শনিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

২২ ফেব্রুয়ারি ২০১২

২২ ফেব্রুয়ারি ২০১২
১০ ফাল্গুন ১৪১৮
২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩
রোজ : বুধবার।
কবি সুজন বড়ুয়া ও প্রখ্যাত শিল্পী হাশেম খানের পাশে কালো শার্ট পরিহিত আমি আহাদ আলী মোল্লা
খুবই ইচ্ছে ছিল প্রখ্যাত শিল্পী হাশেম খানকে দিয়ে আমার ছড়া গ্রন্থের ছবি আঁকাবো। এ কারণে ছড়ার বই ছাপায় দেরি হচ্ছে। এ ব্যাপারে স্নেহভাজন রাজিব আহমেদ একাধিকবার হাশেম খানের সাথে মোবাইলে কথা বলেছেন। কিন্তু উনি আঁকতে রাজি হননি। শারীরিক অসুস্থতা দেখিয়ে বলেছেন আরো কিছুদিন পরে। সকাল ৯টার দিকে রাজিব আহমেদের কাছ থেকে হাশেম খানের মোবাইল নম্বরটা সংগ্রহ করে ফোন দিলাম। বললাম আপনার সাথে দেখা করতে চাই। উনি বিকেল ৪টার পরে সময় দিয়ে বললেন শিশু একাডেমীতে দেখা হবে। বাসা থেকে বেরিয়ে বেলা ১০টার দিকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে গেলাম। ওখানে চাকরি করে স্নেহভাজন মনিরুজ্জামান মনির। ওর অফিসে গিয়ে বসলাম। ওর সাথে কয়েক ঘণ্টা কাটালাম। কথা হলো নিজের বিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ে। বেলা ৪টার দিকে দেশ বরেণ্য আঁকিয়ে হাশেম খানকে আবার ফোন দিলাম। উনি ৫টার সময় শিশু একাডেমীতে আসতে বললেন। আমি পৌনে ৫টার মধ্যে ওখানে গিয়ে উপস্থিত হলাম। ঘড়ির কাঁটায় ঠিক ৫টা। একটি শাদা প্রাইভেট কারযোগে শিশু একাডেমীর সামনে এসে নামলেন। ওনাকে দেখেই চিনে ফেললাম। লাল গেঞ্জি পরিহিত হাশেম খান ঢুকে গেলেন শিশু একাডেমীর ভেতরে। আমিও ওনার পিছু নিলাম। ঠিক যে কক্ষে উনি গিয়ে বসার মনোস্থাব করলেন আমি সেই দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম। আমার দিকে তাকিয়েই উনি অনুমান করলেন আমিই ওনাকে দুবার ফোন দিয়েছি। আমার দিকে তাকিয়ে জানতে চাইলেন চুয়াডাঙ্গা থেকে কি আমিও এসেছি ওনার সাথে দেখা করতে। আমি উত্তর দিলাম জি। ওনার পাশেই আমাকে বসতে দিলেন। কিছুক্ষণ পরে এলেন শ্রদ্ধাভাজন লেখক সুজন বড়ুয়া। উনি এসেই আমার ভালোমন্দের খবর নিলেন। জানতে চাইলেন ঢাকায় কবে এসেছি। হাশেম খান সাহেব শিশু একাডেমীর জন্য অনেক ছবি এঁকে নিয়ে এসেছেন। সেগুলো বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন। আমি ওনার পাশে বসে বসে সেগুলো দেখছিলাম। কী চমৎকার সব ছবি। বাংলাদেশের এক কিংবদন্তী আঁকিয়ে হাশেম খান। চোখ জুড়িয়ে যায় তার আঁকা ছবি দেখে। আমিও বিস্মিত হচ্ছিলাম। হাশেম খান খুবই আন্তরিক একজন মানুষ। আমাকে পাশে বসিয়ে নিয়ে চা বিস্কুট দিয়ে আপ্যায়িত করলেন। আমি ওনার সাথে ছবি উঠলাম। যখন সন্ধ্যা ছুঁই ছুঁই তখন আমি বিদায় নেবো বলে জানালাম। উনি লেখালেখি চালিয়ে যাওয়ার জন্য বললেন। এ দিনটি সত্যিই আমার স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সন্ধ্যার পরপরই বাইতুল মোকাররম মার্কেটে ঢুকলাম। ওখান থেকে বাসার জন্য কিছু কেনাকাটা সেরে রওনা দিলাম উত্তরায়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন