শনিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২
১১ ফাল্গুন ১৪১৮
০১ রবিউস সানি ১৪৩৩
রোজ : বৃহস্পতিবার।

২৩ ফেব্রুয়ারি পড়ন্ত বিকেলে সিরাজগঞ্জ যমুনা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে আমি আহাদ আলী মোল্লা
ভেবেছিলাম চুয়াডাঙ্গায় ফিরে যাবো আজ। কিন্তু এক বন্ধুর অনুরোধে আমাকে সিরাজগঞ্জে যেতে হচ্ছে। সকাল পৌনে ৭টায় সুন্দরবন এক্সপ্রেস টেনযোগে যাবো। সকাল ছটার আগেভাগেই আমাকে উঠতো হলো। প্রয়োজনীয় গোছগাছ সেরে নিয়ে সামান্য হেঁটে অটোবাইকে চড়লাম। বিমানবন্দর রেলস্টেশনে পৌঁছে জানতে পারলাম ট্রেন লেট। দু ঘণ্টা দেরিতে ট্রেন ছাড়লো। সিরাজগঞ্জে যেতে হলে আমাকে সদানন্দপুর স্টেশনে নামতে হবে। যমুনা সেতু ছেড়েই সে স্টেশন। বন্ধু বললো সদানন্দপুর স্টেশনে নামতে। কিন্তু আমি জামতৈল স্টেশনে পৌঁছে বন্ধুর কাছে ফোন দিয়ে জানতে পারলাম সদানন্দপুর স্টেশন পিছে ফেলে এসেছি। এখন উপায়? অগত্যা জামতৈল স্টেশনে নামতে হলো। ভুল যে কারণে হয়েছে তা পরে বুঝতে পারলাম। আসলে সদানন্দপুর নামে এখন কোনো স্টেশনই নেই। সদানন্দপুর স্টেশনের নাম বদলে এখন করা হয়েছে ক্যাপটেন মুনসুর আলী। ফলে সদানন্দপুর স্টেশনের প্রতীক্ষায় থাকতে গিয়ে ক্যাপটেন মুনসুর আলীকে পেছনে ফেলে যাই। জামতৈল থেকে একটি অটোবাইকযোগে গেলাম কড্ডার মোড় নামক একটি স্থানে। ওখান থেকে বাসে চড়ে গেলাম সিরাজগঞ্জের মিরপুর গ্রামে। গ্রামটি সিরাজগঞ্জ জেলা শহরের কাছেই। ১০টাকা রিকশা ভাড়া দিলেই শহরে যাওয়া যায়। মিরপুর বন্ধুর বাড়িতে নেমে খাওয়া দাওয়া সেরে একটু বিশ্রাম নিই।
সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধের কোলে দাঁড়িয়ে আমি আহাদ আলী মোল্লা
বিকেলে রাশেদ নামের এক কিশোরের সাথে ঘুরতে বের হলাম। সিরাজগঞ্জ জেলা শহরকে গিলে খেতে চায় যমুনা নদী। শহর রক্ষা বাঁধের কাছে গিয়ে হাঁটতে লাগলাম। এই এলাকাকে বলা হয় ক্লোজার। কী কারণে ক্লোজার বলে তা অবশ্য কারোর কাছ থেকে জানতে পারিনি। প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এ বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। গেল বন্যায় এ বাঁধে ফাটল ধরে ভেঙে যায়। এতে বাঁধের পার্শ্ববর্তী পাকা রাস্তার কিছু অংশ যমুনাগর্ভে হারিয়ে যায়। এবার সেসব ভাঙা বাঁধ আবারো নির্মাণ করা হচ্ছে। কোটি কোটি টাকা দিয়ে এ বাঁধ নির্মাণ করা হলেও কোনো ভরসা নেই। এক বছরের মধ্যেই এ বাঁধ আবারো ভেঙে যেতে পারে। কিন্তু যারা এ বাঁধ নির্মাণের টেন্ডার পায় তাদের কিছুই হয় না। ধিক্কার জানাই। বাঁধের চারিদিকে বিকেলে যেন মেলা বসে। বিভিন্ন এলাকা থেকে যুবক-যুবতীরা এখানে ঘুরতে আসে। আমারও বেশ ভালো লাগছিলো। বিশাল যমুনার পাশে দাঁড়িয়ে যখন পানিশূন্য যমুনার হাহাকার শুনতে পাচ্ছিলাম, তখন খুব কষ্ট হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল ফারাক্কা বাঁধের অভিশাপের কথা।
সন্ধ্যার পর পায়ে হেঁটে ঢুকলাম সিরাজগঞ্জ জেলা শহরে। আহারে কী পরিচ্ছন্নভাবে সাজানো জেলা শহরটি। প্রায় দু কিলোমিটার সোজা রাস্তার দু পাশে দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সারি। এ রাস্তায় একমাত্র রিকশা ছাড়া কোনো যানবাহন চলাচল করে না। রড-সিমেন্টের দোকানগুলোও অন্য রাস্তায়। যেখানে গাড়ি পার্কিঙের খোলামেলা জায়গা রয়েছে। ভারি চমৎকার। চোখ ধাধানো শহর। মনে রাখার মতো শহর। পরিকল্পিত এ শহর থেকে বেরুতে যেন ইচ্ছেই হচ্ছিল না।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন