মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১১

১৯ সেপ্টেম্বর ২০১১

            আর এক মিনিট দেরি করলেই জেআর পরিবহনটা ফেল করতাম। বাসে উঠেই দেখা হলো চুয়াডাঙ্গার বোয়ালমারী গ্রামের একজন পরিচিত মানুষের সাথে। পাশাপাশি বসে গল্প করছিলাম। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ক্ষমাসিন দলের নেতৃবৃন্দের ব্যবহার নিয়ে কথা হচ্ছিল। তাতে একটা বিষয় পরিষ্কার হলো যে, যারা বড় মাপের নেতা বা মন্ত্রী তাদের সাথে কথা বলার সুযোগ পাওয়া যায় এবং তার মন দিয়ে কথাগুলো শোনেন। কাজটি পারলে করে দেন, না হলে ভালো পরামর্শ দেন। কিন্তু দলের চামচাদের ঠেলায়তো আর চলা যায় না। তাদের কাজের চেয়ে গর্জন বেশি। আমাদের দেশের মানুষের আদর্শ নিয়ে কথা হয়। অনেক আমলা ঘুষ খেয়ে সাতকে সতের আর নয়কে ছয় বানিয়ে দেন। গত দু বছরে লাখ লাখ টাকা উৎকোচ বাণিজ্য করে চুয়াডাঙ্গা জেলার মাধ্যমিক বি‌দ্যালয়গুলোতে অসংখ্য শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যাদের অধিকাংশই অযোগ্য। এসব অযোগ্য শিক্ষকের কারণে আগামীতে বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ যেমন বিঘ্নিত হবে, তেমনি ফলাফলও খারাপ হবে বলেই সচেতন ব্যক্তিরা মনে করছেন। অর্থ বাণিজ্য বা রাজনৈতিক বিবেচনায় অন্যান্য স্থানে চাকরি দিলেও শিক্ষা বিভাগটা পরিচ্ছন্ন থাকলে উন্নত জাতি গঠন সম্ভব। তা আমাদের গাড়ল নেতৃবৃন্দ বোঝেন না। আমার পাশে বসা পরিচিত ব্যক্তির এমন ঝাঁজালো কথায় বুঝলাম উনি বেশ সচেতন। আমাদের ঘরে ঘরে যদি এমন সচেতন ব্যক্তি থাকতো তাহলে বোধ হয় আমরা ভালো থাকতে পারতাম।
            আজকের পত্রিকার প্রধান খবর হলো সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। লিটারে ৫ থেকে ৮ টাকা বাড়ানো হয়েছে। গত সাড়ে ৩ মাসের ব্যবধানে এ সরকার দ্বিতীয় দফায় তেলের মূল্য বৃদ্ধি করলো। এমনিতেই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান দিন নিচে নেমে যাচ্ছে। তার ওপরে বারবার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি মানে সব জিনিসের সাথেই বাড়তি খরচ যুক্ত হওয়া। পত্রিকার খবর পড়ে আমাদের আনন্দিত বা হতাশ হওয়া ছাড়া আর কী আছে?
            সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যেই আমাদের বাসটি যশোর পালবাড়ি মোড়ে পৌঁছুলো। একটি অটোরিকশা নিয়ে আমরা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডে গেলাম। সেখানে দেখা হলো আলমডাঙ্গা উপজেলার কয়েকজন প্রধান শিক্ষকের সাথে। জেএসসি পরীক্ষার প্রিন্ট আউট নিতে বেশি দেরি হলো না। সবাই তড়িঘড়ি কাজ সেরে সেকাল ১০টায় স্টেশনে হাজির হলাম। যশোর রেলস্টেশনে এসে শুনলাম আজকের চিত্রা এক্সপ্রেসের ছুটি। বসে থাকতে হলো পৌনে ১২টা পর্যন্ত। রকেট মেলে রওনা দিলাম চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশে। অত্যন্ত ভিড়। কোনো রকমে বসার জায়গা করে নিলাম। বেলা সোয়া ২টার দিকে চুয়াডাঙ্গায় পৌঁছুলাম। তার আগে চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ইকবাল আতাহার তাজ ভাই মোবাইল করে বললেন মুন্সিগঞ্জে যেতে হবে। বাসায় এসে খানিক রেস্ট নিয়ে ৫টার দিকে রওনা হলাম মুন্সিগঞ্জের উদ্দেশে। ইকবাল আতাহার তাজ ভাই নিজেই ওনার গাড়ির ড্রাইভিং করছিলেন। কবি ময়নুল হাসান, আবুল কালাম আজাদ আর আমি সোয়ারী। মুন্সিগঞ্জে যাওয়ার উদ্দেশ্য আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর শুক্রবার চুয়াডাঙ্গা জেলা লেখক সম্মেলন ও সাহিত্যসভা অনুষ্ঠিত হবে মুন্সিগঞ্জে। জেহালা ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠানের কথা। মুন্সিগঞ্জে ঢুকেই জেহালা ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল হক রোকনের সাথে দেখা হলো। সেখানে নেমে তার সাথে প্রয়োজনীয় আলাপ সেরে ফেলা হলো। পরে মকবুলার রহমানের বাড়ির পাশে বসে কর্মসূচি পাকাপোক্ত করা হলো। সেখানে লেখক মঞ্জুরুল হক, জামান লিঙ্কন ও রোকন রেজা উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আমরা আবার ফিরে আসি চুয়াডাঙ্গায়। ঘণ্টাখানেক পর মাথাভাঙ্গা কার্যালয়ে ঢুকি।     

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন