গতরাত সাড়ে ৯টার দিকে সাংবাদিক শাহাবুদ্দীনের পিতা নুর হোসেন মোল্লা মারা গেছেন। খবরটা কানে এসেছিল রাত ১১টার দিকে। দামুড়হুদার ফুটো সাংবাদিক স্নেহভাজন তাছির আমাকে প্রথম এ সংবাদ দেয়। আমি খবরটি দৈনিক মাথাভাঙ্গায় লিখি। পত্রিকায় লেখা হয়েছে সকাল ৯টায় তার দাফন সম্পন্ন হবে। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তাছিরকে একবার ফোন করে জেনে নিলাম আসল সময়টা। একই সময়ে দাফন কবে বলে সে জানালে আমি রওনা দিলাম। তবে একটু লেট হয়ে গেল। পবিত্র কোরআন শরিফে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, যার জীবন আছে তারই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। বিশ্বভ্রহ্মাণ্ডে যা কিছুর প্রাণ আছে তাকেই মরতে হবে। তবু পিতা-মাতা, ভাই-বোন বা সন্তান মারা গেলে সান্ত্বনা খুঁজে পেতে কষ্টতো হবেই। এক সময় হয়তো সবই স্বাভাবিক হয়ে আসে। সে পর্যন্ত প্রতীক্ষা করতে হয়। জীবনের সাথে যারা একান্তে মিশে একাকার। তাদের বিয়োগব্যথার বেদনার মুহূর্তগুলোকে সামাল দেয়া অবশ্যই কষ্টের। শাহাবুদ্দীন ভাইয়ের পিতা চলে গেলেন। এভাবেই আমাদেরকেও একদিন পরোপারে চলে যেতে হবে। আগে আর পরে। এমনভাবেই চলছে পৃথিবী। দুনিয়ার মায়া কাটিয়ে আমাদের সকলকেই যেতে হবে। এই সান্ত্বনা ছাড়া আমাদের আর কোনো পূঁজি নেই। তাই কদিনের মায়াকাননে মানুষের কল্যাণের জন্যে কাজ করে যেতে হবে। মানুষ মরে গেলে কিছুই থাকে না; কিন্তু তার কর্মফলের নির্যাস ভোগ করে তাবত জীবকুল। আমরা সবাই এরকম প্রত্যয় নিয়ে যদি এগিয়ে যাই, তাহলে সমাজের হানাহানি, হিংসা-বিদ্বেষ কি থাকে?
দৈনিক মাথাভাঙ্গার দামুড়হুদা অফিস প্রধান দামুড়হুদা সদর ইউনিয়নের দেওলী গ্রামের শাহাবুদ্দীন ভাই মাথাভাঙ্গার সাথে কাজ করছেন একযুগ ধরে। সেই সুবাদে তার সাথে আন্তরিকতা ও বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে আমাদের। তিনি আমাদের মাথাভাঙ্গা পরিবারেরই একজন। তার পিতার জানাজা দেওলী গ্রামেই অনুষ্ঠিত হবে। আমার পৌঁছুনোর আগেই জানাজা শেষ হয়ে গেছে। দাফনের প্রস্তুতি চলছিল। গোরস্তানে গিয়ে দেখা হলো সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম, বন্ধুবর শাহ আলম সনি, সালাউদ্দীন কাজল, কামালউদ্দীন জোয়াদসহ বেশ কয়েকজনের সাথে। দাফনে শরিক হওয়ার পর দোয়া অনুষ্ঠানে যোগ দিলাম। পরে শাহাবুদ্দীন ভাইয়ের সাথে দেখা করে আমরা ক’জন রওনা দিলাম। দামুড়হুদা তেমাথায় এসে চাচক্রে মিলিত হলাম আমরা। পরে যার যার গন্তব্যে চললাম। আমার মোটরসাইকেলে সোয়ার হয়ে চুয়াডাঙ্গায় এলেন উথলীর সাংবাদিক কামালউদ্দীন জোয়াদ। তাকে চুয়াডাঙ্গা আদালত চত্বরে নামিয়ে দিয়ে সদর হাসপাতালের দিকে ঢু মেরে বাসায় ফিরি। কদিন ধরে প্রচণ্ড গরম পড়ছে। আকাশে মেঘ করেছে। বৃষ্টির প্রয়োজন। হয়তো আল্লাহর রহমত হলেও হতে পারে। এরই মধ্যে সন্ধ্যার আগেভাগেই মাথাভাঙ্গা অফিসে ঢুকলাম।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন