১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১২
০৭ ফাল্গুন ১৪১৮
২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩
রোজ : রোববার।
আন্তঃনগর সার্ভিস সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনযোগে ঢাকায় যাওয়ার ইচ্ছে আছে। কিন্তু গতরাত পর্যন্ত টিকিট পাইনি। সকালে স্নেহভাজন সাংবাদিক খাইরুজ্জামান সেতু ফোন দিয়ে জানালো টিকিট পাওয়া যাবে। কিছু লেখালেখির কাজ হাতে ছিল। সেগুলো দিনের বেলায় বসে বসে সারতে লাগলাম। দুপুর গড়িয়ে কখন যে বিকেল হয়ে গেছে তা টেরই পাইনি। এভাবেই একদিন জীবনসন্ধ্যা নেমে আসবে। সেদিন আর দূরে নেই। এসব ভাবছিলাম আর কাজ করছিলাম। ছোট খালা বাসায় বেড়াতে এসেছে। খালা আমার পাশে বসে বসে আমার হারানো ছেলেবেলার স্মৃতি রোমন্থন করছিলো আর কাঁদছিল। ছেলেবেলার সব স্মৃতিই যেন পিছু ডাকে। মনে হয় আবার যদি হারানো সেসব স্মৃতিময়-মধুময় দিন খুঁজে পেতাম। আহারে কত মজাই না হতো। খালা আমাকে খুব আদর করতো। মায়ের মতো আমাকে কোলে নিয় সারা পাড়া ঘুরতো। আমার মনে আছে আমি যখন ক্লাস টু বা থ্রিতে পড়ি, তখন বেশ বড়। খালা আমার ওজন সামলাতে পারে না তাও কোলে নিয়ে ঘুরিয়েছে। নানাবাড়ির আদর স্নেহের সেই স্মৃতি আমাকেও কষ্ট দেয়। কেঁদে ফেলি। হায়রে আমার হারানো ছেলেবেলা। এখন নানা নেই, নানি নেই, মেজ মামাও মারা গেছেন। আমার মা, ছোট খালা, বড় মামা ও ছোট মামা বেঁচে আছেন। আমি সকাল থেকে একটানা বসে বসে লেখাজোখার কাজ করছি। খালা যেন বিরক্ত হয়ে গেল। আদর করে বললো বাপ তুই ওঠতো। আর কতক্ষণ বসে থাকবি। তোর কি মাজাও লাগে না? এসব কথা শুনে আমি মনে মনে হাসছিলাম। দুপুরের খাওয়া দাওয়া সেরে খালা চলে গেল। খালার বিয়ে হয়েছে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কবিখালী গ্রামে। সেই সুবাদে এখন ওটাই তার বাড়ি। খালার বিয়ের কথাও আমার বেশ মনে আছে। আমি তখন খুবই ছোট। বিয়ের আয়োজনের সেসব কথা আমার বেশ মনে পড়ে। মনে আমার নানার কথাও। আর আমি অনেক বড় হলে মারা গেছেন নানি। ছেলেবেলায় প্রিয় মানুষদের হারালে সারা জীবন মনে কষ্ট থেকে যায়। আমারও সেই কষ্ট। এখন হলে হয়তো কিছুটা তাদের দেখাশোনা করতে পারতাম। স্নেহ আশিস ভালোবাসা অনেকই তাদের কাছ থেকে পেয়েছি কিন্তু কোনো প্রতিদান দেয়া হয়নি।
রাত ৯টার দিকে প্রয়োজনীয় ব্যাগব্যাগেজ গুছিয়ে নিয়ে বাসা থেকে বেরুলাম ঢাকার উদ্দেশে। প্রথমেই মাথাভাঙ্গা দপ্তরে গিয়ে খাইরুজ্জামান সেতুর সাথে দেখা হলো। তার কাছ থেকে ঢাকার টিকিটটা নিয়ে গেলাম কবি ময়নুল হাসানের বাড়িতে। পরে আবার মাথাভাঙ্গা দপ্তরে ফিরে সামান্য কাজ করি। পরে রাত পৌনে ১১টার দিকে হাঁটলাম রেলওয়ে স্টশনের দিকে। রাত সোয়া ১১টার দিকে ট্রেনটি এসে পৌঁছুলে চুয়াডাঙ্গায়। আলমডাঙ্গা স্টেশন থেকে কবি সামসাদ রানু উঠলেন। ওনার সাথে দেখা হয়ে গেল। বেশ ভালো লাগলো। কিছুক্ষণ পর প্রেশারের কারণে উনি অসুস্থ হয়ে গেলেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন