শনিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

২০ ফেব্রুয়ারি ২০১২

২০ ফেব্রুয়ারি ২০১২
০৮ ফাল্গুন ১৪১৮
২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩
রোজ : সোমবার।
একটি টিভি চ্যানেলের সাথে কথা বলছেন কবি আল মাহমুদ, পাশে কালো শার্ট পরিহিত আমি
ফজরের আজান হয়ে গেছে। মুসল্লিরা মসজিদে যাচ্ছেন। ঢাকার বিমান বন্দর স্টেশনে ট্রেনটি পৌঁছুলে নেমে পড়লাম। এখনো চারিধারে ফরসা হয়নি। এ মুহূর্তে রাস্তায় বেরুনো ঠিক হবে না। চারপাশ পরিষ্কার হলে তবে না বেরুবো। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতেই স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি হয়ে গেল। আমি যাবো উত্তরার উত্তরখান হাইস্কুলের কাছে। কিন্তু অটোবাইক ওয়ালা আমাকে নিয়ে গেল দক্ষিণখান হাইস্কুলের কাছে। বিধায় আরেকবার আমাকে অতিরিক্ত রিকশা ভাড়া দিতে হলো । উঠবো বন্ধুবর মোস্তাক আহমেদের বাসায়। আমি চিনবো না বলে সে আগেভাগেই বাসার নিচে দাঁড়িয়ে ছিল। নতুন সাততলা বিল্ডিং। এখনো পুরোপুরি কাজ শেষ হয়নি। মোস্তাকরা থাকে চতুর্থ তলায়। সিঁড়ি বেয়ে বেয়ে উঠলাম। জার্নি করার ফলে আমি অনেকটা ক্লান্ত। তাছাড়া ঘুমোনোও হয়নি। গোসল সেরে ফ্রেশ হয়ে নিলাম। নাস্তাপানি সেরে বাসা থেকে বাইরে বেরুতে বেলা ১১টা। চারিদিকে একুশের গান বাজছে। সেই চিরচেনা চিরজানা হৃদয়কাড়া সুর আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি?’ বাসা থেকে বেরুনোর সময় ফুল কিনে আনার জন্য তাগিদ দিলো মোস্তাকের স্কুলপড়ুয়া ছেলে। কারণ ওরা স্কুলের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে ফুল দেবে কাল একুশে ফেব্রুয়ারির দিন।
ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিনের পেছনে ক্যামেরার পানে তাকানোর চেষ্টা করছি আমি
আমরা এদিক ওদিক ঘুরে একটি চায়নিজে ঢুকে দুপুরের খাবার খেলাম। বিকেলে গেলাম একুশের বই মেলায়। বই মেলায় ঘুরতে আমার খুবই ভালো লাগে। বিখ্যাত সব লেখক আর খ্যাতিমান ব্যক্তিদের দেখা মেলে এখানে। আজ বই মেলায় ঢুকেই এ রকম অনেকের সাথে দেখা হলো। দেশের প্রধান কবি আল মাহমুদ, ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিন, বিশিষ্ট লেখক মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, ইমদাদুল হক মিলন, আহমেদ মাজহার, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উদেষ্টা সুলতানা কামাল, খ্যাতিমান লেখক ড. আনিছুজ্জামান, প্রখ্যাত ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন, রফিকুর রশীদসহ অনেকেই এসেছেন বই মেলায়। ওনাদের সাথে আমার দেখা হলো। খুব কাছ থেকে দেখলাম, কথা বললাম এবং কারো কারো সাথে ছবিও উঠলাম। এঁদের মধ্যে ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিন ও কবি আল মাহমুদ বয়জ্যেষ্ঠ। তারা বয়সের ভারে একেবারে নুয়ে পড়েছেন। অন্যের সাহায্য ছাড়া চলতে পারেন না। বেশ কিছু বই কিনলাম মেলায় ঘুরে ঘুরে। তবে ক্রেতার চাইতে মেলায় দর্শনার্থীর সংখ্যাই বেশি। ওদের ঠেলায় বইয়ের স্টলগুলোয় ঠিক মতো দাঁড়ানোও যায় না।
মেলার মাঠে ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটনের সাথে আমি আহাদ আলী মোল্লা
চুয়াডাঙ্গা জেলার কৃতীসন্তান অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক জিএম আফসার উদ্দিন আহমেদের সাক্ষাৎকার নিতে হবে। আমরা চারজন মিলে গেলাম তার নিউস্কাটন দিলু রোডের বাসায়। একজন গুণী মানুষ উনি। ইংরাজি-বাংলা মিশিয়ে কথা বলেন খুবই চমৎকার উচ্চারণে। দিলেন চমৎকার আতিথেয়তা। ওনার সাথে কথা বলতে আমাদের ঘণ্টা দেড়েক সময় কেটে গেল। এরপর আমরা ফিরলাম উত্তরার বাসায়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন