সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১১

১২ সেপ্টেম্বর ২০১১

            যশোর রওনা দেয়ার জন্য অটোবাইকযোগে চুয়াডাঙ্গা চৌরাস্তামোড়ে পৌঁছুলাম। যশোর ভায়া ঝিনাইদহ যশোরের পরিবহনগুলো সকাল সাড়ে ৬টার মধ্যে চুয়াডাঙ্গা ছেড়ে গেছে। নিরাশ হলাম। আরো আগে আসা দরকার ছিল। চৌরাস্তারমোড়ে দেখা হলো আলমডাঙ্গা উপজেলার বটিয়াপাড়া-শিয়ালমারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুর রহমানের সাথে। উনিও শিক্ষাবোর্ডে যাচ্ছেন। মেহেরপুর থেকে ফরিদপুরগামী আলসানি পরিবহনে উঠলাম। সিট নেই। দাঁড়িয়ে যেতে হলো ঝিনাইদহ পর্যন্ত। সেখানে নেমেই ওঠা হলো গড়াই পরিবহনে। না। কপাল মন্দ। তাতেও সিট মিললো না। ঠাই দাঁড়িয়ে যশোর পালবাড়িমোড় পর্যন্ত। বোর্ড অফিসে জেএসসি পরীক্ষার প্রিন্টআউট জমা দেয়ার দিন ছিল। আজ আলমডাঙ্গা উপজেলার স্কুলগুলো জমা দেবে। সেখানে গিয়ে দেখা হলো মুন্সিগঞ্জ একাডেমীর প্রধান শিক্ষক, তিয়ারবিলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সিএইচআর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, এরশাদপুর একাডেমীর প্রধান শিক্ষক, আইলহাস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ বেশ কয়েকজনের সাথে। আধাঘণ্টার মধ্যেই সবার কাজ শেষ হয়ে গেল।
            যশোর রেলস্টেশনে গিয়ে উঠলাম সকাল সাড়ে ১০টার দিকে। না, ট্রেন নেই। সকাল ৯টার ঢাকাগামী রূপসা এক্সপ্রেস আসবে ১২টায়। টিকেট নেয়ার সময় স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন এ কথা জানালেন। স্টেশনে প্রতীক্ষার পর বেলা পৌনে ১২টায় ট্রেন এলো। ট্রেনের ভেতরে যে দৃশ্যটা দেখে হতবাক হলাম সেটা একটু আলোচনা করা দরকার। কয়েকজন চেকার একই সাথে টিকেট চেক করছেন। আমরা দুজন প্রধান শিক্ষক চেয়ারে টিকেট নিয়েছি। আমাদের পাশে একই পরিবারের ৫ জন উঠেছে যশোর থেকে। তারাও চুয়াডাঙ্গায় যাবে। তাদের কাছে চেকার টিকেট চাইলেন। তারা দৌড়ে ট্রেন ধরেছেন, ফলে টিকেট কাটতে পারেননি বলে জানালেন। দেখে মনে হলে পাড়াগাঁয়ের নিরীহ মানুষ। চেকার সুযোগ নিলেন। টিকেট দেয়ার কথা বলে ভাড়া আদায় করলেন; কিন্তু কোনো টিকেট দিলেন না। মিনিট বিশেক পর চেকারের সাথে দেখা হলে তারা টিকেট দাবি করলেন। না। চেকার বেমালুম হজম করে ফেললেন টাকা। চেকার সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, কোনো সমস্যা নেই। টিকেট লাগবে না। ট্রেনের মধ্যে আমার মতো অনেকেই আছেন কেউই কোনো প্রতিবাদ করলেন না। চেকারেরা এভাবে সরকারকে ফাঁকি দিচ্ছে। ভণ্ড চেকার শাদা পোশাক আর লাল টাই পরে জাতির সাথে প্রতারণা করে নিজের পকেট ভরছে। শুধু কষ্ট পাওয়া ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না আমার। ধিক্কার জানাই, ছ্যাপ ফেলি ওদের মুখে। ন্যাক্কারজনক এ ফাঁকিবাজি বন্ধ হবে কবে? ঘৃণা ছুড়ে দিয়ে বলি অমানুষের ছা তোমরা মানুষের মুখোশ পরে আর এ দেশের মানুষকে ঠকিয়ো না। মানুষ হও।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন