মঙ্গলবার, ২৭ মার্চ, ২০১২

আদু ভাই

খাতায় আঁকে হিজিবিজি নির্বাচনী পরীক্ষায়

ডবল ডবল গোল্লা শুধু কান্তপুরের টরিক খায়

টরিক তাতেও ভীষণ খুশি আটখানা হয় আল্লাদেই

আম্মু শুনে ছেলের পাতে মোটা মাছের কাল্লা দেয়।


মাছের মুড়ো খেয়ে টরিক পাকা হবেন বুদ্ধিতে

রোজ সকালে হবে তাকে দু তিন গেলাস দুধ দিতে

না মুখে নেই, খাওয়ার বেলায় সত্যি সে খুব আন্তরিক

রোজ দুপুরে মাংস পোলাও ঘি মাখিয়ে খান টরিক।


এত খেয়েও হয় না মগজ মেজাজ থাকে অগ্নিবীণা

টরিককে তাও পিয়ার করে তার মামাতো ভগ্নি বীনা

বীনার কথা টরিক শোনে অক্ষরে সব অক্ষরে

অবশেষে টরিক-বীনা করলো বিয়ে শখ করে।


বছর ঘুরে এলো যখন তাদের বিয়ে বার্ষিকী

কী উপহার দেবে টরিক পুঁজি মোটে চার সিকি

তাই শুনে তো বীনা খেপে হলো বেজায় আপসেট

বাকি করে কিনলো টরিক চীনা মাটির কাপ সেট।


রাগে বীনার কপাল ঘামে সরে না আর অক্সিজেনও

চিন্তা করে অগার সাথে বিয়ে করেই ঠকছি যেন

পরের বছর ছেলে হলো টরিক হলেন আব্বুজি

এবার নাকি পাস হবে তার বলে বেড়ায় ভাব বুঝি।


এসএসসি পাস টার্গেটে সে চালিয়ে যায় অধ্যবসায়

সাত সতেরো যোগের বেলায় যোগফলে সে চৌদ্দ বসায়

সে বছরেরও ফেল কপালে নবার হলো গুনতিতে

সংসারে সে সবার কাছে উঠলো হয়ে নুন-তিতে।


বাপের খাবেন বসে বসে কাজের বেলায় অক্ষমতা

বউ ছেলেকে দেবে কিছু নেই সে মুরোদ শখ ক্ষমতা

গুনগুনিয়ে পড়েন কেতাব চর্চা রাখেন সমুন্নত

দিনে দিনে লেখাপড়ায় হলেন কি আর কম উন্নত।


ছেলেও এখন স্কুলে যায় বাপের সাথে শৈশবে

তাই দেখেতো বিদ্যালয়ে করে যে হইচই সবে

প্রতি বছর ফেল করে তার নাম পড়ে যায় আদু ভাই

যেবার টরিক এসএসসি পাস সেবার হলেন দাদু ভাই।

২১.১১.২০০৮
বনানীবাড়ি, কোর্টপাড়া, চুয়াডাঙ্গা।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন