১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২
০২ ফাল্গুন ১৪১৮
২১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩
রোজ : মঙ্গলবার
আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। বাংলাদেশের কিছু ব্যবসায়ী ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে প্রথম উদ্যোগী হয়ে ভ্যালেন্টাইন ডে বা বিশ্ব ভালোবাসা দিবস পালন করে। আর মিডিয়া খুব ভালোভাবে সেটাকে কভারেজ দয়ে। বা! অমনিই শুরু হয়ে গেল বিশ্ব ভালোবাসা দিবস পালন। সেই থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি দিবসটি পালিত হয়ে আসছে বাংলাদেশে। ইতিহাস বলে, ভ্যালেন্টাইন যখন কারাগারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অপেক্ষায়, তখন তিনি জেলারের (কারা কর্তৃপক্ষ) দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কন্যার প্রেমে পড়েন। কথিত আছে, তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসায় সেই কন্যা দৃষ্টি ফিরে পান। তিনি প্রেমিকার উদ্দেশে এক বার্তায় লেখেন, ‘ইতি তোমার ভ্যালেন্টাইন’ এই বার্তাটি শ শ বছর ধরে প্রেমিক-প্রেমিকাদের মুখে মুখে সঞ্চারিত হয়ে আসছে। প্রেমের প্রতি ভ্যালেন্টাইনের গভীর অনুরাগের জন্যই ভ্যালেন্টাইন রোম সম্রাট ক্লডিয়াসের বিরাগভাজন হন। সম্রাট ঘোষণা করলেন, তাঁর রাজত্বে কোনো তরুণ বিয়ে করতে পারবে না, কারণ বিবাহিতরা ভালো সৈনিক হয় না। সম্রাটের প্রচুর সৈনিকের প্রয়োজন ছিল, সে জন্যই ওই আদেশ।
২৭০ খ্রিস্টাব্দের কথা। তখন রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াস নারী-পুরুষের বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন। তার ধারণা ছিল, বিয়ে করলে যুদ্ধের প্রতি পুরুষদের অনীহা সৃষ্টি হয়। সে সময় রোমের খ্রিস্টান গির্জার পুরোহিত ‘ভ্যালেন্টাইন’ রাজার নির্দেশ অগ্রাহ্য করে গোপনে নারী-পুরুষের বিয়ের কাজ সম্পন্ন করতেন। এ ঘটনা উদঘাটিত হওয়ার পর তাকে রাজার কাছে ধরে নিয়ে আসা হয়। ভ্যালেন্টাইন রাজাকে জানালেন, খিস্টধর্মে বিশ্বাসের কারণে তিনি কাউকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে বারণ করতে পারেন না। রাজা তখন তাকে কারাগারে নিক্ষেপ করেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় রাজা তাকে খ্রিস্টান ধর্ম ত্যাগ করে প্রাচীন রোমান পৌত্তলিক ধর্মে ফিরে আসার প্রস্তাব দেন এবং বিনিময়ে তাকে ক্ষমা করে দেয়ার কথা বলেন। উল্লেখ্য, রাজা দ্বিতীয় ক্লডিয়াস প্রাচীন রোমান পৌত্তলিক ধর্মে বিশ্বাস করতেন এবং তৎকালীন রোমান সাম্রাজ্যে এ ধর্মের প্রাধান্য ছিল। যা হোক, ভ্যালেন্টাইন রাজার প্রস্তাব মানতে অস্বীকৃতি জানালেন এবং খ্রিস্ট ধর্মের প্রতি অনুগত থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করলেন। তখন রাজা তাকে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেন। অতপর রাজার নির্দেশে ২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
রোমের যে স্খানে ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল, ৩৫০ সালে সেখানে তার স্মরণে একটি গির্জা নির্মাণ করা হয়। অবশেষে ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ধর্মগুরু পোপ গ্লসিয়াস ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ হিসেবে ঘোষণা করেন। ভ্যালেন্টাইন কারারক্ষীর যুবতী মেয়েকে ভালোবাসার কারণে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ধর্মগুরু পোপ গ্লসিয়াস ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ ঘোষণা করেননি। কারণ, খ্রিস্ট ধর্মে পুরোহিতদের জন্য বিয়ে করা বৈধ নয়। তাই পুরোহিত হয়ে মেয়ের প্রেমে আসক্তি খ্রিস্ট ধর্মমতে অনৈতিক কাজ। তা ছাড়া, ভালোবাসার কারণে ভ্যালেন্টাইনকে কারাগারে যেতে হয়নি। কারণ, তিনি কারারক্ষীর মেয়ের প্রেমে পড়েছিলেন কারাগারে যাওয়ার পর। সুতরাং, ভ্যালেন্টাইনকে কারাগারে নিক্ষেপ ও মৃত্যুদণ্ডদানের সাথে ভালোবাসার কোনো সম্পর্ক ছিল না। তাই ভ্যালেন্টাইনের কথিত ভালোবাসা সেন্ট ভ্যালেন্টাইন ডে’র মূল বিষয় ছিল না। বরং ধর্মের প্রতি গভীর ভালোবাসাই তার মৃত্যুদণ্ডের কারণ ছিল।
খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের একটি ধর্মীয় উৎসব কীভাবে প্রেমিকা-প্রেমিকদের উৎসবে পরিণত হলো এটা জানার জন্য আমাদের প্রাচীন রোমান পৌত্তলিক ধর্মীয় উৎসব ‘লুপারকেলিয়া’ সম্পর্কে জানতে হবে। ১৪ ফেব্রুয়ারি খ্রিস্টান সম্প্রদায় কর্র্তৃক ভ্যালেন্টাইন ডে হিসেবে ঘোষণার আগে এ দিনটি পৌত্তলিক ধর্মীয় উৎসব হিসেবে পালিত হতো। তখন তারা ফেব্রুয়ারি মাসের ১৩ থেকে ১৫ তারিখ পর্যন্ত লুপারকেলিয়া উৎসব পালন করতো।
এ দিনে রোমানদের আরেকটি উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি ছিল, প্রেমের দেবী জুনুর আশীর্বাদ কামনায় যুবকদের মধ্যে যুবতীদের বণ্টনের জন্য লটারির আয়োজন। তারা যুবতী মেয়েদের নাম লিখে একটি বাক্সে রাখতো এবং লটারির মাধ্যমে যুবকরা এসে নাম তুলতো। লটারিতে যার সাথে যার নাম উঠতো এক বছরের জন্য তারা লিভ টুগেদার করত। এ ধরনের নানা অনৈতিকতা, কুসংস্কার ও ভ্রান্ত বিশ্বাসে আচ্ছন্ন লটারির মাধ্যমে যুবতীদের বণ্টনের রীতি ফন্সান্স সরকার ১৭৭৬ সালে নিষিদ্ধ করেছিল। ক্রমান্বয়ে এটি ইতালি, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি ও জার্মানি থেকেও উঠে যায়। ইংল্যান্ডেও এক সময় এটি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আধুনিক সভ্যতার এ যুগে কুসংস্কারাচ্ছন্ন ভ্রান্ত বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত তথাকথিত প্রেমিক উৎসব চালু হলো কীভাবে? ইস্টার এ হল্যান্ড নামক এক চতুর কার্ড বিক্রেতা কোম্পানি প্রথম ভ্যালেন্টাইন নামে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে আমেরিকান ভ্যালেন্টাইন ডে কার্ড বানায় এবং প্রথম বছরই ৫০০০ ডলারের কার্ড বিক্রি হয়। পরে সুযোগসন্ধানী মিডিয়া কোম্পানির পৃষ্ঠপোষকতায় ভ্যালেন্টাইন ডে ফুলে-ফেঁপে ওঠে।
সুযোগসন্ধানী নীতিহীন ব্যবসায়ী ও সস্তা জনপ্রিয়তাকামী একশ্রেণির মিডিয়া ২৫০০ বছরের পুরনো লটারির মাধ্যমে যুবকদের মাঝে যুবতীদের বণ্টনের মতো একটি ঘৃণ্য রীতিকে ভালোবাসা দিবসের মোড়কে প্রেমিক-প্রেমিকার উৎসবে পরিণত করেছে। ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ সম্পর্কিত এসব অজানা তথ্য জানার পরও ইসলাম ধর্মের অনুসারী এবং বাংলাদেশী ঐতিহ্যে লালিত কোনো নারী কিংবা পুরুষ কি এই দিনে তার প্রিয়জন থেকে কোনো চিরকুট, প্রেমপত্র, লাল গোলাপ, ভ্যালেন্টাইন ডে কার্ড পাওয়ার প্রতীক্ষায় থাকবে? দূর হোক এ সব বেলেল্লাপনা।
রোমের যে স্খানে ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল, ৩৫০ সালে সেখানে তার স্মরণে একটি গির্জা নির্মাণ করা হয়। অবশেষে ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ধর্মগুরু পোপ গ্লসিয়াস ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ হিসেবে ঘোষণা করেন। ভ্যালেন্টাইন কারারক্ষীর যুবতী মেয়েকে ভালোবাসার কারণে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ধর্মগুরু পোপ গ্লসিয়াস ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ ঘোষণা করেননি। কারণ, খ্রিস্ট ধর্মে পুরোহিতদের জন্য বিয়ে করা বৈধ নয়। তাই পুরোহিত হয়ে মেয়ের প্রেমে আসক্তি খ্রিস্ট ধর্মমতে অনৈতিক কাজ। তা ছাড়া, ভালোবাসার কারণে ভ্যালেন্টাইনকে কারাগারে যেতে হয়নি। কারণ, তিনি কারারক্ষীর মেয়ের প্রেমে পড়েছিলেন কারাগারে যাওয়ার পর। সুতরাং, ভ্যালেন্টাইনকে কারাগারে নিক্ষেপ ও মৃত্যুদণ্ডদানের সাথে ভালোবাসার কোনো সম্পর্ক ছিল না। তাই ভ্যালেন্টাইনের কথিত ভালোবাসা সেন্ট ভ্যালেন্টাইন ডে’র মূল বিষয় ছিল না। বরং ধর্মের প্রতি গভীর ভালোবাসাই তার মৃত্যুদণ্ডের কারণ ছিল।
খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের একটি ধর্মীয় উৎসব কীভাবে প্রেমিকা-প্রেমিকদের উৎসবে পরিণত হলো এটা জানার জন্য আমাদের প্রাচীন রোমান পৌত্তলিক ধর্মীয় উৎসব ‘লুপারকেলিয়া’ সম্পর্কে জানতে হবে। ১৪ ফেব্রুয়ারি খ্রিস্টান সম্প্রদায় কর্র্তৃক ভ্যালেন্টাইন ডে হিসেবে ঘোষণার আগে এ দিনটি পৌত্তলিক ধর্মীয় উৎসব হিসেবে পালিত হতো। তখন তারা ফেব্রুয়ারি মাসের ১৩ থেকে ১৫ তারিখ পর্যন্ত লুপারকেলিয়া উৎসব পালন করতো।
এ দিনে রোমানদের আরেকটি উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি ছিল, প্রেমের দেবী জুনুর আশীর্বাদ কামনায় যুবকদের মধ্যে যুবতীদের বণ্টনের জন্য লটারির আয়োজন। তারা যুবতী মেয়েদের নাম লিখে একটি বাক্সে রাখতো এবং লটারির মাধ্যমে যুবকরা এসে নাম তুলতো। লটারিতে যার সাথে যার নাম উঠতো এক বছরের জন্য তারা লিভ টুগেদার করত। এ ধরনের নানা অনৈতিকতা, কুসংস্কার ও ভ্রান্ত বিশ্বাসে আচ্ছন্ন লটারির মাধ্যমে যুবতীদের বণ্টনের রীতি ফন্সান্স সরকার ১৭৭৬ সালে নিষিদ্ধ করেছিল। ক্রমান্বয়ে এটি ইতালি, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি ও জার্মানি থেকেও উঠে যায়। ইংল্যান্ডেও এক সময় এটি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আধুনিক সভ্যতার এ যুগে কুসংস্কারাচ্ছন্ন ভ্রান্ত বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত তথাকথিত প্রেমিক উৎসব চালু হলো কীভাবে? ইস্টার এ হল্যান্ড নামক এক চতুর কার্ড বিক্রেতা কোম্পানি প্রথম ভ্যালেন্টাইন নামে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে আমেরিকান ভ্যালেন্টাইন ডে কার্ড বানায় এবং প্রথম বছরই ৫০০০ ডলারের কার্ড বিক্রি হয়। পরে সুযোগসন্ধানী মিডিয়া কোম্পানির পৃষ্ঠপোষকতায় ভ্যালেন্টাইন ডে ফুলে-ফেঁপে ওঠে।
সুযোগসন্ধানী নীতিহীন ব্যবসায়ী ও সস্তা জনপ্রিয়তাকামী একশ্রেণির মিডিয়া ২৫০০ বছরের পুরনো লটারির মাধ্যমে যুবকদের মাঝে যুবতীদের বণ্টনের মতো একটি ঘৃণ্য রীতিকে ভালোবাসা দিবসের মোড়কে প্রেমিক-প্রেমিকার উৎসবে পরিণত করেছে। ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ সম্পর্কিত এসব অজানা তথ্য জানার পরও ইসলাম ধর্মের অনুসারী এবং বাংলাদেশী ঐতিহ্যে লালিত কোনো নারী কিংবা পুরুষ কি এই দিনে তার প্রিয়জন থেকে কোনো চিরকুট, প্রেমপত্র, লাল গোলাপ, ভ্যালেন্টাইন ডে কার্ড পাওয়ার প্রতীক্ষায় থাকবে? দূর হোক এ সব বেলেল্লাপনা।
ইদানীং তথাকথিত বিশ্ব ভালোবাসা দিবস এলেই বাংলাদেশের যুবক-যুবতীরা অশ্লীলতায় মেতে ওঠে। অনেকেই এ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে একে অপরের হাত ধরে পালিয়ে যায়। পারিবারিক ও সামাজিক মর্যাদার মুখে যারা চুন-কালি লেপন করে ভালোবাসা দিবসকে স্মরণীয় করছো তাদেরকে ধিক জানাই।
আমার ভালোবাসা দিবসের কর্মসূচি অন্য রকম। আমি সকালে স্কুলে যাই। সেখানে একটি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে মুন্সিগঞ্জে যাই। জেহালা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আসিরুল ইসলাম সেলিমের সাথে দেখা করে যাই বর্তমান চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম রোকনের সাথে দেখা করতে। পরে মা-বাবার জন্য আপেল, আঙ্গুর আর কমলা নিয়ে বাড়িতে যাই। মায়ের সাথে অনেক কথা হয়। তারপরে ফিরে আসি চুয়াডাঙ্গায়। আমার ভালোবাসা দিবস মা-বাবাকে নিয়ে তারপর আমার সন্তান ও স্ত্রী।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন