবুল কাশেম, সাইফুল ইসলাম পিনু, জেড আলম, গোলাম কবীর মুকুল, রিচার্ড রহমান, কাজল মাহমু, আদিল হোসেন, যাহীদ জীবন, আমার ভায়রা সাংবাদিক হোসেন জাকির এবং আমি নিজেতবে আমাদের আরেক বন্ধু চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের প্রভাষক মুন্সি আবু সাইফের জন্যে বেশ কষ্ট হচ্ছিলআমাদের সাথেই ভ্রমণে যাওয়ার কথা ছিল তার; কিন্তু হঠাৎ করে শরীরটা অসুস্থ হয়ে যাওয়ার কারণে তিনি আমাদের সাথে যোগ দিতে পারলেন না
শান্তি পরিবহন যখন চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়ক দিয়ে খাগড়াছড়ির দিকে ছুটে চলেছে তখন আমরা খেয়াল করছিলাম, সেখানকার পরিবেশ, গ্রাম, রাস্তাঘাট, বাজার, মাঠ, গাছগাছালি ইত্যাদিসবকিছুই যেন অন্যরকমচুয়াডাঙ্গার পরিবেশ আর চট্টগ্রামের পরিবেশের সব কিছুই এক্কেবারে আলাদা রকমেরহাটহাজারী উপজেলায় হাটের ছড়াছড়িরাস্তার দু ধারের সাইনবোর্ডগুলো থেকে আমাদের কারোরই চোখ সরে নাতখনকার বিষয় হাটমৌরিহাট, সরকারহাট, কাটিরহাট, মদনহাট, নুর আলী মিয়ারহাট, নাজিরহাট, বহদ্দার হাট, বারৈয়ার হাট, বিবিরহাট, মাঝিরহাটসহ অসংখ্য নামের শেষে হাটকোনো বাজারের শেষে হাট দেখলেই সফরসঙ্গীরা চিল্লিয়ে জানাচ্ছিলেন, মোল্লা তুমি হাটের নামগুলো নোট করোএতোসব হাটের নাম মনে থাকবে না বলেই লিখে রাখার তাগিদতবে যতক্ষণে পকেট থেকে এক টুকরো কাগজ বের করে নোট করা শুরু করেছি, ততক্ষণে অনেক হাটের নামই চোখের অন্তরালে ঢাকা পড়ে গেছেঘণ্টাখানেক ধরে প্রায় সমতল ভূমি দিয়েই চলছিলো আমাদের শান্তি পরিবহনবেলা ঠিক ১১টানয়াবাজার আর্মি ক্যাম্প ছাড়াতেই শুরু হলো খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলারাস্তার দু ধারে তাকিয়ে দেখি পাহাড় আর পাহাড়গাছগাছালিতে ঘেরা পাহাড়বেশি দূরে চোখ যায় নাসবুজ অরণ্যে আটকে যায় দৃষ্টিকখনো পাহাড়ের চূড়ায় উঠছি আবার কখনো নামছি এভাবেই বাস এগিয়ে চললোমাঝে মাঝে দেখা গেল পাহাড়ে পাহাড়ে উপজাতিদের আবাসছোট ছোট ঘরএখানে একটা বিষয় মনে পড়ে গেলআমরা চট্টগ্রাম থেকে যে শান্তি পরিবহনে চড়ে খাগড়াছড়ি যাত্রা শুরু করলামসেই বাসেই ছিলো বেশ কয়েকজন উপজাতি নারী-পুরুষতাদের সাথে ছিল উপজাতি শিশুরাওখেয়াল করে দেখলাম তাদের চেহারা যেমন বাঙালিদের সাথে মেলে নাতেমনি তাদের ভাষাও আলাদাতারা আমাদের সাথে বাংলায় কথা বললেও তারা তাদের সাথে কথা বলার সময় নিজের ভাষায় কথা বলছেফলে আমরা এক্কেবারে হাতাদের কোনো কথাই বুঝতে পারছিলাম না
ঘটির কাঁটায় বেলা ১২টা ছুঁই ছুঁইবাস থামলোচা বিরতিদেখলাম ছোট্ট একটি বাজারদোকানের সাইনবোর্ডে বাংলায় লেখা মানিকছড়ি বাজার১০ মিনিট বিরতির পর আবার ছুটে চললো বাসযত যাচ্ছি ততই যেন পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে আটকা পড়ে যাচ্ছিমাঝে মাঝে চোখে পড়ছে উঁচু পাহাড়ের ওপর আর্মি ক্যাম্পক্যাম্পের প্রহরীরা অস্ত্র তাক করে বসে আছেসে এক অন্য রকম পরিবেশঅন্য রকম অনুভূতিধীরে ধীরে বিশাল ও বিরাট বিরাট উঁচু পাহাড়ে উঠতে লাগলো আমাদের বাসপাহাড়ের কোল ঘেঁষে ঘেঁষে তৈরি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিবিরাটকায় এক পাহাড়ের ওপরে যখন বাস; তখন চোখে পড়লো অনেক দূরের সীমানাবড় বড় বাড়িগুলো দেখে মনে হচ্ছিলো খেলনাবাড়িবুকের ভেতর কেঁপে উঠলোএখন যদি বাস কোনো রকম ব্রেক বা গিয়ার ফেল করে তাহলে আমরা এক্কেবারে আলুভত্তা হয়ে যাববেলা যখন আড়াইটাঠিক তখন আমাদের বাসটি খাগড়াছড়ি জেলা শহরে গিয়ে পৌঁছুলোকিছুক্ষণ পরই আমাদের আতিথেয়তা জানাতে ছুটে এলেন কবি উত্তম কুমার বড়ুয়াতিনি খাগড়াছড়ির একজন ভিকেল কর্মকর্তা হলেও তার আন্তরিক আতিথেয়তায় আমরা মুগ্ধ হলামতিনি মাইক্রোবাসযোগে নিয়ে গেলেন একটি আবাসিক হোটেলেসেখানে গোসল সারা হলো আমাদের মধ্যে খাইখাই ভাবআর কতক্ষ? জার্নি আর খিদের ফলে সবাই কাহিল এবার খাওয়ার পালাকবি উত্তম কুমার বড়ুর সৌজন্যে একটি পারিবারিক হোটেলে আমাদের দাওয়াত পড়লোবেশ কয়েক রকমের মাংসকয়েক ধরনের মাছ আর বিভিন্ন রকমের সবজি রান্নাযা আমাদের চুয়াডাঙ্গার মতো নয়খাবার পরিবেশন করছিল উপজাতি কয়েকজন তরুএরমধ্যে ছিলেন সরকারি চাকুরে মংউপজাতিতে চাকমাআমরা তাকে মং দাবলে ডাকছিলামতিনি খেতে বসেছিলেন একদম আমার ডান পাশেআমি খাওয়া দাওয়ার ফাঁকে মং দার কাছ থেকে কয়েকটি চাকমা শব্দ শিখে ফেললামআমং চাপোঅর্থাৎ ভাত খাবোআমংমানে ভাতআর চাপোমানে খাওয়াখাওয়ার মেনুতে ছিল শুটকি মাছশিখে নিলাম- ঙামানে মাছআর আখরা মানে শুটকিঅর্থাৎ ঙা আখরামানে শুটকি মাছখাওয়া শেষে হোটেলের পাশেই দেখলাম বেশ কজন উপজাতি শিশু ক্যারামবোর্ড খেলছেশখ হলো তাদের সাথে ছবি উঠবোকিন্তু ভিন এলাকাআলাদা জাতি ও সংস্কৃতিবলাতো যায় না কী করতে গিয়ে কী হয়ে যায়তাই সাহায্য নেয়া হলো মং দামং দাতাদের ভাষায় কী যেন বললেন, অমনিই শিশুরা আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে গেল ছবি ওঠার জন্যকাজল ভাই, অর্থাৎ কাজল মাহমুদ ওইসব শিশুর পাশে বসে খানিক খেলাও দেখছিলেনবুঝতে চেষ্টা করছিলেন তারা কী বলেকিন্তু না, তাদের ভাষা কিছুই বোঝা গেল না
প্রকৃতি অকৃপণভাবে সাজিয়েছে খাগড়াছড়িকে স্বতন্ত্র করেছে অনন্য বৈশিষ্ট্যেএখানে রয়েছে আকাশ-পাহাড়ের মিতালিচেঙ্গি ও মাইনি উপত্যকার বিস্তীর্ণ সমতল ভূ-ভাগ ও উপজাতীয় সংস্কৃতির বৈচিত্রতামহালছড়ি, দিঘিনালা, পানছড়ি, রামগড়, ক্ষ্মীছড়ি, মানিকছড়ি, মাটিরাঙ্গা যেদিকেই চোখ যায় সবুজ আর সবুজউঁচু নিচু পাহাড়, পাহাড়ি পথ, ছোট ছোট ছড়া পাহাড়ের বুক চিরে গড়িয়ে পড়া পাহাড়ি ঝরনা আর ঐতিহ্যময় পাহাড়ি জনতার নির্মোহ চলন খুবই আকর্ষণ করেঅন্যদিকে ফুলের সুবাস, বৃক্ষের রকমতা কিংবা পাহাড়ের ঢালে গভীর গিরিখাদে সেগুন-গামারির বিশাল বাগান, পাহাড়ের চূড়া হাতছানি দিয়ে ডাকে প্রকৃতিপ্রেমী, অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় বা ভ্রমণবিলাসীদেরবিশেষ করে জেলা সদরের নিকটবর্তী আলুটিলা পাহাড় আর চেঙ্গি নদীর এঁকেবেঁকে চলার অপরূপ দৃশ্য বিমোহিত করে সবাইকেএরই মাঝে আছে রহস্যঘেরা আলুটিলা সুড়ঙ্গযা পর্যটকদের কাছে এক বিস্ময়এ ছাড়া আছে নুনছড়ি দেবতা পুকুর, রিছাং ঝরনা ও রামগড় লেকএ বিস্ময়ের কথা শুনে আমরা আর চুপ থাকতে পারি নাসিদ্ধান্ত হলো বেলা ৪টায় সর্বোচ্চ আলুটিলা পাহাড় এবং রহস্যঘেরা পাহাড়ের সুড়ঙ্গ জয়ের
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা শুধু প্রকৃতিগত দিক থেকেই নয় আধুনিক দিক দিয়েও বেশ এগিয়ে এখনএখানে আছে সিনেমা হল, উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, শিশু একাডেমী, শিল্পকলা একাডেমীআছে প্রেসক্লাব, ব্যাংক ও জেলা কারাগারতবে এখানকার প্রধান সমস্যা বিদ্যুত২৯৬ কিলোমিটার পাকা ও ২৬১ কিলোমিটার আধাপাকা রাস্তা রয়েছেফসলের মধ্যে ধান, গম, ভুট্টা, সরষে, তুলা ও শাকসবজি অন্যতমজুম পদ্ধতিতেই এখানে সাধারণত চাষ করা হয়ে থাকেফলমূলের মধ্যে আম, কাঁঠাল, কলা, পেঁপে, পেয়ারা, লেবু, তরমুজ ও আনারস উৎপাদিত হয়খনিজ সম্পদের মধ্যে আছে গ্যাসবনজ সম্পদ রয়েছে অঢেলসেগুন, গামারি, কড়ই, গর্জন, চাপালিকা ও জারল এরমধ্যে অন্যতমউপজাতিদের মধ্যে খাগড়াছড়িতে আছে চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরাতাদের রয়েছে নিজস্ব সংস্কৃতি২০০১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী এখানে লোকসংখ্যা ৫ লাখ ১৮ হাজার ৪৬৩ জনএর মধ্যে উপজাতি ২ লাখ ৬৯ হাজার ৯০৪ জনচাকমা ১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৫ জনমারমা ৫৫ হাজার ৮৪৪ জনত্রিপুরা ৬৭ হাজার ৩৪২ এবং অন্যান্য ৬৭৩ জনহিসেব অনুযায়ী এখানে উপজাতিরা সংখ্যাগরিষ্ঠশিক্ষিতের হার শতকরা ৪১ ভাগখাগড়াছড়ি, দিঘিনালা, লক্ষ্মীছড়ি, মহলছড়ি, মানিকছড়ি, মাটিরাঙ্গা, পানছড়ি ও রামগড় এই ৮টি উপজেলা নিয়ে খাগড়াছড়ি জেলাযার আয়তন ২ হাজার ৬৯৯ দশমিক ৫৫ বর্গকিলোমিটারসংসদীয় আসন ১টিপৌরসভা রয়েছে ৩টিশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে ৫৪৭টিএরমধ্যে কলেজ ৭টি৭১টি হাইস্কুলের মধ্যে ৫টি সরকারি৪২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩২০টি সরকারি১০০টি বেসরকারিকিন্ডারগার্টেন রয়েছে ৯টিমাদরাসা আছে ৩৫টিশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা খুবই কম চোখে পড়লোএসবের পাশাপাশি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও একেবারে কম নয়মসজিদ ২৫৫, বৌদ্ধ মন্দির ২৬৩, মন্দির ২০৭ ও ২৬টি গীর্জা রয়েছে খাগড়াছড়িতে
রাঙামাটির ঝুলন্ত ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে আমি আহাদ আলী মোল্লা
বিকেল ৪টাআমরা আবাসিক হোটেল থেকে মাইক্রোবাসযোগে রওনা দিলাম আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র পরিদর্শনের উদ্দেশেমাইক্রোবাস যখন পাহাড়ে উঠছিলো আমরা অনেকেই ভয় পাচ্ছিলামধীরে ধীরে মাইক্রোবাসটি পাহাড়ের এক্কেবারে চূড়ায় গিয়ে উঠলোরিচার্ড ভাই বললেন আমরা পাহাড়ের মগডালে উঠেছিযেখান থেকে খাগড়াছড়ি শহর দেখা যাচ্ছিলোতবে মনে হচ্ছিলো শহরটি যেন খেলনা শহরআলুটিলা পাহাড়ে উঠেই শুরু হলো ফটোসেশনকে কীভাবে পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে কিংবা বসে কত সুন্দর করে ছবি উঠতে পারেন তার যেন একটা প্রতিযোগিতাআমি অংশ নিই এই ফটোসেশনেএই আলুটিলা পাহাড়েই রয়েছে একটি গুহাগুহার কাছাকাছি যাতে পর্যটকরা পৌঁছুতে পারে সেজন্য সেখানে সরকারি অর্থায়নে সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়েছেপ্রায় ২০ মিনিট ধরে সিঁড়ি বেয়ে বেয়ে নিচে নামলাম আমরা ১৩ জনসাথে প্রদর্শক হিসেবে আছেন আমাদের প্রিয় কবি উত্তম কুমার বড়য়াসবাই জুতো মোজা খুলে গুহার কাছে যখন পৌঁছুলাম, তখন বুকের ভেতরে সবার ঢিপ ঢিপ শব্দ হচ্ছেঅন্ধকার সুড়ঙ্গযাদের হার্ট দুর্বল তারা ওই সুড়ঙ্গে ঢুকলেই নিশ্চিত মারা যাবে, না হলে স্ট্রোক করবেএমনটি ভেবেই আমাদের চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি তাজ ভাই এবং তাজ ভাবী সম্ভবত সুড়ঙ্গমুখ দর্শন করেই ফিরে গেলেনতাদের সাথী হলেন আরো দু-তিনজনবাকি আমরা আলুটিলা পাহাড়ের সুড়ঙ্গ জয়ের অভিযানে নামলামআমি মাঝখানেসবার হাতে মশাল জ্বালানোঘুটঘুটে অন্ধকার সুড়ঙ্গমশালের আলো ধরেই আমি টুকটুক করে সুড়ঙ্গযাত্রা শুরু করলামআমার আগে থাকা দলটি আমার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলোতাদেরকে আমি আর দেখতে পাচ্ছি নাচারিদিকে অন্যরকম এক আঁধারনিজের শরীরের কিছু অংশও দেখা যায় নানিচে স্যাঁতসেঁতে পানিমাঝে মাঝে পাথর থেকে পা পিছলে যাচ্ছেকী মুশকিল! সামনে যাবো, না পিছিয়ে যাবোকিছুই যেন স্থির করতে পারছি নাবুকের ভেতর কেমন যেন এক শব্দমনে হচ্ছিলো এই বুঝি জীবনের শেষএই পাহাড় যদি ধসে পড়েকেউ লাশটি পর্যন্ত উদ্ধার করতে পারবে না এতো মাটি-পাথর সরিয়েযাক মনে জোর বাঁধলামঅভিযানে যখন নেমেছি ভয় পেলে আর চলবে নাসাহস নিয়ে এগিয়ে গেলামআমার সামনের দলে ছিলেন রিচার্ড রহমান, আদিল হোসেন, জাহিদুল ইসলাম, হোসেন জাকির ও জাহিদ জীবন ভাইবারবার রিচার্ড ভাইকে ডাকছিলাম আর আমার জন্য একটু অটেক্ষা করতে বলছিলামকিন্তু না কেউ অপেক্ষা করলো নাতবে রিচার্ড ভাই বারবার সাহস দিচ্ছিলেন মোল্লা ভয় নেই তুমি চলে এসোআমি জানতে চাইছিলাম আর কতদূর? রিচার্ড ভাই জানালেন আসতে থাকোসেই ঘুটঘুটে অচেনা অন্ধকারে ১১শ মডেলের নকিয়া মোবাইলফোনটিই শেষমেষ আমার ভরসা। তার আলো জ্বেলে চলতে লাগলামআমার ঠিক পেছনে পেছনে সহযাত্রী ছিলেন কাজল ভাইতিনি গেয়ে উঠলেন ভারতীয় ছায়াছবির গান আমি অন্ধকারের যাত্রী, প্রভু আলোর পথ দেখাওসকল মানুষের অভিযাত্রা তো আলোর দিকেইএমন দার্শনিক  চিন্তার উদয় যখন মাথায় তখনই সুড়ঙ্গের মধ্যে নারী কণ্ঠ শুনে প্রথম দিকে ভড়কে গেলামপরে ভাবলাম আমাদের মতো কোনো নারী হয়তো এ অভিযাত্রায় যোগ দিয়েছেপ্রায় ২০ মিনিট ধরে সুড়ঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে শুনতে পেলাম রিচার্ড ভাইয়ের আশ্বস্ত করার বাণীতিনি বললেন মোল্লা ভয় নেই, আলো দেখা গেছেআর কিছুক্ষণ আসতে আসতে আমিও পৃথিবীর আলো দেখতে পেলামতখন ধীরে ধীরে বাঁচার আশা জাগলো বুকেআলোতে দেখতে পেলাম দুই যুবতীতারাও নেমেছিলো সুড়ঙ্গ জয় করতেসুড়ঙ্গ জয় শেষে দেখলাম তাদের লেজেগোবরে অবস্থাএকে অন্যের হাত ধরে সুড়ঙ্গ থেকে ওপরে ওঠার চেষ্টা করেও যেন হেরে যাচ্ছে তারাসুড়ঙ্গ জয় শেষে যখন পাহাড়ের চূড়ায় গিয়ে থামলাম, তখন দেখি আমার পা দিয়ে গলগল করে রক্ত বেরচ্ছেকখন যে পাথরে লেগে পা কেটে গেছে তা টের পাইনিসবার গা দরদরিয়ে ঘামছেআমার জামা ভিজে জবজব করছিলোবসে খানিকটা জিড়িয়ে নিলামডিসকভারি চ্যানেলে অভিযাত্রীদের সুড়ঙ্গ জয় দেখছিকিন্তু সত্যিই সত্যিই আমরা নিজেরাই যখন এক সুড়ঙ্গ জয় করলাম তখন বুঝলাম কাজটা দেখার মতো এতো সহজ নয়
বেলা ৫টার দিকে আমরা রিছাং ঝরনা দেখার জন্য আবার মাইক্রোতে উঠলামপাহাড় বেয়ে বেয়ে উঠতো লাগলো মাইক্রোবাসমাইক্রোবাস একটা জায়গায় গিয়ে থেমে গেলএবার শুধু নিচে নামার পালামাইক্রোবাস সেখানে আর যেতে পারবে নাফলে পায়ে হেঁটেই ধীরে ধীরে নামতে হবেপাহাড়ের গা ধরে ধরে আঁকাবাঁকা হেরিংবন্ড রাস্তাপা টিপে টিপে রাস্তায় চলতে শুরু করলাম এ রাস্তাটি পাহাড়চূড়া থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার নিচে নেমে গেছে। শুধু নামছি আর নামছি। প্রায় ১ ঘণ্টা পর পৌঁছুলাম রিছাং ঝরনার কাছেযেখানে উঁচু পাহাড় থেকে ঝরনার ধারা নিচে আছড়ে পড়ছে। আমাদের সাথে থাকা অন্যরাতো দূর থেকে দেখেই খালাসকারণ সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছেসবার মধ্যেই একটা অজানা ভয় কাজ করছেঅচেনা অজানা এলাকাতারপরেও শোনা যায় পাহাড়িরা এখান থেকে মানুষ অপহরণ করে গভীর অরণ্যে নিয়ে যায়মুক্তিপণ আদায় করেএসব কথা শুনে কেউ সাহস করে এগুলো না গা ছমছম করছে। নির্জন পাহাড়ের চারিদিকে শুনশান নীরবতা। কোথাও যেন কারো সাড়া শব্দ নেই। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। কিন্তু এত দূর থেকে এসে সামান্য ১০ মিনিটের জন্য রিছাং ঝরনার কাছে না যেয়েই ফিরে যাবো তা কি হয়? বুকে সাহস নিয়ে এগিয়ে গেলামসাথে ডেকে নিলাম কাজল ভাইকেকাজল ভাই সবসময়ই আমাকে কাছে কাছে রেখেছেনএজন্য আমার খুব ভালো লাগছিলোউঁচু পাহাড় বেয়ে ঝরনা হয়ে নেমে আসছে পানিসে এক অনন্য সৌন্দর্যকয়েকটা ছবি উঠলাম আমি ও কাজল ভাইএরপর পাহাড় বেয়ে কবি উত্তম কুমার বড়ুয়ার সাথে যখন পাহাড়ের চূড়ায় উঠছি, তখন সন্ধ্যা গড়িয়ে গেছে খুব কষ্ট করে উঠছি আর কথা বলছি উত্তম কুমার বড়ুয়ার সাথে। উনি ডায়াবেটিস রোগী। আমরা হাঁপিয়ে গেছি। কথা বলছি আর হাঁপ ছাড়ছি। গা দরদর করে ঘামছে। গায়ের জামা ভিজে জবজবে হয়ে উঠেছে। পাহাড়চূড়ায় পৌঁছুলাম। দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। খানিকটা এসেই উপজাতি এক মহিলার দোকানসেখানে চা খাওয়ার বিরতিআকাশে চাঁদ উঠেছেপাহাড়ে পাহাড়ে চাঁদের আলো কী এক অপরূপ আর মায়াময় পরিবেশ গড়ে তুলেছে তা না দেখলে বোঝানো যাবে নাতেষ্টা পেয়েছিলামপাহাড়ি দোকানি মহিলাকে বললাম পানি পাওয়া যাবে? তিনি গেলাসে করে পানি দিলেনআমি পর পর দু গেলাস খেলামজিজ্ঞেস করলাম কোথাকার পানি? দোকানি জানালেন পাহাড়ি কূপের পানিএখানে চরম পানি সংকটপাহাড় থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় এরা পানি সংগ্রহ করে খায়এর বিকল্প খুঁজে পাওয়া মুশকিল।
রাতে আবাসিক হোটেলে ফেরার পর খাগড়াছড়ি শহরের বাণিজ্য মেলায় গেলাম আমরাপাহাড়িদের কেনাকাটা দেখে বেশ ভালো লাগছিল উপজাতি মহিলারা বিশেষ ধরনের পোশাক আর এক ধরনের ব্যাগ হাতে নিয়ে সওদা করছে। বাঙালি পুরুষ-মহিলারাও মেলায় কেনাকাটা করছে। যেখানে উপজাতি আর বাঙালিদের মিলনমেলা। স্টলগুলোতে বাঙালিদের জন্য যেমন পোশাকআশাক রয়েছে, তেমনি উপজাতিদের জন্যেও আছে। দেখলাম উপজাতি যুবতীদের স্টল। তারা বাংলা ভাষায় কথা বলছে। তবে তারা উপজাতিদের সাথে কথা বলার সময় ঠিকই নিজের ভাষা ব্যবহার করছে। সকালেই রাঙ্গামাটি রওনা দিতে হবে মেলায় আরো বেশিক্ষণ ঘোরাফেরার ইচ্ছে থাকলেও তাড়াহুড়ো করে হোটেলে ফিরতে হলোরাতের খাবারের জন্য এবার আরেক হোটেলে সেই আগের মতোই এক উপজাতির হোটেলনাম খাংময় রেস্তোরামং দার কাছে শুনলাম এটা চাকমা ভাষা। ‘খাংময়’ শব্দের অর্থ বন্ধুত্ববেশ খাতির যত্নের সাথেই আমাদের আপ্যায়িত করলেন কবি উত্তর কুমার বড়ুয়াহোটেলে ফিরেই তাগিদ শুর হলো সকাল ৭টার মধ্যে রেডি হতে হবে৯টায় আমাদের রাঙ্গামাটির বাস
১৭ ফেব্রুয়ারিসকালে গোসল সেরে আমরা তৈরিহোটেল চত্বরে শুরু হলো ফটোসেশন পর্বএরই মধ্যে ঘটির কাঁটায় সকাল ৮টাবাসস্ট্যান্ডে বাঙালি এক হোটেলে নাস্তা সেরে শান্তি পরিবহনে চাপলাম সবাইপাহাড়ি পথ ধরে ছুটলো বাসকোথাও সবুজ পাহাড় কোথাও নীল আবার কোথাও কুয়াশা পাহাড়পাহাড়ের চূড়ায় চূড়ায় বিশেষ কায়দায় উপজাতিদের ঘরবাড়িবিস্ময়ে যেন চোখে পলক পড়ে নামাঝপথে খানিক বিরতি দিলে দেখলাম উপজাতি এক মহিলা বিশেষ কায়দায় বাঁশের তৈরি হুঁকো টানছেনদৃশ্যটি বেশ ইনজয় করলামপথে অনেক স্থানে সাইনবোর্ড চোখে পড়লোমানিকছড়ি, হিমছড়ি, সাপছড়ি, পানছড়ি, ঘিলাছড়ি এ রকম ছড়ি দিয়ে স্থানের নামছড়ি অর্থাৎ পাহাড়প্রধান সড়কের পাশে ঘিলাছড়ি আর্মি ক্যাম্পআর্মি ক্যাম্পটি ছাড়িয়েই ঘিলাছড়ি বাজারআমাদের বাসটি ঘিলাছড়ি বাজারে থামতেই ছুটে এলেন এক আর্মি সদস্যতিনি বাসে উঠে ড্রাইভারকে বললেন এ বাস যাবে নাবাসটিকে পিছিয়ে আর্মি ক্যাম্পে নেয়ার জন্য বললেন তিনিবাসের যাত্রীরাতো ভয়ে হিম! কী ব্যাপার? কী অপরাধ? আমাদের চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের একজন বাসের জানালা দিয়ে মোবাইল ক্যামেরায় ভিডিও করেছেনএটা আর্মি ক্যাম্প থেকে ফলো করা হয়েছেআমরা সবাই সরি বললামকিন্তু হলো নাতিনি জানালেন স্যারের নির্দেশ এ বাসকে আর্মি ক্যাম্পে নিতেই হবেকী মুশকিল! অপরিচিত জায়গাকী না জানি কী হয়শেষমেশ আর্মি ক্যাম্পে পিছিয়ে গেল বাসঅভিযুক্ত হলেন আমাদেরই এক সঙ্গী। তিনিই আপন খেয়ালে বাসের জানালা দিয়ে ভিডিও করেছেন। আর্মি ক্যাম্প এলাকার ছবি ধারন নিষিদ্ধ। এ বিষয়টি তিনি না জেনেই করে ফেলেছেন। তাছাড়া এ ব্যাপারে সতর্কীকরণ কোনো বিজ্ঞপ্তিও কোথাও টাঙানো নেই। কিন্ত কে শোনে কার কথা। যেহেতু আর্মি অফিসারের নির্দেশ তাই সেখানে নামলেন অভিযুক্ত ভিডিওধারণকারী। সাথে গেলেন সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ইকবাল আতাহার তাজ ভাই ও সাধারণ সম্পাদক বন্ধুবর জাহিদুল ইসলামআর্মি কমান্ডিং অফিসারের কাছে গিয়ে সরি বললেন তারাএরপর আবার বাস ছুটলো রাঙ্গামাটির দিকেজানলাম আগেভাগেই রাঙ্গামাটির হোটেল ডিগনিটিতে আমাদের সিট বুকিং দেয়া আছেবেলা সোয়া ১১টায় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার ডিগনিটি হোটেলের সামনে আমাদের বাসটি এসে থামলোসবাই ঝপাঝপ নেমে পড়লামহোটেলের বেলকনি থেকে লেকের অংশবিশেষ নজরে পড়লোমনকাড়া এক অপরূপ দৃশ্যবারবার আকর্ষণ করছেআমরা হোটেলে ব্যাগব্যাগেজ রেখে বেরিয়ে পড়লাম পর্যটন এলাকায়সিএনজিযোগে বেলা সোয়া ১২টার দিকে রওনা হলাম পর্যটনে চোখে পড়লো হ্রদ-পাহাড়ের অকৃত্রিম সহাবস্থানযা দেশের আর কোথাও মেলে নাহ্রদের স্বচ্ছ জলরাশি আর সবুজ পাহাড়ের অপরূপ সৌন্দর্য পর্যটকদের সহজেই কাছে টানেসিএনজিতে যেতে যেতে একটি জিনিস উপলব্ধি করলাম, শহরের কোথাও রিকশা নেইপরে জানতে পারলামরাঙ্গামাটি দেশের একমাত্র জেলাশহর যেখানে রিকশা নেইরিকশামুক্ত শহরটি কী না মনোরমখানিক যেতেই চোখে পড়লো পর্যটন মোটেলপাশেই ঝুলন্ত সেতুবিস্ময়ে চোখ মাথার ওপরে উঠে গেলআরে তাইতো! এই সে ঝুলন্ত সেতু। এটি কতবারই না টেলিভিশনে দেখেছিআজ বাস্তবে নিজের চোখে দেখলাম। আমরা হেঁটে হেঁটে ঝুলন্ত সেতু পার হলামসত্যিই ভাগ্যের ব্যাপারপ্রকৃতির সাথে মানুষের ভালোবাসার আরেক মহিমা রাঙ্গামাটি ঝুলন্ত সেতু৩৩৫ ফুট দীর্ঘ মনোহরসেতুর ওপর উঠেই শুরু হলো আমাদের ফটোসেশনসেতুর দুধারের হ্রদ যেন কানাকানি করছে সবুজ পাহাড়ের সাথেএখান থেকে দৃশ্যমান হ্রদের বিস্তীর্ণ জলরাশি আর দূরের দিগন্ত ছুঁয়ে যাওয়া পাহাড়ের সারি এখানে তৈরি করেছে এক নৈসর্গিক আবহএই হ্রদে নৌভ্রমণ যে কারো মনপ্রাণ জুড়িয়ে দেয় প্রকৃতির আপন মহিমায়প্রকৃতি এখানে কতটা অকৃপণ হাতে তার রূপসুধা ঢেলে দিয়েছে তা দূর থেকে কখনোই অনুধাবন করা সম্ভব নয়ঝুলন্ত সেতু পার হয়ে ভেদভেদির মোড় থেকে ট্রলারে উঠলাম সুলং ঝরনা দেখার উদ্দেশেট্রলার রিজার্ভ করা হলোচুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের ১৩ জন ছাড়া বাইরের মানুষ একজন প্রদর্শক আর মাঝি সব মিলে ১৫ জন। হ্রদে নাম না জানা পাখিদের মিতালি আর দুপাশের পাহাড়গুলোর চুপচাপ চোখাচোখি দেখে মনে হচ্ছিলো আমরা কোনো স্বপ্নপুরীতে এসে পড়েছি
নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলাপাহাড় নদী ও লেকবেষ্টিত একটি বৈচিত্রময় জনপদ এটিযেখানে চাকমা, মারমা, তাঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরা, মুরং, বোম, খুমি, খেয়াং, চাক, পাঙখোয়া, লুসাই, সুজে সাঁওতাল, রাখাইন, অসমীয়া, গুর্খা সর্বোপরি বাঙালিসহ ১৬টি জনগোষ্ঠীর বসবাসভৌগলিক বৈচিত্রময় সৌন্দর্য এবং বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও সংস্কৃতির সম্মিলন এক ভিন্ন মাত্রার যোগ করেছে এখানে২০০১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশের বৃহত্তম এ জেলার জনসংখ্যা ৫ লাখ ২৫ হাজার ১ শ১০টি উপজেলা ও ২টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ জেলার আয়তন ৬ হাজার ১ শ ১৬ দশমিক ১৩ বর্গকিলোমিটারজেলা শহর থেকে দুটি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়পত্রিকা দুটি হলো দৈনিক গিরি দর্পণ ও দৈনিক পার্বত্যবার্তাপ্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫১৮এর মধ্যে ৩৯১টিই সরকারিরয়েছে কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানএ জেলার বরকল উপজেলায় সর্বোচ্চ গিরিশৃঙ্গ রয়েছেনাম থাংনাংউচ্চতা ২ হাজার ৪ শ ৯ ফুটমোট কথা প্রকৃতির সাথে ভাব জমাতে হলে রাঙ্গামাটি যাওয়ার বিকল্প নেই
আমরা ট্রলারযোগে প্রায় ১ ঘণ্টা যাওয়ার পর কাঙজির মুখ নামক এলাকায় পৌঁছুলামসেখানে ট্রলার থামিয়ে উঠলাম একটি পাহাড়েস্বচ্ছ পানির হ্রদে ঘেরা ওই পাহাড়ের চূড়ায় রয়েছে একটি খাবারের হোটেলদেশ বিদেশ থেকে আসা পর্যটকদের ভিড় ওই হোটেলেএ এলাকায় খেতে হলে ওই হোটেল ছাড়া কোনো উপায় নেইখাবারের দামও চুয়াডাঙ্গার চেয়ে ৫ গুণ বেশিহোটেলের নাম ‘চাংপাং’জিজ্ঞেস করে জানলাম এটি চাকমা ভাষাবাংলায় যার অর্থ ‘চাওয়া পাওয়া’কিন্তু চাওয়া পাওয়ার কী ঠেলা তা হোটেলে যারা খেতে যায় তারাই টের পায়আধাঘণ্টারও বেশি প্রতীক্ষায় থাকার পর আমরা প্লেট পেলাম। থালা আর হাত ধুয়ে বসে থাকতে হলো আরো কয়েক মিনিট। পরে ভাত পেলামকে যেন বললো হোটেল আমাদের বাঁশ দেবেকথাটি শোনার পরে থতমত খেয়ে গেলামনা জানি কী হয়! ভিন এলাকা। ক্ষ্য করলাম হোটেলের মালিক থেকে শুরু করে বয় বেয়ারা সবাই চাকমামুরব্বিরা বলেন এক দেশের বুলি আরেক দেশের গালিনা জানি আমাদের কোনো কথা ওদের কাছে গালি মনে হয়েছে কি না সত্যি সত্যি বাঁশ দিয়েই চাংপাং হোটেলের লোকজন আমাদের আপ্যায়িত করলোবাঁশ দিলেও সে বাঁশ পেয়ে দেখলাম সকলেই খুশিকেউ কেউ বলছে আমাদের টেবিলে বাঁশ দাওকিছুক্ষণ পরেই টেনশন কাটলোদেখলাম এক হাত লম্বা বাঁশ। বাঁশের ফাঁপার ভেতরে বিশেষ কায়দায় মাংস রান্নাএবার বুঝুন ও বাঁশতো সবাই নিতে চাইবেখাওয়া শেষে ফরাসি এক পর্যটকের সাথে ফটোসেশন করলাম আমি ও কাজল ভাইখানিক পরেই আবার ট্রলারে উঠে শুরু হলো যাত্রাআমরা যাচ্ছি সুলং ঝরনা দেখতেরাঙ্গামাটি থেকে যার দূরত্ব ২৫ কিলোমিটারশুনলাম প্রায় ৩ শ ফুট উঁচু থেকে আছড়ে পড়ে ঝরনাসুরের মূর্ছনায় পর্যটকদের হৃদয় জুড়িয়ে যায়মনটা ব্যাকুল হলো দেখার জন্য
দু ধারে বিশাল ও বিরাট বিরাট উঁচু পাহাড় মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে আঁকাবাঁকা হ্রদের পানিএ যেন এক অন্য জগতযতই দেখি মন ভরে নাএকেকটি পাহাড় দেখতে একেক রকমএসব পাহাড়ে বাস করে উপজাতিরাপানিপথ ছাড়া তাদের শহরে যোগাযোগের কোনো রাস্তা নেইসে এক অন্যরকম জীবন তাদেরবেলা যখন প্রায় ৩টা, তখন সুভলং ঝরনার উৎসমুখে পৌঁছুলামকিন্তু কপাল মন্দসুলং ঝরনাধারা দেখতে পেলাম নাসুষ্ক মৌসুম হওয়ার কারণে ঝরনাধারা নাকি সম্প্রতি বন্ধ হয়ে গেছেতবে ঝরনাধারার চারপাশের প্রকৃতির রকমারি সৌন্দর্য দেখে বিমুগ্ধ আমরাআর ইচ্ছেই করছিল না ফিরে আসিবেলা গড়িয়ে গেছেঘটির কাঁটায় যখন ৩টা ১৭রাঙ্গামাটি ফিরে আসার জন্য ট্রলার আবার ছুটলোট্রলারে বসে আমাদের অনেকেই ছবি তোলায় ব্যস্তকেউ কেউ ভিডিও করছেনহ্রদের পানির সাথে আমাদের আনন্দও যেন ঢেউ খেলে যাচ্ছিলোদূর থেকে রাঙ্গামাটি জেলা শহর তখন দেখা যাচ্ছিলসূর্য ডুবু ডুবুঠিক সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে আমরা ঝুলন্ত সেতুর কাছে এসে নামলামআবারও ফটো তোলাতুলি চললো খানিক্ষণ
সন্ধ্যার পর রাঙ্গামাটি রাজবন বৌদ্ধবিহার পরিদর্শনে গেলাম আমরাবিশাল বড় এলাকাঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলামমূল মন্দিরে গিয়ে দুজন প্রার্থনারতগৌতম বৌদ্ধের মূর্তির সামনে আবছায়া আলোয় যে দুজন হাত জোড় করে প্রার্থনা করছেন তাদের মধ্যে একজন উপজাতি যুবতীকয়েক মিনিট পরেই ওই যুবতী দাঁড়িয়ে আমাদের সাথে কথা বললেনতিনি চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহ গিয়েছেন বলে জানালেনআমাদের কিছু জানার ছিলকিন্তু তার কাজ আছে বলে জানিয়ে তিনি চলে গেলেনছবি তোলা নিষেধতাই আমাদের কেউই ক্যামেরা তাক করলেন নাবৌদ্ধ বিহার থেকে ফেরার পথে বেশ কিছু দোকান চোখে পড়লো, যেখানে উপজাতি মহিলারা দোকানদারি করছেনএক দোকান থেকে চাকমা হরফে লেখা স্বরবর্ণ ও ব্যাঞ্জনবর্ণ শেখার বই কিনলামশহরে ঢুকে হোটেল খোঁজাখুঁজি চলছে রাতের খাবারের জন্যহঠাৎ প্রধান সড়কে একটি মিছিল। স্লোগান আসছে হরতাল, হরতালবিষয়টি জানার জন্য আমরা উদগ্রীব হয়ে উঠলামকী ব্যাপার, হরতাল কেন? আগামীকাল শুক্রবার। ছুটির দিনেতো হরতালের ডাক পড়ে না। পরে জানতে পারলামরাঙ্গামাটির গহীন অরণ্যে একজন বাঙালিকে হত্যা করা হয়েছেবাঙালিরা এ হত্যার দায় পাহাড়িরে ওপর চাপাতে চাইছেএ জন্য আগামীকাল ১৮ ফেব্রয়ারি শুক্রবার হরতাল আহ্বান করেছে বাঙালি একটি সংগঠনবান্দরবানে যাওয়ার কথাকিন্তু পরিস্থিতি নিয়ে দ্বিমত দেখা দিল আমাদের মধ্যেকারো কারো মত আগামীকাল বান্দরবানে যেতে হবেকেউ কেউ বললেন সরাসরি কক্সবাজারএ নিয়ে একটুআধটু মুখ কালাকালি হলো আমাদের মধ্যেতবে হরতাল আহ্বানের কারণে পাহাড়ি এলাকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে বান্দরবান ভ্রমণ বাতিল করা হলোহোটেলে ফিরে সাংবাদিক হোসেন জাকির রাঙ্গামাটির সাবেক জেলা প্রশাসক নূরুল আমিনের কাছে মোবাইল করলেনতিনি খানিক বাদে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসকের সাথে আলাপ করে জানালেন সকাল ৮টার মধ্যে শহর ছেড়ে যেতে হবেনা হলে হরতালে বাধা পড়ার আশঙ্কা থাকবেতাই সিদ্ধান্ত হলো কক্সবাজার যাওয়ার
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে আমি আহাদ আলী মোল্লা
১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে চট্টগ্রামের বাস ধরে রওনা হলাম কক্সবাজারের উদ্দেশেবাসের ভেতর থেকেই এক ভদ্রলোক দেখালেন রাঙ্গামাটির কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটিপরে আমার ডানপাশে বসা ভদ্রলোকের সাথে আলাপ হলোতিনি মোহাম্মদ আলীপেশায় সাংবাদিকরাঙ্গামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক জনকণ্ঠের জেলা প্রতিনিধিসাংবাদিক মোহাম্মদ আলী অনেক কিছুই চিনিয়ে দিচ্ছিলেন দেখালেন হালদা নদী; বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ মৎস্য প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্রবেলা ১২টার দিকে পৌঁছুলাম চট্টগ্রাম জেলা শহরেসেখান থেকে গাড়ি বদল করে কক্সবাজারের বাসে উঠে আবার শুরু হলো যাত্রা
প্রায় দুশ’ কিলোমিটারের যাত্রা কক্সবাজারনা, আর ভাল্লাগছে নাবসে থেকে থেকে মাজা লেগে যাচ্ছেইচ্ছে করছে একটু হাঁটতেকিন্তু তা তো আর সম্ভব হচ্ছে নাতবে বেলা ৩টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের প্রধান সড়কের ধারে একটি বাজারে দুপুরের খাবার বিরতি পেয়ে খানিকটা মাজা সাট করে নেয়া হলোখাবারের অবস্থা খুব খারাপমুখে আর ঢোকে নাকিন্তু খেতে যে হবেইশেষমেশ তেলাপিয়া আর কেউ কেউ কাচ্চি মাছ দিয়ে খেয়ে নিলামআমাদের পরিবহনটি ধীরে ধীরে কক্সবাজারের দিকে এগিয়ে চলেছেআমরা রাস্তার মাইলপোস্ট দেখে আশ্বস্থ হলাম আর কয়েক মিনিট গেলেই আমাদের কাঙ্ক্ষিত কক্সবাজারে পৌঁছে যাবআগেভাগেই এনজিও সংস্থা পালসে আমাদের ১৩ জনের সিট বুকিং দেয়া আছেবাসটি ঠিক ৫টার দিকে থামলো পালসের সামনেতড়িঘড়ি করে বাস থেকে নেমে হোটেলে উঠলামনামার সাথে সাথে পোশাক বদলে রেডি হলাম সমুদ্র সৈকতে যাওয়ার জন্যআর কিছুক্ষণ পরই সূর্য ডুবে যাবেসমুদ্রে সূর্য ডোবার অপরূপ দৃশ্যের কথা শুনলেও আমরা অনেকেই তা দেখিনিমনটা ছটফট করছেএখনই সেই সময়পালস থেকে সাগর সৈকত আরো দু কিলোমিটারের পথনাহেঁটে যাওয়া সম্ভব নয়ততক্ষণে সন্ধ্যা গড়িয়ে যাবেরাস্তার ধারে আসতে না আসতেই একটি আলমসাধু এসে থামলোতাতে চাপলাম কয়েকজনসাগরের কূলে নামলামবিশাল সাগরের অসংখ্য মাতাল ঢেউ আছড়ে আছড়ে পড়ছে কূলে এসেঢেউয়ের সে কী গর্জনসাগরের পাড়ে অসংখ্য পর্যটকের ভিড় থাকলেও পানিতে কেউ নেইএকলা একলা কেমন যেন গা ছমছম করছেসাগরের বিশালতা দেখে ভয় পাওয়ারই কথাকোনো সীমানা নেইদিগন্ত জোড়া সাগরে শুধু নীল পানিতে টইটম্বুদূরে চোখ দিলে কোথাও কোথাও খড়কুটোর মতো চোখে পড়ছে মাছ ধরা নৌকা বা ট্রলারসাগরে জোয়ার-ভাটা হয়আমরা যে সময় গেলাম তখন জোয়ারের সময়না, আর দেরি করলাম নাদৌড়ে নেমে পড়লাম সাগরের পানিতেআমার সাথে নামলেন সাংবাদিক যাহীদ জীবনপরে নামলেন কাজল মাহমুদএদিক ওদিক তাকিয়ে দেখলাম আমরা ৩ জন ছাড়া পানিতে আর কেউ নেইলাফ দিয়ে দিয়ে ঢেউয়ের সাথে খেলতে লাগলামএকটু বেশি পানিতে গেলেই কাজল ভাই বারণ করছেআর এগিয়ো নাযদি কোনো কিছু হয়ে যায় আর ফিরতে পারবে নাসাগরের পানিতে বিভিন্নভাবে আমরা ছবি উঠলামহোসেন জাকিরকে দেখলাম হাঁটু পর্যন্ত প্যান্ট গুটিয়ে সাগরের সৈকতে টুকটাক হাঁটছেনমাঝে মাঝে ক্যামেরার আলো জ্বালাচ্ছে বন্ধুবর জাহিদুল ইসলামএকই সাথে গোলাম কবীর মুকুল আর জেড আলম ভাই সাগরের উতলা ঢেউ অবলোকন করছেনআর ছবি তোলার পাশাপাশি মজা করছেন বিভিন্নভাবেহোসেন জাকিরের মতো রিচার্ড ভাই অর্থাৎ রিচার্ড রহমান পায়চারি করছিলেন সাগরের হাঁটু পানিতেসূর্য ডুবু ডুবুএইতো আর কিছুক্ষণের মধ্যেই সে সাগরের অতলতলে স্নান সেরে বিশ্রামে যাবেপ্রকৃতির কী যে আহ্বাতা অনুভব করছিলামকিন্তু বোঝাতে পারছি নাসূর্য ডুবে গেলে আমাদের গোসল শেষ হলোপালসে ফিরে মার্কেটে বেরুলাম সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে
বছর তিনেক আগেও একবার কক্সবাজার ভ্রমণে এসেছিলামতখন কক্সবাজার ছিল অনেকটা নিরিবিলিসাগরের সৈকতগুলোও ছিল খোলামেলাএখন সৈকত দখল বেদখল করে গড়ে উঠছে বিশাল বিশাল আবাসিক হোটেলসৈকতের পাশেই বসেছে বাজারপ্রকৃতি যেন মানুষের কাছে হার মেনে যাচ্ছেশহরে ভেতরে ঢুকে যে দৃশ্য দেখলাম, তাতে মনে হলো তিন বছর আগের সেই কক্সবাজার এটা নয়আমুল বদলে গেছেএকেবারে দশ থেকে পুরো একশোযানবাহনের ভিড়ে শহরে ঢোকাই এক জ্বালাফাঁকা কোনো জায়গা নেইবাড়ির ওপর বাড়িগাড়ির পাশে গাড়িএ যেন আরেক ঢাকাব্যস্ততার শেষ নেইনা জানি আর দু বছর পর কক্সবাজার কিসে পরিণত হবে গেলাম ঝিনুক মার্কেটেতারপর বার্মিজ মার্কেটেপর্যটক যিনিই আসেন এই বার্মিজ মার্কেটে কেনাকাটার জন্য একবার অবশ্যই ঢু মারেনআমরাও শখের বশে বাজার করতে ঢুকলামআমাদের দেশের মতো বার্মিজ কাপড়চোপড় উন্নত মানের নয়তবে অন্য দেশের জিনিস বলে কথাআমাদের সাথে থাকা অন্যরা রাত ১০টার মধ্যে হোটেলে ফিরে গেলেও জাহিদুল ইসলাম, রিচার্ড রহমান, যাহীদ জীবন, আবুল কাশেম আর আমি বাজার সেরে ফিরলাম রাত সাড়ে ১১টার দিকে
দেশের খ্যাতিমান কয়েকজন ছড়াকারের সাথে বই মেলায় আমি আহাদ আলী মোল্লা
আমাদের ভ্রমণের পালা শেষ১৫ ফেব্রুয়ারি ভ্রমণ শুরু আর আজ ১৯ ফেব্রুয়ারি শেষসকাল ১০টায় কক্সবাজার থেকে আমাদের ঢাকার বাসগোছগাছ করে বেরিয়ে পড়লাম সকলেইনাস্তা সেরে আরেকবার সাগর সৈকতসকাল আর বিকালে সাগরের দু রকম রূপ দেখলামকয়েকটি ছবি তুললেন কাজল ভাইতারপর ঢাকার উদ্দেশে রওনাঢাকার যাত্রাবাড়ি যখন বাস পৌঁছুলো তখন রাত ১১টাঅন্যরা চুয়াডাঙ্গার বাস ধরে রাতেই ঢাকা ত্যাগ করলেনআমি একুশে বই মেলায় যাওয়ার জন্য থেকে গেলামতাছাড়া ২০ ফেব্রুয়ারি ছিল সচিবালয়ে অফিসিয়াল কাজ

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন