শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১১

২২ সেপ্টেম্বর ২০‌‌১১

            বৃহস্পতিবারে হাফ স্কুল। ভাবলাম স্কুল শেষ করে মার সাথে দেখা করবো। শিক্ষকদের সাথে অনেক বিষয়ে আলোচনা হলো। আলোচনার এক পর্যায়ে স্কুল ছুটি হয়ে গেল। বাজার থেকে মার জন্যে কিছু খাওয়ার জিনিস নিয়ে বাড়ি গেলাম। স্কুলের আধা কিলোমিটার দূরেই আমাদের বাড়ি। আমার মোটরসাইকেলের শব্দ শুনেই মা ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন। বেশ কিছুদিন মার সাথে দেখা করতে পারিনি। এ জন্য মা কষ্ট পেয়েছেন। তিনি বললেন এদ্দিন পর মার কথা মনে পড়লো। একগাল হাসি দিয়ে বললেন। আমিও মুচকি হাসি দিয়ে না আসার কারণ জানালাম। অনেক কথা হলো। মাকে আমার খুব ভালো লাগে। কারো কোনো দুঃসংবাদ শুনলে মা কেঁদে ফেলেন আমার কথা ভেবে। না জানি তার ছেলে আহাদ আলী মোল্লার কোনো ক্ষতি হয় কি না! মা আজও আমাকে ছেলেবেলার মতো বারবার করে সাবধান করে দেন আমি যেন সাবধানে মোটরসাইকেল চালাই। সাবধানে চলাফেরা করি। রাতবিরেত একা বাইরে না যাই। সাংবাদিকতা করি বলেই মায়ের এমন সংশয় আমাকে নিয়ে। চুয়াডাঙ্গা সন্ত্রাস কবলিত এলাকা। ইতঃপূর্বে বজলুর রহমান নামের এক সাংবাদিককে চুয়াডাঙ্গা শহর থেকে নিয়ে সন্ত্রাসীরা গুম করে দিয়েছে। তার লাশটি পর্যন্তও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি পুলিশের পক্ষে। এ ছাড়া চুয়াডাঙ্গার বিশিষ্ট শিল্পপতি আশাবুল হক আশাকে ১৯৯৮ সালে অপহরণ পূর্বক গুম করা হয়। কত মানুষকে যে ইটভাটায় জ্যান্ত পুড়িয়ে মেরেছে সন্ত্রাসীরা তার ইয়ত্তা নেই। কত মানুষকে জবাই ও গুলি করে খুন করা হয়েছে। এসব ভেবেই আতঙ্কিত আমার মা। এভাবে অনেকের মা হয়তো সন্তানকে সাবধান করে দেন। আমার মাও তাদের একজন। যতই সাবধানে চলি মায়ের মনতো বুঝ মানে না। তবে আমি মাকে বলি, কোনো অপরাধের সাথে থাকি না, এবং কারো কোনো প্রকার ক্ষতি করি না। তবে পত্রিকায় লেখালেখির ব্যাপারে কারো কারো পক্ষে বিপক্ষে সংবাদ লেখা পড়ে যায়। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এটা স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। এতে কারো কারো ক্ষোভ থাকতে পারে বৈকি। আমাদের চুয়াডাঙ্গা এখন অনেকটা শান্ত। আগের মত নেই বোমা হামলা, নেই খুনখারাবি। তবে গোপনে চাঁদাবাজির খবর পাওয়া যায় মাঝে মাঝে। আমরা চাই আমাদের প্রিয় চুয়াডাঙ্গা একটা আদর্শ জেলা হিসেবে সারাদেশে স্বীকৃতি পাক। মানুষগুলো হয়ে উঠুক বড় মনের। দূর হোক হিংসা-বিদ্বেষ আর হানাহানি। আগামী প্রজন্ম বিদ্যা আর বুদ্ধিতে এগিয়ে যাক। ঘুচে যাক সন্ত্রাসী কবলিত চুয়াডাঙ্গার নাম।
            বাড়িতে বসে থাকতে থাকতেই আকস্মিক মেঘে ঢেকে আসতে লাগলো আকাশ। মা দুপুরে খেয়ে যাওয়ার জন্য বললেন। মেঘের কারণে তড়িঘড়ি বেরিয়ে পড়লাম। চুয়াডাঙ্গা কলেজরোডে ঢুকে কয়েক ফোটা বৃষ্টি পড়তে লাগলো। মোটরসাইকেলটা তাড়াহুড়ো করে ঘরে তুলতে না তুলতেই বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল। আর কয়েক মিনিট রাস্তায় দেরি করলেই বৃষ্টিতে ফিজে যেতাম। বাসায় ফিরে কিছু কবিতা কাটা-ছেঁড়া করলাম। করলাম পড়াশোনা। কিবা শীত, কি বা গ্রীষ্ম-বর্ষা রোজ দিনের শেষ দিকে আমাকে সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা ঘুমিয়ে নিতে হয়। এ যেন একটা অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে। না ঘুমুলে পত্রিকায় কাজ করার সময় মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকে। লেখালেখি করতে ভালো লাগে না। অভ্যাসটাকে কাজে লাগিয়ে নিলাম। সন্ধ্যায় মাথাভাঙ্গা অফিসে গেলাম।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন