শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১১

২৩ সেপ্টেম্বর ২০১১

সম্মেলন শুরুর আগে কবি সিরাজ সামজী, খন্দকার হামিদুল ইসলাম আজম, ইকবাল আতাহার তাজ ও অধ্যাপক লুৎফর রহমানের সাথে আমি
            চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার জেহালা ইউনিয়নের মুন্সিগঞ্জে আজ অনুষ্ঠিত হবে জেলা লেখক সম্মেলন ও সাহিত্যসভা। মুন্সিগঞ্জের অনির্বাণ সাহিত্য সংসদ আয়োজিত এ লেখক সম্মেলন সকাল ১০টায় শুরু হওয়ার কথা। আমাকে সকাল ৯টার মধ্যে সেখানে উপস্থিত হওয়ার কথা। কারণ আয়োজকদের মধ্যে আমিও একজন। স্নেহ ভাজন সাইফুল অর্থাৎ নায়ক সাইফুল। ওকে মশকরা করেই নায়ক সাইফুল বলি। ভালো নাম সাইফুল ইসলাম। আমি ওর নাম দিয়েছি সাইফ জাহান। ওর সাংবাদিকতা করার খুব ইচ্ছে। তাই বাপ-মার দেয়া নামটা খাস্ত করা আর কি। সাইফুলকে ফোন দিলাম সকাল সাড়ে ৮টার দিকে। বললাম মুন্সিগঞ্জে যেতে হবে। ও ৫ মিনিটের মধ্যেই রেডি। জেহালা ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠান শুরু হতে বেজে গেল বেলা সাড়ে ১১টা। কারণ একটাই। কবি-সাহিত্যিকদের উপস্থিতি দেরিতে ঘটায়। দেরির ফাঁকে আমি সকলের সাথে ফটোসেশনের কাজটা সেরে নিলাম। অনির্বাণ সাহিত্য সংসদের সভাপতি মজিবুল হকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে আসন গ্রহণ করলেন চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ইকবাল আতাহার তাজ। বিশেষ অতিথির আসনে বসলেন সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ওমর আলী মাস্টার, জীবননগর সাহিত্য পরিষদের আহবায়ক অ্যাড. গোলাম মোস্তফা হায়দার ও দামুড়হুদা সাহিত্য পরিষদের আহবায়ক মিজানুর রহমান মণ্ডল। সভার শুরুতে এলাকার প্রয়াত সাহিত্যসেবীদের স্মরণে কবি-সাহিত্যিকরা দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করেন। চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কবি-সাহিত্যিকেরা এসে সাহিত্যসভায় স্বরচিত লেখা পাঠ করেন।
            অনুষ্ঠানে চিরায়ত সাহিত্য মধ্যযুগের কবি দ্বিজ কানাইয়ের কবিতা মহুয়া ও নদের চাঁদের আলাপ পাঠ করে স্নেহভাজন মোহনা হাসান প্রেমা। সে মুন্সিগঞ্জ এলাকার কৃতী ব্যক্তিত্ব আমার শ্রদ্ধাভাজন ময়নুল হাসান চনার একমাত্র সন্তান। যারা স্বরচিত লেখা পাঠ করেন তাদের মধ্যে আমিও ছিলাম। আমি পাঠ করেছিলাম একটি ছড়া। ছড়ার শিরোনাম ছিল পাওয়ার পার্টির লোক। অন্যান্যের মধ্যে লেখা পাঠ করেন সামসাদ রানু, রাজু আনসারী, মাজিদ মান্না, আব্দুল কুদ্দুস, আব্দুল হামিদ, শওকত আলী, হারুন অর রশীদ, জামান আখতার, মীর মামুন হোসেন, শেখ সেলিম, ইদ্রিস মণ্ডল, মাহির তাজওয়ার, এমএ মামুন, সিরাজ সামজী, আসিফ জাহান, পিন্টু রহমান, জোয়াদ আলী, আরিফুল ইসলাম, খন্দকার হামিদুল ইসলাম আজম, রিক্তা নারগিছ, কবি গোলাম রহমান চৌধুরী, মানোয়ার হোসেন, অ্যাড. মুন্সি আব্দুর রশীদ, নজরুল ইসলাম, মুন্সি আবু সালেক, আব্দুল আজিজ, শেখ নজরুল ইসলাম, ডা. ইছাহক, রাজিয়া আক্তার রেখা, নৈস্বর্গ নজরুল রাইয়া, সুমাইয়া বিনতে হাকিম, গুরু চতুর, ডা. শাহিনুর হায়দার, শরীফ সাথী, রবিউল ইসলাম, মুরশিদ, রতন কুমার শর্মা, আব্দুল আলীম, মিজানুর রহমান মণ্ডল, সুইটি, হাসি, তাম্মি, জেবা, শাহাবুদ্দীন, আফাজ উদ্দিন মাস্টার, ফজলুল হক, ময়নুল হাসান, জামান লিঙ্কন, মজিবুল হক, মোহনা হাসান প্রেমা, আবুল কালাম আজাদ, মেহেরুন নেছা সংজ্ঞা, দেবেন্দ্রনাথ দোবে বাবুলাল, আবুল কাশেম মাস্টার, আবু সাঈদ, আব্দুল মান্নান ফকির, ডা. আব্দুল কাদের প্রমুখ। পঠিত লেখার ওপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের প্রভাষক মুন্সি আবু সাইফ, মোহাম্মদ আলাউদ্দীন, মনজুরুল হক ও আমি। মাঝে নাস্তার বিরতি দেয়া হয়। ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল হক রোকনের সৌজনে নাস্তাগুলো আসে। এরপর মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতি। খাওয়া দাওয়া শেষে অনুষ্ঠান আবার এগিয়ে চলে। অনুষ্ঠান সার্বিক উপস্থাপনা করে স্নেহভাজন রোকন রেজা ও জামান লিঙ্কন। অনুষ্ঠান চলে একেবারে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। আগামী শুক্রবার আলমডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের আয়োজনে আলমডাঙ্গায় অনুষ্ঠিত হবে সাহিত্য সভা। এ ঘোষণা দিলেন আলমডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের আসিফ জাহান। মুন্সিগঞ্জ থেকে সবাইকে বিদায় জানিয়ে যখন চুয়াডাঙ্গায় ফিরে এলাম, তখন প্রায় সন্ধ্যা। একটু ঘুমিয়ে নিলাম। রাত সাড়ে ৮টার দিকে দৈনিক মাথাভাঙ্গা অফিসে রওনা হলাম।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন