বৃহস্পতিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২
০৩ ফাল্গুন ১৪১৮
২২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩
রোজ : বুধবার
মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার ভাটপাড়া নীলকুঠির সামনে দাঁড়িয়ে আমি আহাদ আলী মোল্লা
            দেখার কোনো শেষ নেই। আমি চুয়াডাঙ্গার মানুষ। এ জেলায় কয়টি গ্রাম আছে তা কোনোদিন দেখা হয়নি। হয়তো সারা জীবনেও জেলার সবকটি গ্রামে আমার পা পড়বে না। কিন্তু বিশেষ বিশেষ কিছু জায়গা, বিশেষ বিশেষ দর্শনীয় কিছু স্থান ও স্থাপনা পরিদর্শন করতে আমার মন টানে। দিনে দিনে যেগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। সেরকমই একটি স্থান ভাটপাড়া নীলকুঠি। এটি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত। আগেভাগেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল ওখানে যাওয়ার। গতরাতেই বন্ধুবর তৌহিদ হোসেন তোতার সাথে এ ব্যাপারে আমার আলাপ হয়েছিল।
            সকাল সাড়ে ১০টায় আমি ও তোতা আলাদা আলাদা মোটরসাইকেলযোগে রওনা দিলাম। মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলা শহরে যখন পৌঁছুলাম তখন প্রায় বেলা ১টা বাজে। ফলের দোকানে দাঁড়িয়ে আপেল খেয়ে নিলাম। কিছুক্ষণের মধ্যে আমাদের সাথে যোগ দিলেন দৈনিক মাথাভাঙ্গার গাংনী উপজেলা প্রতিনিধি মাজেদুল হক মানিক। ওনার সাথে রওনা দিলাম ভাটপাড়া নীলকুঠি দেখতে। এর আগে ওই সাহারবাটি এলাকায় আমি কোনোদিন যাইনি। ওখানে বেলা দেড়টার দিকে পৌঁছুলাম। ইংরেজদের নীলকুঠির নির্মাণশৈলী দেখে অভিভূত হলাম। চৌহদ্দি ঘুর দেখতে আমাদের ঘণ্টাখানেক সময় লাগলো। নীলকুঠির দোতলায় উঠলাম। বিভিন্ন স্থানে দাঁড়িয়ে ছবি উঠলাম। বেশ ভালো লাগছিল। এটিকে যদি একটি পিকনিক স্পট বানানো যায়, তাহলে এটি যেমন রক্ষণাবেক্ষণ হবে তেমনি সরকার এখান থেকে বছরে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব পাবে। এ উদ্যোগ গ্রহণ অবশ্যই জরুরি বলে আমি মনে করি। কারণ এক শ্রেণির মানুষ এ কুঠি ভবনের লোহার বিম, ইটপাটকেল প্রতিনিয়ত চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। এভাবেই যদি অবহেলায় পড়ে থাকে তাহলে এ ভবন নিঃচিহ্ন হতে বেশিদিন সময় লাগবে না।
            বেলা ৩টার দিকে গাংনী শহরে এসে আমাদের খাওয়া দাওয়ার পালা শেষ হলো। তারপর মোটরসাইকেল নিয়ে আবার ছুটলাম। মেহেরপুর সদর উপজেলার বারাদী কৃষি খামারে এসে আবার শুরু হলো ফটোসেশন। এরপর চুয়াডাঙ্গায় বাসায় ফিরে ঘুমিয়ে নিলাম। ঘুম যখন ভাঙলো তখন রাত ৯টা। তারপর মাথাভাঙ্গা দপ্তরে গিয়ে কাজ শুরু। কাজ শেষ হলো রাত সোয়া ৩টায়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন