আমি তখন অনেক ছোট এই তো সবে প্রাইমারিতে পড়ি
অ আ ক খ লেখালেখি, পড়াশোনার কেবল হাতেখড়ি
দশ পয়সা দিয়ে কিনে বর্ণমালার রঙিন ছবির বই
বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে আসার পথে করেছি হইচই।
তিন তিনটে গাঁ পেরিয়ে পাঠশালা সে তিন মাইলের পথ
হেঁটে হেঁটে ঘণ্টা কাবার যাই হাঁপিয়ে পা লাগে আলবত
ফেরার সময় মাঝ সড়কে তড়াং করে উঠেছি জাম গাছে
সহপাঠী বন্ধুরা তাই এসে হেসে জুটত আমার কাছে।
খুটে খুটে জাম খেয়েছে মজা করে আনন্দে খুব তারা
মাথার ওপর ভর করেছে দস্যিপনা ডানপিটে আশকারা
কারোর কথায় বাগ মানিনি ছিল মধুর ছন্নছাড়া দিন
বেবাগা মন বশ মানে না বেয়াড়া সে দুরন্ত রঙ্গীন।
ভর দুপুরের খাঁ খাঁ রোদে বটের ছায়ায় বসে গাঙের পার
জিরিয়ি নিতাম একটুখানি কাটত তাতেই ক্লান্তি ও মুখভার
আর কোনো দিন বৃষ্টি এলে বুকে ধরে ব্যাগ জামা বই খাতা
ঝোড়ের ভেতর থেকে ছিঁড়ে মাথায় দিতাম বুনো কচুর পাতা।
মা বকেছে পাগল ছেলে ভিজেটিজে জ্বর-জ্বালা হয় নাকি
রাগ করেছি, দাদি এসে মান ভাঙাতে করত ডাকাডাকি
সেসব আমার হারানো কাল ফেলে আসা মায়াবী দিন সব
পিছু ডাকে হাতছানি দেয় ঝলমলে সেই সোনালি শৈশব।
০৭.০২.২০১৩ খ্রি.
হাজিবাড়ি, মুক্তিপাড়া, চুয়াডাঙ্গা।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন