১৬ মার্চ ২০১২
০২ চৈত্র ১৪১৮
২২ রবিউস সানি ১৪৩৩
রোজ : শুক্রবার।
![]() |
| তামান্না ফ্যামিলি পার্ক চত্বরে দাঁড়ি হেলাল হোসেন জোয়ার্দ্দারের সাথে আমি আহাদ আলী মোল্লা |
তখনও ভোর। চারিদিকে ফরসা হয়নি। হঠাত মোবাইলটি বেজে উঠলো। স্ক্রিনে চোখ পড়তেই দেখলাম আমার সহধর্মিণী ফরিদা। ভাবলাম আমার খোঁজ নিতেই ফোন দিয়েছে। কিন্তু একটি দুঃসংবাদ শুনে মনটা খারাপ হয়ে গেল। আমার এক ভায়রা, অর্থাৎ ওর এক বড় বোনে নাসরিন আক্তারের স্বামী জাকির মারা গেছেন। ফরিদার বড় চাচার মেয়ে নাসরিন পেশায় একজন নার্স। তারা ঢাকার মধুবাগ এলাকায় বসবাস করেন। ওখানে আমিও গিয়েছি। জাকির হোসেন খুব আন্তরিক একজন মানুষ ছিলেন। তবে তার সাথে আমার বেশ কয়েক বছর দেখা হয়নি। ঢাকায় গেলেও ওখানে যাওয়া জোটেনি। শুনলাম ফরিদারাও একটি মাইক্রোবাসে ঢাকায় আসছে।
সকালে ঢাকার গাবতলী এলাকায় পৌঁছুলাম। ওখান থেকে একটি রিকশাযোগে মিরপুরের তামান্না পার্কে গেলাম। ওখানে আমাদের চুয়াডাঙ্গার বিশিষ্ট নার্সারি মালিক ও লেখক হেলাল হোসেন জোয়ার্দ্দার আছেন বাগান সাজানো গোছানোর বুদ্ধিদাতা হিসেবে। উনি বারবার ওখানে যাওয়ার জন্য বলেন। আজ সুযোগ যায়। ভাবলাম ওনার ওখানে গিয়ে গোসল সেরে একটু ঝরঝরে হয়ে বেরুনো যাবে।
সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে তামান্না পার্কে পৌঁছে গেলাম। খুবই চমৎকার একটি জায়গা। দেখে বিমহিত হলাম। ওখানে হেলাল হোসেন জোয়ার্দ্দার আমাকে খুব আদরের সাথে গ্রহণ করলেন। গোসল ও নাস্তা সেরে নিলাম ওখান থেকে। এরপর হেলাল হোসেন জোয়ার্দ্দারও আমার সাথে বেরুলেন। আমরা সোজা চলে গেলাম ঢাকার সদরঘাট এলাকায়। ওখান থেকে একটু পায়ে হেঁটে বাংলা বাজার। বাংলা বাজারের গতিধারা প্রকাশনীতে গেলাম। ওখানে গিয়ে দেখি প্রকাশক সিকদার আবুল বাশার আছেন। আমার দুটো বই প্রকাশনার কাজ চলছে এখানে। সম্মানিত প্রকাশক সিকদার আবুল বাশার বই দুটির প্রুফ দেখালেন। একটু পরে সেখানে এলেন বিশিষ্ট লেখক কুষ্টিয়ার কৃতীসন্তান বিলু কবির। ওনার সাথে পরিচয় হলো। আমার প্রকাশিতব্য বই দুটি দেখলেন বিলু কবির।
হ্যামিলনের বাঁশিঅলা ও পাখপাখালির দেশ ছড়ার বই দুটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আমরা দুটোর দিকে ওখান থেকে বেরিয়ে খাওয়া দাওয়া সেরে যার যার গন্তব্যে রওনা দিলাম। আমি সোজা চলে এলাম গাবতলী। বেলা সাড়ে ৩টার পূর্বাশা পরিবহনের টিকেট নিয়ে চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশে রওনা দিলাম। আমার পাশে পেলাম অতি ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি আলমডাঙ্গা কান্তপুরের আফিল আজাদকে। ফলে জার্নিটা বেশ আনন্দের হলো। গল্প করতে করতে চুয়াডাঙ্গায় যখন পৌঁছুলাম তখন প্রায় রাত ১১টা।
.jpg)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন