২১ ফেব্রুয়ারি ২০১২
০৯ ফাল্গুন ১৪১৮
২৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩
রোজ : মঙ্গলবার।
![]() |
| হযরত মুহাম্মাদ (স.) এর দাড়ি মোবারক দেখানো হচ্ছে বাইতুল মোকাররম মসজিদের দোতলা থেকে |
![]() |
| হুজুর পাক (স.) এর দাড়ি মোবারক দেখতে এভাবেই ভিড় জমে মুসল্লিদের |
মহান একুশে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ। প্রভাতফেরির গানে গানে ঘুম ভেঙলো। আগেভাগেই কথা হয়েছে আমাদের চুয়াডাঙ্গার তরণ ইতিহাস গবেষক স্নেহভাজন রাজিব আহমেদের সাথে। ওর সাথে বাংলাবাজারে যেতে হবে। যেখান থেকে আমার দুটো ছড়ার বই বেরুনোর কথা। সেই গতিধারার প্রকাশকের সাথে আমরা আলোচনা করবো। বাস আর রিকশাযোগে আমি বাংলাবাজারে গিয়ে পৌঁছুলাম বেলা সাড়ে ১১টার দিকে। রাজিব আহমেদ ও গতিধারার প্রকাশক সিকদার আবুল বাশার গতিধারায় বসে ছিলেন। বেশ ঘণ্টা দেড়েক ওখানে বসে আড্ডা আলোচনা হলো আমার প্রকাশিতব্য বই দুটোর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে। কয়েক দিনের মধ্যেই ছাপার কাজ শেষ হবে বলে প্রকাশ সিকদার আবুল বাশার জানালেন। ওখান থেকে আমার পছন্দের মতো কয়েকটি বই কিনলাম। পরে রাজিব আহমেদের মোটরসাইকেলে উঠে আমরা পুরান ঢাকার একটি হোটেলে খাওয়া দাওয়া সেরে নিলাম। কিছুক্ষণ পরেই বাইতুল মোকাররম মার্কেটে দেখা হলো বন্ধু মোস্তাক ও তার কয়েকজন বন্ধুর সাথে। আজ বাইতুল মোকাররম মসজিদে মহনবী হযরত মোহাম্মদের (স.) দাড়ি মোবারক ও তাঁর ব্যবহৃত কিছু জিনিস প্রদর্শিত হচ্ছে। সুদূর তুরস্ক সরকার এ প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেছে। গতকাল এ প্রদর্শনীর বিষয়টি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। বেশ কদিন আগে এ প্রদর্শনী শেষ হলেও মুসল্লিদের অনুরোধে তা আজ সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রদর্শনীর কথা রয়েছে। গতকাল থেকেই নিয়ত করে আছি এ প্রদর্শনীতে আমি যাবো। হুজুর পাকের (স.) দাড়ি ও তাঁর ব্যবহৃত জিনিস চোখে দেখলেই অনেকটা শান্তি পাবো বলেই আমার এ নিয়ত। তখন ঘড়ির কাঁটায় পৌনে ৩টা। মোস্তাক বললো প্রদর্শনী শেষ হয়ে গেছে। শুনে মনটা খুব খারাপ হলো। ভাবলাম এখনো তো ৪টা বাজেনি। তাহলে শেষ হবে কেন? আমি নাছোড়বান্দা। শেষমেশ বাইতুল মোকাররম মসজিদে ঢুকে পড়লাম। ভাগ্য আমার ভালো। গিয়ে দেখলাম দেখানো হচ্ছে। একটি বোতলে ভরা দাড়ি মোবারক দেখানো হচ্ছে। শ শ ধর্মপ্রাণ নারী-পুরুষ তা পাগলের মতো দেখেছেন। আমিও তাদের মধ্যে একজন। তুরস্করের একজন তা নিজহাতে দেখাচ্ছেন। তার সাথে ভিড় করেছে কয়েক ডজন সাংবাদিক ও তাদের ক্যামেরা। দেখে স্বস্তি পেলাম। মনে হলো আমিও অনেকের মধ্যে একজন ভাগ্যবান মুসলমান।
![]() |
| ছড়াকার আদিত্য রুপু ও সরদার নাসিরুদ্দীনের সাথে আমি আহাদ আলী মোল্লা |
এইবার একা হয়ে গেলাম। অন্যদের বিদায় দিয়ে সোজা চলে গেলাম একুশের গ্রন্থ মেলায়। মেলায় ঢুকেই ছড়াকার কামাল হোসাইনের সাথে দেখা করলাম শিশু একাডেমীর স্টলে গিয়ে। পরে মোবাইলে খোঁজ করলাম আরেক তরুণ লেখক আদিত্য রুপুকে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই তিনি হাজির হলেন মেলায়। ওনার সাথে ছিলেন আরেক লেখক আহমেদ জাকির। আমরা তিনজন মেলায় ঘুরে ঘুরে বই কিনতে লাগলাম। দেখা হলো আরেক নবীন লেখক সরদার নাসিরুদ্দীনের সাথে। আজ মেলায় সবচে’ বেশি ভিড়। তেমনি পায়ে পায়ে উড়ছে ধুলোবালি। পুরো মেলা এলাকায় যেন ধুলো আর ধুলো। সন্ধ্যার আগেভাগেই মেলা থেকে বিদায়ের প্রস্তুতি নিলাম। কারণ সন্ধ্যার পর যখন সবাই নিজ নিজ আশ্রয়ে ফেরার জন্য মেলা ত্যাগ করবে তখন ভিড়ের ঠেলায় বাসায় ফেরা মুশকিল হয়ে যাবে। প্রায় দু কিলোমিটার থাকবে এ ভিড়ের ধকল। ফিরতে শুরু করলাম। বিমানবন্দর স্টেশনে এসে চুয়াডাঙ্গায় ফেরার টিকেট কেটে নিলাম। এরপর ফিরলাম উত্তরার বাসায়।
.jpg)
.jpg)
.jpg)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন