১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১২
০৬ ফাল্গুন ১৪১৮
২৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩
রোজ : শনিবার।
১৮ ফেব্রুয়ারি মুজিবনগর স্মৃতি ফলকের পাশে দাঁড়িয়ে আমি আহাদ আলী মোল্লা |
ভোর সোয়া ৫টার দিকে ঘুম থেকে জেগে উঠলাম। গুছিয়ে নিলাম কুষ্টিয়া যাবো বলে। ভোর ৬টায় ট্রেন। কুষ্টিয়ার শিলাইদহে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি পরিদর্শনে যাওয়ই মূল উদ্দেশ্য। ওখানে আমি আরেকবার গিয়েছি ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে। সেবার কুষ্টিয়ায় থেকে আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলাম। পরীক্ষার মাঝে একদিন ছুটির দিনে কুঠিবাড়ি গিয়েছিলাম। অনেক মনে পড়ে সে কথা। বেশ ক’জন সহপাঠীর সাথে সেদিন যাওয়া পড়েছিল। আজ পরিণত বয়সে যাবো। আরেক রকম চোখ দিয়ে অনুভব করবো সব কিছু। দুঃখের বিষয় চুয়াডাঙ্গা রেলস্টেশনে সময় মতো পৌঁছুতে না পারায় ট্রেনটি পেলাম না।
মন খারাপ হলো। কী করা যায়! অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলাম মেহেরপুরের ঐতিহাসিক মুজিবনগরে যাবো। যেখানে বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার গঠন করা হয়েছিল। বড়ভাই কবি ময়নুল হাসান ভাই সপরিবারে মুজিবনগরে যাবেন। আমি তাদের সঙ্গী হলাম। বাস সংকট। সড়কে বাস নেই বললেই চলে। কীভাবে যাওয়া যায়?
১৮ ফেব্রুয়ারি দামুড়হদার আট কবর স্মৃতি কমপ্লেক্সের সামনে দাঁড়িয়ে আমি আহাদ আলী মোল্লা |
প্রথমে অটোবাইকে দামুড়হুদায়। পরে একটি করিমনযোগে মুজিবনগরে পৌঁছুলাম। মাঝখানে কার্পাসডাঙ্গায় গিয়ে শ্বশুরের সাথে দেখা হলো, কথা হলো। মুজিবনগরে নাস্তা সারলাম। এরপর ঐতিহাসিক আম্রকাননসহ বিশেষ বিশেষ স্থাপনাগুলো ঘুরে ঘুরে দেখলাম আর ফটো উঠলাম। বেলা দেড়টার দিকে বেঁধে নিয়ে যাওয়া খাবার খেলাম আমবাগানের মাঝখানে বসে। চারিদিকে মানুষ আর মানুষ। প্রতিদিন অসংখ্য বাসযোগে এ স্থান পরিদর্শনে আসে দেশের হাজার হাজার মানুষ। আমরা যখন খাওয়া দাওয়া সারছিলাম তখনো চারিদিকে লোকজনের অবাধ চলাচল। খেতে গিয়ে লজ্জাও পাচ্ছিলাম। অনেকেই আমাদের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছিলেন। আমরা খাওয়া দাওয়া শেষ করলাম। পরে একটি আলমসাধুযোগে দামুড়হুদার আট কবরে পৌঁছুলাম। ওখানকার বিশেষ বিশেষ স্থাপনা ঘুরে ঘুরে দেখছিলাম। ছবি উঠলাম অনেক। তারপর একটি বাস ধরে বেলা ৪টার দিকে চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশে রওনা দিলাম। বাসায় ফিরে ঘুমিয়ে নিলাম। এরপর চললাম মাথাভাঙ্গা অফিসে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন